ইয়েমেনের সমুদ্র উপকূলে যেন বিদ্যুৎগতিতে আক্রমণ চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের টানা বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের একের পর এক আক্রমণের পরও হুথিরা যে কতটা শক্তিশালী, তা তারা নতুন করে প্রমাণ করল। শত্রুপক্ষকে পুরোপুরি দিশেহারা করে দিয়ে এই অঞ্চলে তারা নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।
এই জয়ের পেছনে ইরানের বড় সমর্থন রয়েছে। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিজস্ব সঙ্গীদের বিপর্যয়ের পর ইরান এখন হুথিদের পেছনে তাদের সব শক্তি ঢালছে। ফলে বিশ্বরাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরানে হামলা চালানোর সাত মাস পর, তেহরান এখন তার নিজের এবং বন্ধুদের মাধ্যমে বিশ্বের দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ পুরোপুরি দখলে নিয়ে নিয়েছে—একটি পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি, অন্যটি লোহিত সাগরের বাবেল-মানদেব। বিশ্বের ৩৫ শতাংশের বেশি জ্বালানি পরিবহন এখন এই পথের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের ময়দানে এটি প্রায় একটি পারমাণবিক বোমার সমান প্রভাব ফেলবে।
লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ উপকূল ও দ্বীপগুলো দখলে নেওয়ায় হুথিরা এখন যেকোনো সময় যেকোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের গতি আটকে দিতে পারবে। তারা দাবি করেছে যে সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের জাহাজ নিরাপদে যেতে পারবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের এই কথায় খুব একটা ভরসা করতে পারছে না।
এদিকে হুথিদের এই নতুন তাণ্ডবে সৌদি আরব বেশ ভয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, সৌদি আরবের মূল তেল পরিবহনের বিকল্প পাইপলাইনেও হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছেন না।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং সামনে আমেরিকার নির্বাচন, তাই ট্রাম্প চাইছেন কোনো সামরিক ঝামেলায় না গিয়ে নিজের দেশকে সুরক্ষিত রাখতে। সার্বিকভাবে ইয়েমেনের এই নতুন যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।