সাজিদ আহসান
ভারতের রাজনীতিতে ছাত্র আন্দোলন নতুন কোনো ঘটনা নয়। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি প্রজন্মেই এমন কিছু ছাত্রনেতা উঠে এসেছেন, যাঁরা পরবর্তীকালে শুধু একটি সংগঠনের মুখ হয়ে থাকেননি—একটি সময়ের রাজনৈতিক ভাষা ও অস্থিরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
এই মুহূর্তে ভারতের ছাত্র ও যুব আন্দোলনের রাজনীতিতে তেমনই একটি আলোচিত নাম—নেহা বোরা।
মাত্র ২৯ বছর বয়সেই নেহা বরা এখন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা AISA-র জাতীয় সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের School of Arts and Aesthetics-এর Theatre and Performance Studies-এর পিএইচডি গবেষক। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং ড. বি. আর. আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় দিল্লি থেকে মাস্টার্স করার পর তাঁর গবেষণার জগৎ আর ছাত্ররাজনীতির জগৎ পাশাপাশি এগিয়েছে।
কিন্তু নেহা বোরার গল্প কেবল একজন বামপন্থী ছাত্রনেত্রীর রাজনৈতিক উত্থানের গল্প নয়। এর মধ্যে আছে একটি সেনা পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠা, ছোটবেলায় এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরে বেড়ানো, উত্তরাখণ্ড থেকে উত্তরবঙ্গ, তারপর দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয় জীবন—এবং শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীত একটি মতাদর্শকে নিজের করে নেওয়ার গল্প।
সেনা পরিবারের মেয়ে, কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক পথ
নেহা বোরার জন্ম উত্তরাখণ্ডের খটিমায়। তাঁর বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাবার পোস্টিংয়ের কারণে শৈশব কেটেছে একাধিক শহরে; উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতেও তাঁর পড়াশোনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। পরবর্তীকালে সাক্ষাৎকারে নেহা নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান তাঁর নিজের রাজনৈতিক চিন্তার সঙ্গে মেলে না।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর পরিবারকে BJP-সমর্থক মধ্যবিত্ত পরিবার হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক বোঝাপড়া পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে অনেকটাই আলাদা।
এই জায়গাটিই নেহা বোরার রাজনৈতিক যাত্রার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলোর একটি।
কারণ রাজনীতিতে মতাদর্শ বেছে নেওয়া সহজ নয়—বিশেষ করে যখন সেই মতাদর্শ নিজের পরিবার বা পরিচিত সামাজিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে মেলে না।
নেহা সেই ভিন্ন পথটিই বেছে নিয়েছেন।
থিয়েটার থেকে ছাত্ররাজনীতি
নেহা বোরার পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো থিয়েটার।
Theatre and Performance Studies নিয়ে তাঁর গবেষণা এবং থিয়েটারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের ধরনেও প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মঞ্চ, পথনাটিকা এবং সামাজিক বিষয় নিয়ে সাংস্কৃতিক কাজের মধ্য দিয়েই তাঁর জনপরিসরে কথা বলার দক্ষতা তৈরি হয়।
অর্থাৎ, তাঁর রাজনৈতিক ভাষা শুধুমাত্র দলীয় স্লোগানের ভাষা নয়; তার মধ্যে রয়েছে অভিনয়, বক্তব্য, শরীরী ভাষা এবং জনসমক্ষে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি আলাদা ক্ষমতা।
ছাত্রজীবনেই তিনি AISA-র সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীকালে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করতে করতে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
আজ তিনি সেই সংগঠনের জাতীয় সভাপতি।
২৩ দিনের অনশন: যে ঘটনা বদলে দিল পরিচিতি
২০২৬ সালের মাঝামাঝি দিল্লির জন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলন নেহা বোরাকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করে দেয়।
পরীক্ষার অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ এবং জবাবদিহির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি অন্যতম দৃশ্যমান মুখ হয়ে ওঠেন। সেই আন্দোলনে তিনি ২৩ দিন অনশন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্য ছাত্রনেতারা এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। দীর্ঘ অনশনের পর তাঁর শারীরিক দুর্বলতার খবরও প্রকাশ্যে আসে।
সেই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে—অনশনরত নেহার কাছে গিয়ে অভিনেত্রী শাবানা আজমি তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন এবং পরে অনশন ভাঙানোর মুহূর্তেও তাঁকে দেখা যায়।
সেখান থেকেই নেহা বোরার মুখটি আর শুধু ছাত্ররাজনীতির পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, বক্তৃতা ও আন্দোলনের ছবি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
