পলি রহমান
ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা গবেষণা এবং রোগীকেন্দ্রিক উন্নত চিকিৎসার গুরুত্ব নিয়ে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ‘হিলিং টুগেদার II’।শুক্রবার (২ অক্টোবর) লন্ডনের বাংলাদেশ সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, গবেষক, বিশেষজ্ঞ নার্স, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, রোগী ও কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

দিনব্যাপী আলোচনায় ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসার বর্তমান অগ্রগতি, রোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, গবেষণার ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়।‘গবেষণা, সচেতনতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসায় অগ্রগতি’—এই মূল বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী, চিকিৎসক, গবেষক ও কমিউনিটির মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়টি।প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন,
ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও রোগীর অভিজ্ঞতা, মানসিক সুস্থতা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে রোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় যুক্তরাজ্যের ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ব্যবস্থার বিষয়টিও উঠে আসে। জানানো হয়, ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী নারীদের নিয়মিত ব্রেস্ট স্ক্রিনিংয়ের জন্য NHS-এর পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
৭১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীরাও চাইলে নিজ উদ্যোগে প্রতি তিন বছর পরপর স্ক্রিনিং করাতে পারেন।তবে বক্তারা বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত স্ক্রিনিংয়ের অপেক্ষায় না থেকে ব্রেস্টে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন, গাঁট, আকৃতির পরিবর্তন, ত্বকে অস্বাভাবিকতা কিংবা অন্য কোনো উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ‘হিলিং টুগেদার’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের ফার্স্ট ভাইস চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সেন্টারের সেক্রেটারি তফজ্জুল মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন হাফসা নুর।অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক আলমনা চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন দ্য রয়্যাল মার্সডেন ও কিংস্টন হাসপাতালের মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা. মারিনা, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মেডিসিন অনুষদের গবেষক ডা. মেরি পারাসকেভাইদি এবং দ্য রয়্যাল মার্সডেনের রোগী ও জনসম্পৃক্ততা বিভাগের প্রধান ডা. মার্কেলা বুদিওনি।

এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন দ্য রয়্যাল মার্সডেনের ওষুধ উন্নয়ন ইউনিটের উন্নত চিকিৎসাসেবা বিষয়ক নার্স মেরি ভ্যান জিল, ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান গবেষণা নার্স অ্যান ক্রাউডাস, চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানী ইউওয়েই ঝাং, ব্রেস্ট ক্যান্সার নাও-এর জনস্বাস্থ্য, অন্তর্ভুক্তি ও সচেতনতা বিভাগের সহযোগী পরিচালক মানভীত বাসরা এবং অডিসি প্রজেক্ট লিমিটেডের ট্রাস্টি জর্জ চ্যান্ডলার।
প্যানেল আলোচনায় ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও পরিবারের মানসিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ, চিকিৎসা গবেষণায় রোগীদের অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগীর কণ্ঠস্বর এবং বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।বক্তারা বলেন, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রোগী ও তার পরিবার, চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগীদের জন্য আরও কার্যকর ও মানবিক চিকিৎসা-সহায়তা নিশ্চিত করতে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে ভুল ধারণা ও ভয় দূর করে মানুষকে সময়মতো চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করা, গবেষণার সঙ্গে রোগীদের সম্পৃক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের ‘হিলিং টুগেদার II’ আয়োজনের মাধ্যমে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হলো।