নাজমুস সাকিব
নবম হিজরিকে বলা হয় প্রতিনিধিদলের বছর। এ বছর আরবের নানা অঞ্চল থেকে দলে দলে মানুষ এসে ইসলাম গ্রহণ করছিলেন। তাঁদের ইসলামের বিধান শেখানোর জন্য রাসুল (সা.) বিভিন্ন সাহাবিকে শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
এই ধারাবাহিকতায় বিশিষ্ট সাহাবি মুয়াজ ইবনে জাবালকেও রাসুল (সা.) ইয়েমেনে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন নবীজির খুব কাছের একজন সাহাবি। মদিনা থেকে সুদূর ইয়েমেনের পথে তাঁকে বিদায় জানানোর সময় নবীজি এমন কিছু কথা বলেছিলেন, যেন এ-ই তাঁদের শেষ দেখা। তাঁর এই প্রিয় সাহাবি হয়তো ফিরে এসে আর তাঁকে দেখতে পাবেন না।
সেদিনের দৃশ্যের বর্ণনা আমরা হাদিসের মাধ্যমে জানতে পারি।
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) ইয়েমেনের পথে রওনা হচ্ছেন। সওয়ারির ওপর বসে আছেন। আর আল্লাহর রাসুল (সা.) পায়ে হেঁটে তাঁকে কিছুটা পথ এগিয়ে দিচ্ছেন। বিদায়ের মুহূর্তে তিনি বললেন, ‘হে মুয়াজ, হয়তো এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। হয়তো তুমি আমার এই মসজিদ আর আমার কবরের পাশ দিয়ে যাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২০৫২)
আসলে সাহাবিদের গোটা জীবন গড়ে উঠেছিল ওহির ওপর ভিত্তি করে। সে সময় নবীজির কাছে ওহি আসত। কোরআনের আয়াতের পাশাপাশি তাঁর মুখে তাঁরা শুনতেন ধর্মের শিক্ষা ও নির্দেশনা।
কোনো বিষয়ে সংশয় জাগলে তাঁরা তাঁকেই জিজ্ঞেস করতেন। কখনো তাঁদের প্রশ্নের উত্তর নেমে আসত আসমান থেকে। উত্তরাধিকার কীভাবে ভাগ হবে, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ কীভাবে মিটবে, যুদ্ধের গনিমত কীভাবে বণ্টিত হবে—জীবনের এসব প্রশ্নের সমাধান তাঁরা পেয়েছেন তাঁদের মাঝে থাকা নবির কাছ থেকে
তাঁদের জন্য এ কথা ভাবা কঠিন ছিল যে একদিন এ মানুষটি থাকবেন না। আসমান থেকে তাঁর কাছে ওহি আসার এই ধারাও থেমে যাবে। সেই কষ্টের গভীরতা বোঝা যায় ইন্তেকালের দিনের ঘটনায়। ওমর (রা.) দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন, রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেননি।
আবু বকর (রা.) এসে নবীজির চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে চুমু খেলেন। তারপর মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে পাঠ করলেন, ‘মুহাম্মদ একজন রাসুল ছাড়া আর কিছু নন। তাঁর পূর্বে বহু রাসুল অতিবাহিত হয়েছেন। যদি তিনি মারা যান কিংবা নিহত হন, তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে?’ (সুরা আলে ইমরান: ১৪৪)। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৬৭–৩৬৬৮)
মানুষের যেন মনে হলো, আয়াতটি তাঁরা আগে কখনো শোনেননি। আয়াতটি শুনে ওমর (রা.) স্থির থাকতে পারেন নি, মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন। বুঝলেন, নবীজি সত্যিই ইন্তেকাল করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৪৫২–৪৪৫৪)