কাজী খায়রুল আনাম
‘উদার আকাশ’ প্রকাশন সংস্থা থেকে প্রকাশিত ‘মোস্তাক হোসেন : জীবন ও ঐতিহ্য’ গবেষণামূলক গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন কবি ফারুক আহমেদ। সাহিত্য সংস্কৃতির সেবায় এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক কাজ। গ্রন্থটির আকার বলছে তাঁর নিরলস পরিশ্রমের ফল এই গ্রন্থ। গ্রন্থটি ইতিমধ্যেই গুণীজনদের উচ্চ প্রশংসা লাভ করেছে। হাতে গেছে অনেক বিদগ্ধজনের। তালিকা দীর্ঘ তথাপি উল্লেখযোগ্য নামগুলির উল্লেখ জরুরি। যেমন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন, প্রসার ভারতীর প্রাক্তন অধিকর্তা জহর সরকার, ঐতিহাসিক ড. সুগত বসু, সাহিত্যিক পবিত্র সরকার, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, নাট্যব্যক্তিত্ব ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কবি জয় গোস্বামী প্রমুখ। গ্রন্থটি শুধু ইতিহাস সৃষ্টি করেনি, ইতিহাস সৃষ্টির উপাদান হিসাবে সমাদৃত হবে, আশা করা যায়।
সাতশো কুড়ি পৃষ্ঠার এই সম্পাদিত সংকলনে ১১৭ জন লেখকের মূল্যবান মূল্যায়ন রয়েছে। রয়েছে মানবদরদি মোস্তাক হোসেনের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক ও পর্যায়। উঠে এসেছে ব্যক্তি মোস্তাক হোসেন, তাঁর পারিবারিক ইতিহাস, তাঁর শিক্ষা, সচেতন উপলব্ধি, বাংলার ঐতিহ্য প্রেক্ষিত কর্মকাণ্ড, অনগ্রসর সমাজের আশা আকাঙ্ক্ষা ও আশ্রয় হয়ে ওঠা, সামাজিক প্রতিফলন ও ভবিষ্যতের প্রভাব। এহেন মানুষের জীবন ছবিতে ব্যক্তি বন্দনাও এসে পড়বে, তা স্বীকার করে নেওয়া ভালো। আসলে, নিছক প্রশংসায় ইতিহাস থাকে না, সেখান থেকে আর ইতিহাস রচিত হয় না। এমন আবেগতাড়িত লেখা নেই, তা বলছি না। তবে এই গ্রন্থ পাঠ করলে সামগ্রিকভাবে মোস্তাক হোসেনের কর্মকাণ্ড ও সমাজ জীবনে তার প্রভাব স্পষ্ট প্রতিভাত হয়ে ওঠে। প্রতীয়মান হয়ে ওঠে, তাঁর একক প্রচেষ্টার দুর্লভ মানসিকতা। স্পষ্টত, দেশভাগ-পরবর্তী অনগ্রসর সমাজে অসহায় প্রেক্ষাপটের নিবন্ত নির্জনে মোস্তাক হোসেন আজ বহুজনের আশা ও আশ্রয় হয়ে উঠেছেন। অপর ব্যক্তির সঙ্গে তুলনীয় বিশেষণে তাঁর মূল্যায়নের শব্দ উচ্চারণ কাম্য নয়। আপন আলোয় উদ্ভাসিত মোস্তাক হোসেন সমাজের মন-মানসিকতা পরিবর্তনের দিশা দেখিয়ে নির্মাণ করে চলেছেন উপেক্ষিত প্রতিভার সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। মোস্তাক হোসেন বাংলার ঘরে ঘরে আজ একটা উদ্দীপনা, উদাহরণও। তরুণ সম্পাদক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ইতিহাসের গবেষক ফারুক আহমেদ এই উদাহরণকে তুলে ধরলেন। এবং একটা মহৎ কাজ করলেন।
ভূমিকায় পবিত্র সরকার বলেছেন, “মোস্তাক হোসেন, তাঁর সাফল্য ও সমৃদ্ধিকে নিজের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সীমায় আবদ্ধ রাখেননি, তিনি তাকে সমগ্র মানবসমাজের উপকারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।” গ্রন্থের প্রথম লেখাটি মোস্তাক হোসেনের। সেখানে তিনি বলেছেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। স্বপ্নকে মাঝপথে ফেলে রেখে পালাতে শিখিনি। স্বপ্নপূরণে দৃঢ় কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত, ‘না’ যেন আমাদের ঘেরাও করার সুযোগ না পায়। ‘হ্যাঁ’ দিয়ে আমরা জিততে চাই…।” তাঁর এই দৃঢ়তার সাফল্যে বাংলার উন্নতির স্বপ্ন, শিক্ষা ভাবনা, সমাজ জীবনে একটা পরিবর্তন এনেছে। মোস্তাক হোসেন তিনটি পুস্তক লিখেছেন, ‘গুহার ভেতরে আলো’, ‘আলোর নীচে আঁধার’ এবং ‘নিশান ও নিশানা’। তাঁকে সৃজনশীল কর্মে অনুপ্রাণিত করেছিলেন মহাশ্বেতা দেবী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তপন মিত্র, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সুরজিৎ দাশগুপ্ত, ইবনে ইমাম, আবদুর রাকিব, অশোক দাশগুপ্ত প্রমুখ। সম্পাদক তাঁদের মূল্যায়নগুলিকে সন্নিবেশিত করে গ্রন্থের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। মোস্তাক হোসেন সম্পর্কে অতীতচারণা করেছেন ড. মইনুল হাসান। লেখার শেষটাই তৈরি করেছেন অপূর্ব এক ‘কল্পবিলাস’। মোস্তাক হোসেন সম্পর্কে লিখতে এগিয়ে এসেছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ-লেখক। গ্রন্থে সম্মিলিত সুস্পষ্ট বক্তব্যে উচ্চারিত, সুচিন্তক মোস্তাক হোসেন ও তাঁর ঐতিহাসিক সমাজ ভাবনা। সমাজ সংস্কারের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা।
ঐতিহাসিক এই সংকলনে সাক্ষী হয়েছেন স্বনামধন্য কবি ঔপন্যাসিক প্রাবন্ধিক সাংবাদিক সমাজকর্মী, গল্পকার নাট্যকার, আরও বিভিন্ন পেশার মানুষ। লিখেছেন খাজিম আহমেদ, ড. সৈয়দ তানভীর নাসরিন, ড. সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, ড. মইনুল হাসান, কবীর সুমন, আহমদ হাসান ইমরান, সুমন ভট্টাচার্য, দেবাশিস পাঠক, জয়ন্ত সিংহ, ড. রতন ভট্টাচার্য, মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. আমজাদ হোসেন, মৌসুমী বিশ্বাস, প্রবীর ঘোষ রায়, সুব্রত ঘোষ রায়, ড. আবুল হাসনাত, গবেষক গোলাম রাশিদ, মোহাম্মদ আবদুল হাই, আবদুর রউফ, ঘনশ্যাম চৌধুরী, আলিমুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম, সোনিয়া তাসনিম, মুজতবা আল মামুন, বজলে মুর্শিদ, এমদাদুল হক নূর, ড. কুমারেশ চক্রবর্তী, ড. মুহম্মদ মতিউল্লাহ, প্রদীপ মজুমদার, ড. সুরঞ্জন মিদ্দে, ড. অর্ণব সাহা, লালমিয়া মোল্লা, জহির-উল-ইসলাম, ড. সা’আদুল ইসলাম, ড. রমজান আলি, ড. মিতালী সরকার, দীপক সাহা, সাবির আহমেদ, আবু রাইহান, সেখ হাসান ইমাম, আবু সাঈদ, ড. অজিত ত্রিবেদী, আলমগীর রাহমান প্রমুখের মতো দুই বাংলার সাহিত্য জগতের কীর্তিমান সাহিত্যস্রষ্টা।
যুগস্রষ্টা মোস্তাক হোসেন মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম নিমতিতার চাঁদড়ায় জন্মগ্রহণ করেন (১৯৫৮)। তাঁর পিতার নাম গিয়াসউদ্দীন বিশ্বাস। মাতা দিলখোশা বিবি। নিজ গ্রামের পাঠশালায় তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। নিমতিতা গৌরসুন্দর দ্বারকানাথ ইন্সটিটিউশনে (১৯৭৫) উচ্চ শিক্ষা লাভের পর কমার্সে সাম্মানিকসহ স্নাতক হন বহরমপুর রাজা কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে (১৯৭৮)। পিতার অসুস্থতার কারণে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তারপর শুরু হয় তাঁর পতাকার নিশান রক্ষার লড়াই। আজকে সেই কাজে তাঁর সাফল্য প্রমাণ করছে পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর ভারতীয় মানচিত্রের শৈল্পিক অবস্থানে। সাফল্যের অন্যতম কারণ দাম্পত্য জীবনে যোগ্য সঙ্গিনী সানোয়ারা হোসেন। কর্মক্ষেত্রে অধিকাংশই সৎ ও কর্মপ্রিয় মানুষের উপস্থিতি। দুই পুত্র এক কন্যার পিতা মোস্তাক হোসেনের এক পুত্র সারিফ হোসেন ও কন্যা মুসরেফা হোসেন অক্সফোর্ডের গবেষক ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী প্রাক্তনী। কিন্তু এই সফল ব্যক্তিজীবন ও পারিবারিক জীবনের সুখ সমৃদ্ধির বিলাসী চৌহদ্দিতে তিনি জীবন কাটাতে চাননি। ভূমিকায় পবিত্র সরকার তাই সব লেখকের মনের কথা বলে দিয়েছেন, “মোস্তাক হোসেন যদি শুধু একজন সফল শিল্পপতি ও ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিমাত্র হয়েই সন্তুষ্ট থাকতেন তা হলে হয়তো আমি ‘উদার আকাশ’-এর এই বিশেষ গ্রন্থের ভূমিকা লেখার জন্য আগ্রহী হতাম না।”
এই গ্রন্থের আলোচনা ও সংবাদ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে পুবের কলম, দিন দর্পণ, সংবাদ প্রতিদিন, আজকাল, সুখবর, আর্থিক লিপি, কৃত্তিবাস, সংবাদ নয়া জামানা, দ্য সেন্টিনেল, খবর ৩৬৫ দিন, বইচারিতা, বিশ্ববাংলা সংবাদ, বইয়ের দেশ প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায়। আলোচনা করেছেন ড. রতন ভট্টাচার্য, গবেষক গোলাম রাশিদ, ড. সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, ড. তানভীর নাসরিন, দেবায়ন রায়, আবু রাইহান, জয়ন্ত সিংহ, সুজয় ঘোষ, ড. পূর্ণিমা সিং, বাহারুদ্দিন প্রমুখ। গ্রন্থটিকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলাশাসক, উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার এবং বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় গ্রন্থটির উদ্বোধন করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যিক উজ্জ্বল সিনহা প্রমুখ। পঁয়তাল্লিশ ফর্মার এই পুস্তকে এক মহাজীবনের জীবন ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। যাঁর কর্মকাণ্ডের সামাজিক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে সমাজের অনগ্রসর অংশে। তারই সঙ্গে প্রায় তিনশো বছর ধরে পিছিয়ে থাকা একটা জাতি সমাজে মাথা তুলতে শুরু করেছে। কার্যত, একা টেনে তুলছেন তিনি। আঁধারে থাকা মানুষের কাছে যিনি, আলোর দিশারি। এই গ্রন্থে সেই আলোকবর্তিকার পূর্ণ পরিচয় সম্পূর্ণ হয়েছে বিভিন্ন মতের সম্মেলনে।
