বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশ-নেপালের থেকেও পিছিয়ে! এখনও ‘উদ্বেগজনক’ শ্রেণিতেই দেশ

বিশ্ব ক্ষুধা সূচক ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স’- আরও একবার ভারতের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার করুণ চিত্র সামনে এলো। আন্তর্জাতিক এই সূচকে ১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১০০ নম্বরে। ২৪.১ স্কোর নিয়ে....

বিশ্ব ক্ষুধা সূচক ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স’- আরও একবার ভারতের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার করুণ চিত্র সামনে এলো। আন্তর্জাতিক এই সূচকে ১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১০০ নম্বরে। ২৪.১ স্কোর নিয়ে দেশটি এখনও ক্ষুধার ‘গুরুতর’ বা উদ্বেগজনক ক্যাটাগরিতে রয়ে গেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা এ তালিকায় ভারতের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

জার্মান দাতব্য সংস্থা ‘ওয়েল্টহুঙ্গারহিলফে’ এবং আয়ারল্যান্ডের সংস্থা ‘কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ যৌথভাবে এই সূচক প্রস্তুত করেছে। চারটি প্রধান নির্দেশক—অপুষ্টি, শিশুদের উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন, বয়স অনুযায়ী কম উচ্চতা এবং শিশুমৃত্যু হারের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়।

প্রতিবেশীদের চেয়ে পিছিয়ে ভারত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা রয়েছে ৫৩ নম্বরে, নেপাল ৭২তম স্থানে এবং বাংলাদেশ রয়েছে ৮৪তম স্থানে। তবে পাকিস্তান (১০৬তম) ও আফগানিস্তানের (১০৮তম) অবস্থান ভারতের নিচে।

দক্ষিণ এশিয়ায় শিশু অপুষ্টিতে শীর্ষে ভারত!

প্রতিবেদনে ভারতের শিশু স্বাস্থ্যের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে:
* চাইল্ড ওয়েস্টিং (উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন): ভারতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ শতাংশে, যা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের পর্বে এই হার ছিল ১৬.৯ শতাংশ।
* চাইল্ড স্টান্টিং (বয়স অনুযায়ী কম উচ্চতা): দেশের ২৯.৩ শতাংশ শিশু বয়স অনুযায়ী যথাযথ শারীরিক বৃদ্ধির ঘাটতিতে ভুগছে।
* অপুষ্টির হার: দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯.৮ শতাংশ মানুষ এখনও পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত।

উন্নতির গতি খুবই ধীর

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতে ক্ষুধা দূরীকরণের গতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ভারতের জিএইচআই স্কোরের উন্নতি হয়েছিল ৮.২ পয়েন্ট। সেখানে ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের ব্যবধানে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১.৭ পয়েন্ট।

সংকট বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তন

প্রতিবেদনটিতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার অবনতির জন্য একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে-
১. যুদ্ধ ও সংঘাত: ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
২. খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি: ক্রমবর্ধমান দামের কারণে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারছে না কিংবা বহু ক্ষেত্রে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও এল নিনো: ভারতের অভ্যন্তরীণ কৃষিক্ষেত্রে ‘এল নিনো’র প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের প্রধান কৃষিবলয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি রয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ, যা খাদ্য উৎপাদনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।