প্রস্রাব ধরে রাখতে পারছেন না? কারণ ও করণীয় জেনে নিন

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। অর্থাৎ প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হোক বা না হোক, অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যেতে....

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। অর্থাৎ প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হোক বা না হোক, অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যেতে পারে।

যেকোনো বয়সেই এ সমস্যা হতে পারে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে। এতে ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম, যৌনস্বাস্থ্য, সামাজিক আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সুস্থতা ব্যাহত হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এর বেশির ভাগ কারণই চিকিৎসাযোগ্য।

 

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার ধরন

কাশি, হাঁচি, হাসি, ভারী কিছু তোলা, দৌড়ানো বা ব্যায়ামের সময় প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়াকে স্ট্রেস ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। সন্তান জন্মদানের পর নারীদের মধ্যে এবং প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের পর পুরুষদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের বেগ এলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাকে আর্জেন্সি ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। এটি সাধারণত অতিসক্রিয় মূত্রথলির সঙ্গে সম্পর্কিত। স্ট্রেস ও আর্জেন্সি—দুই ধরনের লক্ষণ একসঙ্গে থাকলে তাকে মিক্সড ইনকন্টিনেন্স বলা হয়।

মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হলে অতিরিক্ত প্রস্রাব জমে অল্প অল্প করে বের হতে পারে। একে ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বড় হয়ে মূত্রনালিতে বাধা সৃষ্টি করা এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আবার চলাফেরার সমস্যা, স্মৃতিশক্তি বা পরিবেশগত কারণে সময়মতো শৌচাগারে পৌঁছাতে না পারলেও প্রস্রাব বের হয়ে যেতে পারে। একটানা প্রস্রাব ঝরতে থাকলে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

 

নারীদের ক্ষেত্রে কারণ

গর্ভধারণ ও স্বাভাবিক প্রসবের সময় পেলভিক ফ্লোরের পেশি ও আশপাশের টিস্যু দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একাধিকবার সন্তান জন্মদান, প্রসবের সময় যন্ত্রের ব্যবহার এবং বেশি বয়সে মাতৃত্বের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়াও মূত্রথলি ও মূত্রনালির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া স্থূলতা, দীর্ঘদিনের কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পেলভিক অঙ্গ নিচে নেমে আসা, মূত্রনালির সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ, পেলভিক অঞ্চলের অস্ত্রোপচার ও কিছু ওষুধের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।