মশলা থেকে সাম্রাজ্য

সোনিয়া তাসনিম   জানেন কি, চটকদার নানা স্বাদের মসলা একসময় ইউরোপীয় সামুদ্রিক শক্তিগুলোর কাছে ভারতবর্ষকে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত করেছিল? ভাবুন শুধু, এই পরিচিত গোলমরিচ, আদা, এলাচ, হলুদের ঘ্রাণ....

সোনিয়া তাসনিম

 

জানেন কি, চটকদার নানা স্বাদের মসলা একসময় ইউরোপীয় সামুদ্রিক শক্তিগুলোর কাছে ভারতবর্ষকে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত করেছিল? ভাবুন শুধু, এই পরিচিত গোলমরিচ, আদা, এলাচ, হলুদের ঘ্রাণ আর রঙ উপমহাদেশের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি, চিকিৎসা ও বাণিজ্যের সাথে কী আশ্চর্যজনকভাবে গাঁটবন্ধন জুড়েছে!

 

 

আর এই মশলার সন্ধানে ইউরোপীয়দের করা সমুদ্র অভিযানের শুরু যে হয়েছিল, তার পরিণতি কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যের সীমা ছুঁয়ে ক্ষান্ত হয়নি, সেটি ক্রমে সামরিক প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথে ধাবিত হয়। তা রন্ধনে রসায়ন যোগানো ব্যঞ্জনের জাদু কেবল হেঁসেল কিংবা খাবার থালে নয়, বরং রাজনৈতিক মঞ্চ কাঁপাতেও কম নয়, একথা না মেনে উপায় নেই।

মজার বিষয়টা হলো ইউরোপীয়রা কিন্তু ভারতে মশলা নিয়ে আসেনি, বরং এশিয়া হতে ইউরোপে যাওয়া মশলার বাণিজ্যপথের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে উৎপাদন ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে তারা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল। সেই অর্থে ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগ্রাসনের নেপথ্যে মশলা প্রধান ইন্ধন না হলেও প্রেরণা ছিল অবশ্যই। এশিয়ার মশলা ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের সরাসরি উৎসে পৌঁছানো এবং দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বাণিজ্যপথ এড়িয়ে যাওয়া ছিল সমুদ্রপথ অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণাগুলোর একটি।

 

 

মধ্যযুগীয় সেই সময়ে ইউরোপে মশলার চাহিদা ছিল ব্যাপক। কারণ, কেবল খাবারে স্বাদ জুড়ে দিতে নয়, খাদ্যসংরক্ষণ, রান্না, চিকিৎসা এবং সামাজিক মর্যাদা—এমন আর্থ-সামাজিক নানা পটভূমির সাথে মশলার সখ্যতা থাকায় ইউরোপীয় বাজারে এগুলোর কদর ছিল অনন্য।

দীর্ঘ বাণিজ্যপথের নীলজলের নকশা পার করে ইউরোপে এশিয়ার মশলা পৌঁছাত। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ভেনিসসহ কতিপয় বাণিজ্যশক্তিও এই পণ্য ব্যবসা হতে ফায়দা লুটত। ফলে ইউরোপীয় সমুদ্রশক্তির কাছে প্রশ্ন দাঁড়াল—মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি এশিয়ার উৎপাদনকেন্দ্রে পৌঁছানো কি সম্ভব? আর এই প্রশ্নই উপমহাদেশের ঐতিহাসিক পটভূমিতে আমূল পরিবর্তনের একটি পথ খুলে দিল। শুরু হলো ইউরোপীয় সমুদ্রযাত্রার এক নতুন যুগ।

 

 

ঘটনার সূত্রপাত পর্তুগিজ নাবিকদের আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ধরে দক্ষিণে অগ্রসর হওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৪৮৮ সালে বার্তোলামিউ দিয়াজ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত, তৎকালীন নাম কেপ অব স্টর্মস, অতিক্রম করেন। পরবর্তীকালে এই প্রান্তের নাম হয় কেপ অব গুড হোপ। দিয়াজের এই অভিযান ইউরোপ থেকে ভারত মহাসাগরের দিকে সম্ভাব্য সমুদ্রপথের দুয়ার উন্মোচন করে।

পরবর্তীতে ১৪৯৭ সালে ভাস্কো দা গামা পর্তুগাল হতে ভারত অভিমুখে অগ্রসর হন এবং ১৪৯৮ সালের ২০ মে কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান। কালিকট তখন কোনো বিচ্ছিন্ন বন্দর নয়; বরং এটি ছিল ভারত মহাসাগরের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আরব, পারস্য, আফ্রিকান ও ভারতীয় বণিকেরা এখানে দীর্ঘকাল ধরে বাণিজ্য চালিয়েছেন। ফলে ইউরোপীয়দের এখানে আগমন ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থায় নতুন শক্তির প্রবেশ।

