এ আই য়ের অপব্যবহারে মৃত্যু হতে পারে ১০০ কোটি মানুষের! সতর্ক করলেন বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই সামনে আসছে তার সম্ভাব্য বিপদের প্রশ্ন। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, অসৎ উদ্দেশ্যে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হলে এমন ভয়াবহ ঘটনা....

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই সামনে আসছে তার সম্ভাব্য বিপদের প্রশ্ন। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, অসৎ উদ্দেশ্যে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হলে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে, যাতে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটিকে কোনও নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখেননি গেটস। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল এআইয়ের অপব্যবহারের সম্ভাবনা এবং তার পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজনীয়তা।

তাঁর মতে, শুধু প্রযুক্তি সংস্থাগুলির নিজস্ব নিয়ম যথেষ্ট নয়; সরকারের নজরদারি, আইন এবং নিরাপত্তা কাঠামোও প্রয়োজন। কারণ এআই ইতিমধ্যেই তথ্য বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার তৈরি, গবেষণা এবং বহু জটিল কাজ করতে সক্ষম। ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা আরও বাড়লে অসৎ হাতে তার অপব্যবহার বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কিন্তু এই আশঙ্কার বাস্তব সম্ভাবনা বা সময়সীমা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনও কোনও সর্বসম্মত হিসাব নেই।

—-

Bill Gates-এর সাম্প্রতিক সতর্কবার্তাকে ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গেটস এমন একটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন, যেখানে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এমন ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিতে পারে যাতে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তবে কথাটিকে সরাসরি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখলে বিষয়টি ভুলভাবে বোঝা হবে। গেটস কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি, এমনও বলেননি যে এমন ঘটনা নিশ্চিতভাবেই ঘটবে। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল উন্নত এআই যদি অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছে যায়, তাহলে তার ক্ষমতা বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর মতো পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

গেটসের আশঙ্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল প্রযুক্তি নয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের খারাপ উদ্দেশ্য এবং অত্যাধুনিক এআইয়ের ক্ষমতা একসঙ্গে মিলে গেলে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এআই ইতিমধ্যেই তথ্য বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার তৈরি, গবেষণা, স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন জটিল কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারছে। ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেলে একই প্রযুক্তি অপরাধ, সাইবার হামলা, জীববৈজ্ঞানিক গবেষণার অপব্যবহার কিংবা অন্য কোনও বৃহৎ মাত্রার ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। গেটসের আশঙ্কা মূলত সেই সম্ভাবনাকে ঘিরেই।

এই কারণে তিনি শুধু প্রযুক্তি সংস্থাগুলির নিজেদের নিয়মে চলার উপর নির্ভর করতে চাইছেন না। তাঁর বক্তব্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও আলোচনায় যুক্ত হতে হবে। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, কোন পরিস্থিতিতে নজরদারি প্রয়োজন হবে এবং বিপজ্জনক ক্ষমতা তৈরি হলে কীভাবে তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর আগেই তৈরি করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে সরকারি নজরদারি এবং আইনভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। গেটস দীর্ঘদিন প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হলেও ২০২৬ সালে তাঁর বক্তব্যে সতর্কতার মাত্রা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। আগস্টে প্রকাশিত তাঁর একটি লেখায় তিনি বলেছিলেন, এআই এমন একটি প্রযুক্তি যার প্রভাব ইতিহাসের প্রায় যেকোনও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের তুলনায় বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কর্মসংস্থান, সাইবার নিরাপত্তা, জীববিজ্ঞান এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআই ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি যদি সমাজ ও সরকারের প্রস্তুতির তুলনায় অনেক বেশি হয়, তাহলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এআই নিয়ে এই ভয় অবশ্য শুধু গেটসের বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি শিল্পের একাধিক ব্যক্তিত্বও উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে উন্নত মডেলগুলি যত বেশি স্বয়ংক্রিয় এবং শক্তিশালী হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে—কোন পর্যায়ে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য হবে। কিছু গবেষক আবার অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানুষের অস্তিত্বের জন্য চরম বিপদ তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে এসব সম্ভাবনার নির্দিষ্ট মাত্রা, সময়সীমা বা বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কোনও সর্বসম্মত হিসাব নেই।

তাই “এআই ১০০ কোটি মানুষকে মেরে ফেলবে”—এই কথাটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। গেটস যে কথাটি বলেছেন, তার অর্থ হল উন্নত এআইয়ের ক্ষমতা এতটাই বাড়তে পারে যে মানুষের অসৎ ব্যবহার তার মাধ্যমে এমন বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম হতে পারে, যার প্রাণহানি ১০০ কোটিতেও পৌঁছতে পারে। বর্তমানে এটি একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়। আর সেই কারণেই তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্নটি এআই পৃথিবীকে ধ্বংস করবে কি না নয়; বরং প্রযুক্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার আগেই মানুষ তার অপব্যবহার ঠেকানোর মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে কি না।