NEET থেকে NTA—আন্দোলনের পরিধি আরও বড়
নেহা বোরার নেতৃত্বে AISA শুধু একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষার অনিয়মের প্রশ্নে আটকে থাকেনি।
তাঁরা জাতীয় স্তরে National Testing Agency বা NTA বাতিল, NEP 2020 প্রত্যাহার, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, বেকারত্ব এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি তুলেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় AISA শুরু করে ‘Gen-Z Rising’ নামে দেশব্যাপী কর্মসূচি। নেহা বোরাকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র ও যুবদের সঙ্গে সভা, মিছিল এবং রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয়। কলকাতা, রাঁচি, জয়পুর, হায়দরাবাদ, বিজয়ওয়াড়া, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, মুম্বই, পুনে, নাগপুরসহ একাধিক শহরে তিনি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পরবর্তীতে উত্তরপ্রদেশেও ‘Gen-Z Mahajutan Yatra’-র মাধ্যমে শিক্ষা, চাকরি, নিয়োগ পরীক্ষা, বৃত্তি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো এবং যুবদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্দোলনের ডাক দেন।
ঝাড়খণ্ডে কালির আক্রমণ
নেহা বোরার রাজনৈতিক উত্থানের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে।
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়ম এবং JPSC ও JSSC পরীক্ষাকে ঘিরে ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দিতে তিনি রাঁচিতে যান। মিছিল যখন ঝাড়খণ্ড বিধানসভার দিকে এগোচ্ছিল, তখন তাঁর দিকে কালো কালি ছোড়া হয়। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে; পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং আদালত থেকে জামিনও মেলে।
নেহা ঘটনাটিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল—কালি ছুড়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।
ঘটনাটি তাঁকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে।
একজন তরুণী ছাত্রনেত্রীর মুখে কালি ছোড়ার সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওমর খালিদ, শারজিল ইমাম এবং ‘রাজনৈতিক বন্দি’ প্রশ্ন
নেহা বোরার রাজনৈতিক অবস্থানের সবচেয়ে বিতর্কিত ও আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো ওমর খালিদ ও শারজিল ইমামের মতো কারাবন্দি ছাত্র-অ্যাক্টিভিস্টদের বিষয়ে তাঁর অবস্থান।
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তাঁর সংগঠন রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পক্ষে এবং ওমর খালিদ ও শারজিল ইমামসহ anti-CAA আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বন্দিদের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্নকে সামনে রাখা উচিত।
তাঁর যুক্তি—কোনও মানুষকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচার বা গণমাধ্যমের বিচারের মাধ্যমে অপরাধী ঘোষণা করা উচিত নয়; বিচারব্যবস্থার নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত হওয়া উচিত।
এই অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে একদিকে সমর্থন, অন্যদিকে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এবার প্রশ্ন শুধু শিক্ষা নয়—ভোটাধিকারও
নেহা বোরার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক যাত্রার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত এখানেই।
ছাত্র আন্দোলন থেকে তাঁর বক্তব্য এখন পৌঁছে গেছে নির্বাচন, ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে।
২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে দিল্লির জন্তর মন্তরে Chief Election Commissioner জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেহা বরা অন্যতম দৃশ্যমান মুখ হয়ে ওঠেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগের কেন্দ্র ছিল ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR এবং বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই প্রক্রিয়াকে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
২ অক্টোবরের বিক্ষোভে নেহা বোরাসহ প্রায় ৫০০ জনকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। পরদিনও তাঁকে আটক করা হয়। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই সংঘাত অব্যাহত ছিল এবং তৃতীয় দিনেও তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
অর্থাৎ, কয়েক মাস আগেও যাঁকে মূলত NEET ও ছাত্র আন্দোলনের মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, আজ তিনি ভারতের ভোটাধিকার ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে চলা এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের সামনের সারিতে।
‘জন্তর মন্তর ২.০’—নতুন অধ্যায়?
