সায়নী ঘটক
তবে কি তিনি গানবাজনা ছেড়ে ফ্যাশনে মন দিলেন? মোনালি ঠাকুর সম্পর্কে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে সম্প্রতি। এর কারণ হল, শিগগিরই নিজের ফ্যাশন লেবেল ‘ঠাকুরাইন’-এর একটি প্রদর্শনী এ শহরে করতে চলেছেন গায়িকা। তারই প্রচারে ব্যস্ত মোনালি। তবে তার মানে গানবাজনা থেকে দূরে চলে যাওয়া মোটেই নয়। মোনালি শুনেই বললেন, “মাথা খারাপ নাকি! সেটা কি হতে পারে? সমাজমাধ্যমে অনেকে এটা নিয়ে বলাবলি করছে দেখলাম। তার জবাব দিতে একটা ভিডিয়ো বানিয়েও পোস্ট করিনি। ভাবলাম, এই ধরনের মানসিকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। তার চেয়ে কাজটাই করি।”
নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড অনেক দিনই তৈরি করেছেন মোনালি। এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে, দেশীয় কারিগরদের সঙ্গে কাজ করে তিল তিল করে গড়ে তুলছেন নিজেদের সংগ্রহ। এর পাশাপাশি চলছে নিজের গানবাজনাও। সময় পাচ্ছেন কী ভাবে? “পোশাকশিল্পের প্রতি একটা টান বরাবরই ছিল। নিজেও সব সময়ে পোশাক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে থাকি। বিদেশে আমার বাড়ি থেকে প্যারিস কয়েক ঘণ্টার রাস্তা। সে দেশে মানুষ শিল্পীদের কদর করেন বলেই ফ্যাশন ওই উচ্চতায় পৌঁছেছে। আর আমাদের দেশ এত সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও শিল্পীরা ধুঁকছেন… এটা ভাবলেই আমার খুব কষ্ট হয়। তাই গানবাজনা, ওয়ার্কআউট আর ঘুম বাদ দিয়ে যেটুকু সময় পাই, সেই সময়ে নিজের এই প্যাশনটা নিয়ে কাজ করতে চাই। এটা আমার জন্য থেরাপিউটিকও,” বললেন মোনালি। কাজের জগৎ ও ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে তাঁর এই প্যাশন, অকপটে স্বীকার করলেন গায়িকা।
এখন মুম্বই এবং সুইৎজ়ারল্যান্ড— এই দু’জায়গাতেই মূলত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে থাকেন মোনালি। মুম্বই গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাঙালি শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম অরিজিৎ সিংহ এবং প্রীতম সম্প্রতি প্লেব্যাকের দুনিয়া থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। মোনালি এ প্রসঙ্গে জানালেন, তিনি এই সিদ্ধান্ত বহু দিন আগেই নিয়েছেন। “ছোটবেলায় প্লেব্যাক সিঙ্গার হওয়াটাই লক্ষ্য ছিল। পরে বুঝলাম, সেটা আসলে অন্যের সাজিয়ে দেওয়া দুনিয়া। শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ কী ভাবে করব? যে কোনও মিউজ়িক চার্টের সেরা জায়গা কিন্তু সব সময়েই ইন্ডিপেন্ডেন্ট গানের দখলে। সেটাই কিন্তু মেনস্ট্রিম মিউজ়িক হওয়া উচিত, ফিল্মি গান নয়। এই জায়গাটা ধীরে ধীরে এ দেশে তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কোল্যাবরেশন বাড়ছে। কনসার্ট কালচার বাড়ছে। মানুষ আগে বিদেশে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরত, সেটা এখন এ দেশেও পাওয়া যাচ্ছে।” মোনালি জানালেন, বিদেশে রিহানার শো দেখে এক সময়ে মাথা ঘুরে গিয়েছিল তাঁর। এ দেশেও সেই মাপের কনসার্ট করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর নিজের। “এখন এ দেশের মানুষও লক্ষ টাকার টিকিট কাটেন ওই লাইভ পারফরম্যান্সের অভিজ্ঞতাটা পাওয়ার জন্য,” বললেন তিনি।

তবে বাংলায় গানের স্ট্রিমিং নিয়ে অভিযোগ রয়েছে গায়িকার। তাঁর ‘দুগ্গা এলো’ হিট হওয়া সত্ত্বেও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তেমন উপরে উঠতে পারেনি বলে মনখারাপ করলেন মোনালি। “গানের স্ট্রিমিং না হলে তো ব্যবসায়িক লাভ আসে না। বাংলা ইন্ডাস্ট্রি এখনও পুরনো চিন্তাভাবনা নিয়ে পড়ে আছে,” আক্ষেপ গায়িকার। তবে এ বারও তাঁর পুজোর নতুন গান আসছে। আকাশদীপ সেনগুপ্তের কম্পোজ়িশনে এই গানটির কাজ এখন শেষ মুহূর্তে। এ ছাড়া ‘ম্যায় বাওরি’ নামে একটি সিঙ্গলও রিলিজ় করতে চলেছে তাঁর।