পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যেই ‘INDIA’ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস (DTC)। তবে জোটে যোগ দেওয়ার আগে একটি শর্তও দিয়েছে তারা। দলের চিফ হুইপ আখরুজ্জামানের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে INDIA জোটের বাইরে রাখা হলে তাঁদের দল বিরোধী জোটে যোগ দিতে প্রস্তুত।
আখরুজ্জামান কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই প্রস্তাব রাখার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের লড়াই যখন তীব্র হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিভিন্ন সময়ে জোটের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আখরুজ্জামানের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বিরোধী ঐক্য দুর্বল হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে INDIA জোটের নেতৃত্বকে এই বিষয়গুলি বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, মমতাকে জোট থেকে বাদ দেওয়া হলে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস সেই জোটকে শক্তিশালী করতে যোগ দিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, মমতা-সমর্থক তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ আখরুজ্জামানের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আখরুজ্জামান-সহ বহু নেতা রাজনৈতিকভাবে উঠে এসেছেন। ঋতব্রত শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং ওই গোষ্ঠীকে বিজেপি-সমর্থিত বলে অভিযোগ করেন।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ এখন নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। মমতা-শিবির ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ফুটবল প্লেয়ার প্রতীকে এবং ঋতব্রত শিবির ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে খাম প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছে।
SIR নিয়ে বিতর্ক এবং বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যেই ঋতব্রত শিবিরের এই প্রস্তাব নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা তৈরি করেছে। তবে মমতাকে বাদ দেওয়ার শর্তে INDIA জোটের নেতৃত্বের তরফে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।