বয়স বাড়লে শরীরচর্চার গতি কমবে, হাঁটাচলায় আসবে অনীহা আসবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিয়মিত শারীরচর্চার অভ্যাস থাকলে বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়েও সক্রিয় থাকা সম্ভব। তারই উদাহরণ বলিউডের অভিনেতা ও পরিচালক রাকেশ রোশন। ৭৭ বছর বয়সেও তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যায়াম করেন। কিছুদিন আগে নিতম্বে চোট পাওয়ার পরেও থেমে থাকেননি। বরং শরীরের পরিস্থিতি বুঝে ব্যায়ামের ধরন বদলে নিয়েছেন। তাঁর প্রশিক্ষক সাজিদ খানের মতে, রাকেশের ফিটনেসের সবচেয়ে বড় রহস্য কোনও কঠিন ব্যায়াম বা বিশেষ ডায়েট নয়, বরং নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস।
রাকেশ রোশনের প্রশিক্ষক সাজিদ খান জানিয়েছেন, সকাল ৯টা থেকে শারীরচর্চা শুরু করেন রাকেশ। সপ্তাহে পাঁচ দিনের মধ্যে তিন দিন ভারোত্তোলনের ব্যায়াম, অন্য দু’দিন দেহের ভারসাম্য, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যায়াম এবং কার্ডিয়ো করেন। বাকি দু’দিন তিনি বিশ্রাম নেন। চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়া এখনও চলছে। তবে রাকেশ প্রায় ৮০ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এই পরিস্থিতিতেও তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যায়াম করেন, প্রতিদিন হাঁটেন এবং সম্ভব হলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করেন। চোটের কারণে শরীরের একটি অংশে ব্যায়াম করা সম্ভব না হলে তিনি অন্য অংশের ব্যায়ামে মন দেন। প্রশিক্ষকের কথায়, কোনও একটি ব্যায়াম করা যাচ্ছে না বলে গোটা অনুশীলন বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষপাতী নন রাকেশ। শরীরের অবস্থা বুঝে বিকল্প খুঁজে নেন তিনি।
শারীরচর্চা মানেই প্রতিদিন একই ধরনের ব্যায়াম করা বা ভারী ভারী ওজন তোলা নয়। চোট বা শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা বদলানো প্রয়োজন। রাকেশের অনুশীলনের ধরন প্রতি দু’মাস অন্তর পাল্টানো হয়। তবে কোন ব্যায়াম নিরাপদ, তা চিকিৎসক বা ফিজ়িয়োথেরাপিস্টের পরামর্শ মেনেই ঠিক করা উচিত।
রাকেশের খাদ্যাভ্যাসও বেশ সাধারণ। প্রশিক্ষক জানিয়েছেন, বিশেষ কোনও কেতাদুরস্ত খাদ্যতালিকা অনুসরণ করেন না তিনি। বরং বাড়িতে তৈরি সুষম খাবারই তাঁর ভরসা। শারীরচর্চার সময়ে তিনি প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্ট খান। ব্যায়ামের পরে খান এক স্কুপ প্রোটিন পাউডার। প্রায় এক ঘণ্টা পরে প্রাতরাশে থাকে ৪-৫টি গোটা ডিম। দুপুর ও রাতের খাবারে সাধারণত থাকে সব্জি, প্রায় ১০০ গ্রাম ভাত, ১৫০–২০০ গ্রাম গ্রিল করা মুরগির মাংস এবং স্যালাড। ভাজাভুজি, জাঙ্ক ফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলেন তিনি।