 

 

অপরদিকে, স্বীয় শক্তির উত্থান ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পর্তুগিজদের লক্ষ্যও ছিল বাণিজ্যব্যবস্থায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। তারা কেবল মশলা ক্রয় করে ইউরোপে আমদানিতে আগ্রহী ছিল না, তারা চাইছিল সমুদ্রপথ, বন্দর ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার আধিপত্য। যেখানে বিভিন্ন অঞ্চলের বণিকেরা পরস্পরের সাথে লেনদেনে ব্যবসা পরিচালনা করতেন, সেখানে পর্তুগিজরা সামুদ্রিক সামরিক শক্তিকে বাণিজ্যের অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করতে শুরু করে। পশ্চিম ভারতের উপকূল ও ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তারা দুর্গ ও বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে। তাদের উপস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে কোচিন, দিউ ও দামানসহ নানা অঞ্চলে।

খেয়াল করলে, এক্ষেত্রে বাণিজ্য ও সামরিক শক্তির সম্পর্কটি অর্থবহ। মশলা ছিল অর্থনৈতিক সম্পদ, সেই সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন ছিল নৌ-সামরিক শক্তি। আর এই চাহিদাই বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতাকে ধীরে ধীরে সামরিক প্রতিযোগিতায় ধাবিত করে।

 

 

তবে পর্তুগিজদের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ডাচেরা। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ভারতীয় মহাসাগরীয় বাণিজ্যে প্রবেশকৃত এই ডাচেরা ১৬০২ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে। এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। যুদ্ধ করা, দুর্গ নির্মাণ, চুক্তি করা এবং উপনিবেশ স্থাপনের মতো ক্ষমতাও কোম্পানিটির হাতে ছিল। ইন্দোনেশিয়ার মলুক্কা দ্বীপপুঞ্জের লবঙ্গ, জয়ফল ও অন্যান্য মশলার ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সামরিক শক্তি ব্যবহারে মরিয়া হয়ে উঠেছিল।

১৬০০ সালে ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথের রাজকীয় সনদের মধ্য দিয়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমদিকে কোম্পানির মূল লক্ষ্য ছিল এশিয়ায় লাভজনক ব্যবসার বিস্তার, আর মশলা ছিল সেই বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। কিন্তু ডাচদের শক্তিশালী অবস্থান এবং মশলা উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর ওপর তাদের প্রভাব ইংরেজদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

 

ফলে ইংরেজ কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। ভারতের তুলাবস্ত্র, রেশম, নীল, গোলমরিচ ও অন্যান্য পণ্য ইউরোপীয় বাজারে বিপুল চাহিদা তৈরি করে নিয়েছিল। সুরাট, মাদ্রাজ, বোম্বে, কলকাতা কেন্দ্র করে কোম্পানির বাণিজ্যঘাঁটি গড়ে উঠতে থাকে। ধীরে তারা নিজস্ব দুর্গ, সৈন্যবাহিনী ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে শুরু করে। আর এমন করেই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্রমশ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার গতিপথ খুঁজে নেয়।

এই বিষয়ে, “Trade follows the flag”—ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণ ব্যাখ্যায় বহুল ব্যবহৃত একটি পুরোনো ধারণা। কিন্তু ভারতবর্ষের অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে অনেক ক্ষেত্রেই যেন এর বিপরীত চিত্রটি দেখা যায়—flag followed trade; অর্থাৎ বাণিজ্যিক স্বার্থের পথ ধরেই সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির বিস্তার ঘটেছে।

 

 

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক এই উত্থানে বাংলার ভূমিকা কিন্তু অপরিসীম। কারণ, আঠারো শতকের মাঝামাঝি বাংলা ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। কৃষি, বস্ত্রশিল্প, নদীবন্দর তথা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে বাংলা ছিল সম্ভাবনাময়। বাংলা তাই কোম্পানির কাছে কেবল বাজার হিসেবে নয়, বরং রাজস্ব ও বাণিজ্যিক সম্পদের উৎস হিসেবেও বিবেচিত হয়েছিল।

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে পটপরিবর্তন ঘটে, তা এই প্রক্রিয়ায় এক ব্যাপক বদল নিয়ে আসে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত প্রসারিত হয়। ১৭৬৪-তে বক্সারের যুদ্ধ ও ১৭৬৫-তে মুঘল সম্রাট শাহ আলম দ্বিতীয়ের কাছ থেকে বাংলার দেওয়ানি লাভ কোম্পানির ক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

 

 

দেওয়ানি লাভের অর্থই ছিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব প্রশাসনের অধিকার কোম্পানির হস্তগত হওয়া। ফলে যে প্রতিষ্ঠান একদা বাণিজ্যের জন্য ভারতবর্ষে আগমন করেছিল, সেটিই তখন এক অঞ্চলের রাজস্ব সংগ্রহ ও আর্থিক প্রশাসনের ক্ষমতা অর্জন করে। আর এখানেই বাণিজ্যিক পুঁজির সাথে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সরাসরি সংযোগসেতু তৈরি হয়।

