তদন্ত সংস্থার জেরার মুখে রিজওয়ান ও ইমাম

ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথেই দল থেকে বাদ পড়ে দেশে ফিরে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন পাকিস্তানের দুই তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক। দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) তলবে জেরার মুখোমুখি....

ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথেই দল থেকে বাদ পড়ে দেশে ফিরে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন পাকিস্তানের দুই তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক। দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) তলবে জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। ইতোমধ্যে লাহোরে সংস্থাটির কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এই দুই ক্রিকেটারকে।

সম্প্রতি লর্ডস টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর টেস্ট স্কোয়াড থেকে হঠাৎ করেই সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই দলে ছিলেন উইকেটকিপার ব্যাটার রিজওয়ান ও ওপেনার ইমাম। আর দেশে পা রাখার পরপরই এই দুজনকে ডেকে পাঠায় সাইবার ক্রাইম এজেন্সি। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই বৃহস্পতিবার সংস্থাটির দপ্তরে হাজিরা দেন তারা।

ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে অন্তত একজন ক্রিকেটারকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ওই ক্রিকেটারকে একটি লিখিত প্রশ্নপত্রও দেওয়া হয়েছে। সেই প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর লিখে আগামী সপ্তাহের মধ্যে এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দিতে হবে তাকে।

তবে ঠিক কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই দুই ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এমনকি এই তদন্তের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অভ্যন্তরীণ কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নিজেদের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছিল পিসিবি। যদিও তখন কোনো ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করেনি বোর্ড। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল, দলের খেলোয়াড়দের ‘শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন’ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার পর এই তদন্ত শুরু হয়েছে। পিসিবির অভ্যন্তরীণ বিধিমালা মেনেই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছিল।

চলতি ইংল্যান্ড সফরে ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। চার ইনিংসে তার সংগ্রহ যথাক্রমে ১২, ৪১, ৭ ও ১ রান। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও তার ব্যাট ছিল নিষ্প্রভ। যদিও দুই সিরিজেই উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দারুণ সব ক্যাচ ও স্টাম্পিং করে নিজের দায়িত্ব ঠিকই পালন করেছিলেন তিনি। তবে লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১ রান করে যেভাবে তিনি শট খেলে আউট হয়েছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছিল।

অন্যদিকে, লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনেই বাঁ পায়ের পেশিতে গ্রেড-১ চোট পেয়েছিলেন ইমাম-উল-হক। যে কারণে ম্যাচের দুই ইনিংসেই তিনি ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। তবে শেষ দিনের সকালে ম্যাচ শুরুর আগে তাকে যখন হালকা ওয়ার্ম-আপ ও নকডাউন অনুশীলন করতে দেখা যায়, তখন থেকেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

ইমামের এই ইনজুরিকে অনেকে ‘অভিনয়’ বলেও আখ্যা দেন। এমনকি পিসিবির প্রধান নির্বাচক ও হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ প্রকাশ্যেই এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তদন্তের কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে লর্ডস টেস্টে ইনিংস ও ১৯৪ রানে হারের পর দলের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টেও বড় ধরনের রদবদল আনে পিসিবি। বরখাস্ত করা হয় প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে।