রক্তে শর্করার মাত্রা বা ‘সুগার’ হঠাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা ‘সুগার ফল’ বলা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সুগার অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার চেয়েও হঠাৎ কমে যাওয়া অনেক বেশি বিপজ্জনক। কারণ সঠিক সময়ে এর মোকাবিলা না করলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা স্ট্রোক ও কোমার মতো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এ ছাড়া যদি কারও হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় এবং দীর্ঘক্ষণ তিনি চিকিৎসা না পান, তবে মস্তিষ্কের ‘কোমা’র মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে। আর সমস্যা বাড়তে পারে হৃৎপিণ্ডের। তবে এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তার জন্য দরকার কিছু বিষয়ে সচেতনতা।
রক্তে শর্করার মাত্রা কিংবা ‘সুগার’ বেড়ে যাওয়া যেমন কঠিন সমস্যা, ঠিক তার থেকেও বেশি বিপজ্জনক হঠাৎ ‘সুগার ফল’ করা বা শর্করার মাত্রা অনেকখানি কমে যাওয়া। ওই সমস্যাকে বলা হয়— হাইপোগ্লাইসেমিয়া। রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ অনেকখানি পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তবে এর জন্য দায়ী কিছু অনিয়ম, যা ডায়াবেটিসের রোগীকে দায়ী করলে চলবে না। এর বদলে খেয়াল করে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যকর রুটিন।
প্রতিদিন নিয়মিত খাওয়াদাওয়া করা। ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় যদি খালি পেটে থাকেন ডায়াবেটিসের রোগী, তবে তার সুগার ফল করতে পারে। তাই একজন ডায়াবেটিস রোগীকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর তিনি অল্প করে হলেও কিছু খান।
আর সুস্থ থাকার জন্য শরীরচর্চা করা জরুরি। তবে ডায়াবেটিসের রোগীর এ ব্যাপারে কিছু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ অতিরিক্ত কায়িক শ্রম হলে আর শরীর প্রচুর ঘামলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ নেমে যেতে পারে। তাই শরীরচর্চা করার আগে তাদের পরিমিত পরিমাণে শর্করাজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।
এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই ইনসুলিন নিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান। ওষুধের মাত্রা নিজে থেকে বাড়ালে বা কমালেও এমন বিপদ হতে পারে। সঠিক নিয়ম মেনে চলুন ‘১৫-১৫’ নীতি।
১. ডায়াবেটিসের রোগীর যদি রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০ মানাঙ্কের নিচে নেমে যায় এবং হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, ঘাম হওয়া কিংবা কাঁপুনির মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে রক্তে দ্রুত মিশতে পারে এমন শর্করাজাতীয় খাবার ১৫ গ্রাম পরিমাণে খেতে হবে। বিপদের সময়ে খাবারের মাপ এভাবে ওজন করা সম্ভব নয়। তবে ১ টেবিলচামচ চিনি, মধু বা গ্লুকোজ পাউডার পানিতে গুলে খেলে বা আধাকাপ ফলের রস খেলে কিংবা ৩-৪টি টফি খেলে একই প্রভাব পড়বে।
২. খাওয়ার ১৫ মিনিট পর সুগার মেপে দেখুন। যদি তারপরও রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০-এর মানাঙ্কের নিচে থাকে, তবে আবার একই পরিমাণ (১৫ গ্রাম) শর্করাজাতীয় খাবার খান।
৩. ১৫ মিনিট পর সুগার স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরলে দুটি বিস্কুট কিংবা একটি পাউরুটির মতো কিছু সাধারণ খাবার খান। এতে আবার শর্করার মাত্রা পড়ে যাওয়ার সমস্যা হবে না।