এই পর্যায়ে মশলার ভূমিকা কী? কড়াই হতে পাতের রসনায় যার তৃপ্তি ঢেঁকুর তোলাতেই সার্থকতা, সেখানে ঐতিহাসিকভাবে এটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? হ্যাঁ। গুরুত্ব ছিল, তবে সীমিত পরিসরে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে কেবল মশলার বাণিজ্য দিয়ে যদি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয় তা ভুল। মশলার অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ইউরোপীয় সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা একটি বৃহত্তর বাণিজ্যিক কাঠামোর জন্ম দিয়েছিল। যার মাঝে ভারতীয় বস্ত্র, নীল, চা, আফিম, লবণশোরা এবং অন্যান্য পণ্য ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে থাকে।

 

 

তাই বলা যায়, মশলা ছিল উপমহাদেশে প্রবেশের প্রাথমিক আকর্ষণ। কিন্তু এই আকর্ষণের পথ অতিক্রম করে ভারতবর্ষের কৃষি, শিল্প, শ্রম ও রাজস্বসম্পদ হয়ে উঠেছিল ঔপনিবেশিক অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি।

কোম্পানির রাজস্ব আয় দিয়ে সেনাবাহিনী পরিচালিত হতো। আবার সেই সেনাবাহিনী ব্যবহার করেই নতুন অঞ্চল দখল ও সেখান থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করা হতো। এই চক্র ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে যে শক্তিশালী করে তুলেছিল তা বোধকরি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

 

 

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন, বিশ্বের ইতিহাসে এক অদ্ভুত ব্যতিক্রমী অধ্যায়। একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি কী করে সময়ের সাথে সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করে একটি ভূখণ্ড শাসন করতে সমর্থ হয়; ভারতবর্ষ তার এক বিস্ময়কর উদাহরণ। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৮৫৮ সালে ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ ক্রাউনের হাতে চলে যায়।

ভারতের ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকতার ইতিহাস বুঝতে তাই মশলার ইতিহাসকে কেবল বাণিজ্য ইতিহাসে মূল্যায়ন করলে যথেষ্ট নয়। এখানে মশলা ছিল আঞ্চলিক হতে বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি শক্তিশালী পণ্য, যার বিপুল মূল্য ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে এশিয়ার দিকে সমুদ্রপথ খুঁজে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

 

 

মশলার সন্ধানে ইউরোপীয় জাহাজ ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে, স্থাপন করেছিল বন্দর, বন্দর রক্ষার্থে গড়েছিল দুর্গ। আবার দুর্গ প্রতিরক্ষায় সৈন্যবহর, বাণিজ্যিক স্বার্থ আদায় ও রক্ষায় হস্তক্ষেপ করেছিল স্থানীয় রাজনীতির কূটকৌশলে। আর সেই হস্তক্ষেপই একটা সময়ে তাদের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ভিত্তি গড়ে নিয়েছিল।

ভারতবর্ষের ঔপনিবেশিক রাজত্ব একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি ছিল কয়েক শতাব্দীব্যাপী এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মশলা হতে বাজার, বাজার হতে বাণিজ্য, বাণিজ্যিক ঘাঁটি হতে সামরিক শক্তি, তা থেকে রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ, এবং শেষে সেই নিয়ন্ত্রণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে এক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র। যার মর্মজ্বালা বয়ে বেড়াতে হয়।

 

 

ইতিহাসের এই অধ্যায়গুলোর অধ্যয়ন তাই বারবার আমাদের এক সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়—বিশ্বরাজনীতিতে কোনো পণ্য যখন অতিমূল্যবান হয়ে ওঠে, তখন তার বাণিজ্য কেবল অর্থনীতিকে নয়, ভূরাজনীতি হতে রাষ্ট্রকাঠামোকেও পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।

পরিস্থিতি কিন্তু আজও একই এবং প্রাসঙ্গিক। এই সত্য আজও বিশ্বরাজনীতির নানা মানচিত্রে ভিন্ন রূপে, তবে একই নীতিতে উপস্থিত। আর সেখানে ভারতবর্ষের মশলার ইতিহাস সেই পরিবর্তনের এক সুগন্ধময়, রহস্য, বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের এক রক্তাক্ত প্রহসনের দলিল। খুব সূক্ষ্মভাবে দেখলে আজও সেই ইতিহাসের প্রতিধ্বনি বিশ্বরাজনীতির নানা প্রেক্ষাপটে দেখা যায়—যেখানে অর্থনৈতিক স্বার্থ, কৌশলগত সম্পদ ও ভূরাজনীতি পরস্পরের সঙ্গে অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা থাকে।