নেহা বরা ইতিমধ্যেই বলেছেন, ‘Jantar Mantar 2.0’ শেষ হয়নি; বরং শুরু হয়েছে।
আর আজ, ৭ অক্টোবর, তাঁর নেতৃত্বাধীন AISA এবং অন্যান্য ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন ফের ১০ অক্টোবর জন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছে। CJP-সহ বিভিন্ন সংগঠন এই আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে। মূল দাবি—CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং SIR-সহ নির্বাচনব্যবস্থার বিভিন্ন প্রশ্নে জবাবদিহি।
ফলে নেহা বোরার বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় আর শুধু ‘AISA নেত্রী’তে সীমাবদ্ধ নেই।
তিনি এখন এমন একটি আন্দোলনের অন্যতম মুখ, যেখানে ছাত্র, যুব, নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরের বিভিন্ন অংশ এক জায়গায় আসার চেষ্টা করছে।
মতাদর্শে তীব্র বিরোধিতা, তবু আলোচনার কেন্দ্রে
নেহা বোরার সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা প্রশ্ন।
তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে প্রবল বিতর্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন বহু মানুষ। তাঁর সমালোচকেরা তাঁকে অতিরিক্ত রাজনৈতিক, আদর্শগতভাবে কঠোর এবং বামপন্থী রাজনীতির একটি আক্রমণাত্মক মুখ হিসেবে দেখেন।
অন্যদিকে তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি এমন একজন তরুণী, যিনি নিজের নিরাপদ সামাজিক পরিসর থেকে বেরিয়ে এসে প্রশ্ন করতে শিখেছেন—শিক্ষা নিয়ে, চাকরি নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে, নাগরিক অধিকার নিয়ে এবং এখন ভোটাধিকার নিয়েও।
এই দুই বিপরীত মূল্যায়নের মাঝখানেই তৈরি হয়েছে নেহা বোরার বর্তমান পরিচিতি।
কেন নেহা বরা এত আলোচিত?
সম্ভবত কারণ তাঁর মধ্যে আজকের ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা একসঙ্গে এসে মিলেছে—
একদিকে উচ্চশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ।
অন্যদিকে পরীক্ষার অনিয়ম ও চাকরির অনিশ্চয়তা।
তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ, বেকারত্ব, রাজনৈতিক মেরুকরণ, নাগরিক অধিকার এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্ক।
আর সবকিছুর সামনে রয়েছে একজন ২৯ বছরের নারী—যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, থিয়েটারকর্মী, ছাত্রনেত্রী এবং এখন জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের দৃশ্যমান মুখ।
সম্ভবত এ কারণেই নেহা বোরাকে শুধু ‘বামপন্থী ছাত্রনেত্রী’ বলে ব্যাখ্যা করলে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক গুরুত্বকে পুরোপুরি বোঝা যায় না।
ইতিহাসের পাতায় জায়গা হবে কি?
ইতিহাস অবশ্য কাউকে আগেভাগে নায়ক বা খলনায়ক ঘোষণা করে না।
আজ যাঁকে কেউ সাহসী বলেন, অন্য কেউ তাঁকেই বিভাজনমূলক রাজনীতির প্রতিনিধি বলতে পারেন।
কেউ তাঁর বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পান। কেউ আবার মনে করেন, তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের মুখমাত্র।
কিন্তু একটি বিষয় অস্বীকার করা কঠিন—
নেহা বরা এখন আলোচনায় আছেন।
জন্তর মন্তরের ২৩ দিনের অনশন থেকে ঝাড়খণ্ডের কালির আক্রমণ, NTA ও NEP বিরোধী দেশব্যাপী প্রচার থেকে ওমর খালিদ-শারজিল ইমামের মুক্তির দাবি, আর সেখান থেকে অক্টোবরের জন্তর মন্তরে SIR ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন—মাত্র কয়েক মাসে তাঁর রাজনৈতিক দৃশ্যপট বিস্ময়করভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
রাজনীতির ইতিহাসে প্রতিটি প্রজন্মে এমন কিছু মুখ উঠে আসে, যারা শুধু একটি সংগঠনের পদাধিকারী হয়ে থাকেন না।
একসময় তাঁদের মুখের সঙ্গে জড়িয়ে যায় একটি সময়ের গল্প।
কেউ তাঁদের ভালোবাসে।
কেউ বিরোধিতা করে।
কেউ তাঁদের সাহস বলে মনে করে।
কেউ তাঁদের ভুলের প্রতীক বলে মনে করে।
তবু তাঁরা আলোচনায় থেকে যান।
কারণ ইতিহাসে সব মানুষকে মনে রাখা হয় না।
কিন্তু প্রতিটি প্রজন্মে এমন কিছু মানুষ উঠে আসে, যাদের মুখ একসময় শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় থাকে না—
সেই মুখ হয়ে ওঠে একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি।
আজকের ভারতীয় ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে নেহা বরা সেই রকমই একটি মুখ হয়ে উঠছেন—
সময়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।