বাংলায় শিক্ষা-স্বাস্থ্য সচেতনতার আন্দোলন আজকের না। কিন্তু নিজের আয়-উপায়ের টাকায় সেখানে দান-অবদানের কথা কেউ ভাবেননি। পথপ্রদর্শক মোস্তাক হোসেনের বিশেষত্ব এখানেই। বিগত শতাব্দীর আশির দশকে শেষের দিকে তাঁর উপস্থিতির ফলেই আবাসিক শিক্ষা ব্যবস্থা আজ চলমান আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। জি ডি চ্যারিটেবল সোসাইটির জি ডি স্টাডি সার্কেলের আওতাধীন পঁয়ষট্টিটি আবাসিক স্কুল শুধু বাংলার দিনলিপি বদলাতে সাহায্য করছে না, ভাগ্যলিপিও পাঠোদ্ধার করতে শেখাচ্ছে। প্রভাবিত বাংলার সমাজ জীবনে আজ গড়ে উঠেছে শিক্ষাদানের হরেক আয়োজন। তাঁর আর এক সফল সম্পাদনার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে উপেক্ষিত সাহিত্য ক্ষেত্রে। সেখানেও গড়ে উঠছে একটা মেধাশক্তি। প্রতিযোগিতার সৃষ্টিকর্মে ‘দুস্তর পারাবার’ হলেও ‘নিম্নে উতলা ধরণীতল’ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা জাগাচ্ছে। সমাজবান্ধব মোস্তাক হোসেনের উদ্যোগক্ষেত্রে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টিতে আছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাঁর মহৎ যোগদান। তাছাড়াও মাতৃস্মৃতিতে জি ডি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইন্সটিটিউট গড়ার পিছনে তাঁর স্বপ্ন-ভাবনা এই গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে। তবু বলতে হবে, না পড়তে চাওয়ার যুগে গ্রন্থের বৃহৎ কলেবর ঐতিহাসিক প্রাপ্তি না, অনুচ্চারিত খামতি? প্রশ্ন উঠতে পারে। তথাপি, কলেবর ও মৌসুমী বিশ্বাসের সুন্দর প্রচ্ছদ পরিকল্পনায় দৃষ্টিনন্দন হইয়া উঠিয়াছে অস্বীকার করিবার উপায় নাই।
পরিশেষে, সাফল্যের অহংকার যাঁকে ছুঁতে পারেনি সেই নিরহংকারী মোস্তাক হোসেন বলেছেন, “সীমিত অভিজ্ঞতা আর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র লৌকিক ও ধর্মীয় শিক্ষার দৌলতে এইটুকুই বোঝার চেষ্টা করি যে, বিদ্যা আর অর্জিত জ্ঞানই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বুদ্ধি তার সহচর। স্বনির্মিত কর্ম তার পথ প্রদর্শক। অধ্যবসায় তার স্বরাজ্যের মন্ত্রী, সহিষ্ণুতা তার সেনাপতি। বিনয় তার সন্তান। ভদ্রতা ও রুচি তার সহোদর।… যথাসম্ভব এসব অনুভবকে খতিয়ে দেখি আমার স্বভাবে, কর্মে এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগেও। এসব অনুভূতি নিয়েই আমৃত্যু বেঁচে থাকতে চাই।” তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়, “ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোর নীচে বিরাজ করছে যে সব অন্ধকার, স্থায়ী অন্ধকার, যে সব প্রত্যন্ত অঞ্চল এখনও সূর্যোদয়ের জন্য অপেক্ষা করছে, আমরা সে সব অঞ্চলে যাব, পথশিশুকে কোলে তুলব, তাকেও সূর্যের আলো দেখাব।” তাঁর অঙ্গীকার তিনি পালন করে চলেছেন। সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষায় তাই বলি, “তাঁর আদর্শ জয়যুক্ত হোক।” স্পষ্টত, ‘উদার আকাশ’ প্রকাশনের ‘মোস্তাক হোসেন : জীবন ও ঐতিহ্য’ গবেষণামূলক গ্রন্থটি তাঁর সেই জীবনাদর্শ সাফল্যের সঙ্গে তুলে ধরেছে।
মোস্তাক হোসেন : জীবন ও ঐতিহ্য
সম্পাদনা:
ফারুক আহমেদ
উদার আকাশ
ঘটকপুকুর, ভাঙড়, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
মূল্য: ৬৯৯ টাকা।