পৃথিবীর প্রথম মানুষ ছিলেন আদিপিতা হজরত আদম আলাইহিস সালাম। তার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে মানবজাতির বিস্তার ঘটিয়েছেন, একইসঙ্গে মানুষকে হেদায়েতের জন্য আদিপিতাকে নবুওয়ত দিয়েছিলেন আল্লাহ তায়ালা। এরপর প্রতি যুগে সব মানুষের জন্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নবুওয়তের এই ধারাবাহিকতা শেষ হয়েছে প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে।
অনেক নবী আরব অঞ্চলের ছিলেন। তাই অনেকের মনে ধারণা হতে পারে প্রায় সব নবীই সম্ভবত আরব বা আরবি ভাষী ছিলেন। কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এমন কোনো জাতি ছিল না যাদের কাছে কোনো নবী বা সতর্ককারী পাঠানো হয়নি। আল্লাহ তাযালা বলেন, প্রত্যেক জাতির মধ্যেই অতীতে একজন সতর্ককারী এসেছেন। (সুরা ফাতির, আয়াত: ২৪)
অন্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, প্রত্যেক জাতির জন্য একজন পথপ্রদর্শক রয়েছেন। (সুরা রাদ, আয়াত: ৭)
আল্লাহ আরও বলেন, আমি আপনার আগে অনেক রাসুল পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে কারও কাহিনি আমি আপনার কাছে বর্ণনা করেছি এবং কারও কাহিনি বর্ণনা করিনি। (সুরা গাফির, আয়াত: ৭৮)
উপরের আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে বিভিন্ন সময়ে নবী-রাসুল পাঠানো হয়েছে। তারা শুধু আরব অঞ্চলে আসেননি।
তবে কারো কারো মনের এমন ধারণার কারণ হলো, কোরআনে যে ২৫জন নবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই এমন একটি অঞ্চলে এসেছেন, যার মধ্যে আরব উপদ্বীপ ও এর আশপাশের এলাকা অন্তর্ভুক্ত।
কোরআনে বর্ণিত এ ২৫ জন নবীর মধ্যে শুধু ৪জন নবী আরবের। হজরত আবু জর গিফারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, চারজন আরবের। তারা হলেন, হজরত হুদ (আ.), হজরত শুয়াইব (আ.), হজরত সালেহ (আ.), এবং তোমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৩৬১)
এর বাইরে বাকী নবীগণ মিশর, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লেবাননসহ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের ছিলেন। যেমন, আদম (আ.) এবং হজরত ইবরাহীম (আ.) ভারতেও আগমন করেছিলেন।
তাই সব নবী শুধু আরবে আগমণ করেছেন এমন ধারণা সঠিক নয়।