শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়
বাঙালি পরিবার-কাঠামোয় উত্তরাধিকারের প্রশ্নটা জরুরি। হয়তো সামন্ততন্ত্রের ছিটেফোঁটার কারণেই। তাই আমরা শুনি, কংগ্রেস বাড়ি বা কমিউনিস্ট বাড়ি। অর্থাৎ দাদু কমিউনিস্ট, তার থেকে বাবা, তার থেকে ছেলে। কিন্তু আপনাদের পরিবার সাক্ষাৎ ব্যতিক্রম। আপনার দাদা প্রথমে কমিউনিস্ট হন, তার থেকে আপনার বাবা। তা-ই তো?
১৯১৮ থেকে ১৯২৮ অবধি বাবা (সুনীতিকুমার) ঢাকার জগন্নাথ কলেজে ইংরেজি পড়িয়েছেন। ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অজিত দত্ত, ভবতোষ দত্ত। ভবতোষবাবু আত্মজীবনীতে লিখেছেন, সুনীতিবাবুর পাণ্ডিত্যের গভীরতা বুঝতে সময় লেগেছিল। প্রেমেন্দ্র আমাকে সারা জীবন স্নেহ করেছেন বাবার সূত্রে। এর পর বাবা এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে স্যর হার্বার্ট গ্রিয়ার্সনের কাছে পিএইচডি করেন। দেশে ফিরে ফের অধ্যাপনা রাওয়ালপিন্ডি ডিএভি কলেজে। দাদার (সুব্রত) জন্ম ১৯১৯-এ, ঢাকায়। ওঁর ১০-১১ বছর বয়সে, বাবা তিন বছরের জন্য বিলেত যাওয়ার সময়ে বন্ধু ফণিভূষণ চক্রবর্তীর বাড়িতে মা আর দাদাকে রেখে যান। মা বিএ অবধি পড়েছিলেন বেথুন কলেজে, সহপাঠী ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
১৯৩৬-এর ডিসেম্বরে সুমন্তর জন্ম। আমার ১৯৪০-এ। ১৯৪১-এ এমএ পাশ করেন দাদা আর বৌদি (করুণা)। দু’বছর পরে বিয়ে করেন। দু’জনেই কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র আন্দোলনের কর্মী। ’৪২-এ সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রান্ত হতে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলন আহ্বান এল, যে সব উপনিবেশে স্বাধীনতা বা উপনিবেশবাদ-বিরোধী লড়াই হচ্ছে, যাতে কমিউনিস্টরাও আছে, সেখানে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসুক, কারণ তাদের বিদেশি শাসক আন্তর্জাতিক রণাঙ্গনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। ফ্যাসিবাদ বৃহত্তর শত্রু, তাই স্বাধীনতা আন্দোলন মুলতুবি রেখে কমিউনিস্টদের বলা হলো ব্রিটিশদের সঙ্গে যেতে। স্বেচ্ছায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার কথাও বলা হলো পার্টি থেকে। দাদা যুদ্ধে যোগ দিলেন ১৯৪৩ নাগাদ। ছ’মাস দেরাদুনে প্রশিক্ষণ হলো, তখন বৌদি সঙ্গে ছিলেন, পরে কলকাতায় আমাদের বাড়িতে চলে এলেন। দাদা ফিরলেন ১৯৪৫-এ, ওঁকে বম্বেতে রিলিজ় দেওয়া হলো। দাদা ওখানেই থেকে পার্টির হোলটাইমার হয়ে সিপিআই-এর ‘পিপলস এজ’ পত্রিকায় কাজ করতে থাকলেন। নৌবিদ্রোহের সময়ে পার্টির দিক থেকে নেভির লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ দাদাই করেছিলেন। কিন্তু ’৪৮-এ পার্টি নিষিদ্ধ হতে দাদা গ্রেপ্তার হলেন। নাসিক রোড সেন্ট্রাল প্রিজ়নে রাখা হলো। সহবন্দি শ্রীপদ অমৃত ডাঙ্গে। ’৫১ অবধি ওঁরা ওখানে ছিলেন। ডাঙ্গের সঙ্গে দাদার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। পরে ডাঙ্গে যখন লোকসভায় সিপিআই-এর নেতা, তখন কলকাতায় এলে আমাদের একডালিয়ার বাড়িতেই উঠতেন। যা-ই হোক, জেল-পর্বে দাদার সঙ্গে বাড়ির একমাত্র যোগাযোগ ছিল চিঠি। সেটাই যোগসূত্র, আবার সেটাই পারিবারিক ভাবে ধাক্কাও। বাড়ির ডাকবাক্সে পৌঁছোনো সে সব চিঠিতে জেলের ছাপ তো মারা থাকতই, লেখা হতো ‘সেন্সরড’, ভেতরের অনেক অংশ কেটে দেওয়া হতো। আমরা সবাই মিলেই চিঠি পড়তাম।
বাবা একান্ত ভাবে পড়াশোনার মানুষ হলেও যে কোনও সুস্থ-শিক্ষিত মানুষের মতো রাজনৈতিক চিন্তা ছিল। এই সময়ে, গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যেই বাবার মনের পরিবর্তন ঘটল। তিনি মনে করলেন, আমার ছেলে যদি একটা বিশ্বাসের জন্য সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিতে পারে, তা হলে ‘I owe it to my son to understand that.’ উনি মার্কসবাদ পড়তে শুরু করলেন। ইংরেজিতে যা পাওয়া যায়, ন্যাশনাল বুক এজেন্সি থেকে কিনতে লাগলেন। এক সময়ে ওঁর মনে হলো, তত্ত্ব-দর্শন-আদর্শ তো বোঝা গেল, কিন্তু প্রয়োগ? তখন উনি সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে ভাবতে শুরু করলেন। রুশ ভাষা শিখলেন। মা-ও ডক্টর তাতিয়ানা সাহার রুশ ক্লাসে ভর্তি হলেন। মজা লাগত… রাতে সাড়ে ৯টার মধ্যে আমাদের খাইয়েদাইয়ে বাবা-মা রুশচর্চায় বসে যেতেন! বাবা কোনও দিন পার্টি করেননি, কিন্তু তার বাইরে একটা জায়গা বার করলেন, সাংস্কৃতিক প্রশ্নে অবস্থান নিলেন।
আপনি নিজেকে বলেন সাংস্কৃতিক বাম। বামপন্থা রাজনৈতিক আদর্শ, তার হাত ধরে আসে সংস্কৃতি। কিংবা, রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সংস্কৃতিকে বাহন হিসেবে প্রয়োজন হয়। আপনি কী ভাবে সংস্কৃতিকে পুরোভাগে রেখে, আবার রাজনৈতিক বামের সঙ্গে কোনও সংস্রব না রেখেও বামপন্থার চর্চা করে চলেন?
ওই যে বাবার কথা বললাম, ওটা আমার সাংস্কৃতিক বামের ধারণায় একটা পরত। তবে কথাটা আমার একার নয়— ইতিহাসটা গভীর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই পর্বে ব্রিটিশদের সঙ্গে শত্রুতা কিছু দিন সরিয়ে রাখার ফলে ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলন মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল। তারা দেশদ্রোহী আর বিশ্বাসঘাতক তকমা পেয়েছিল। কিন্তু কাজ থামায়নি। সিপিআই তখন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথে এগোয়, এবং ফ্যাসিবাদ-বিরোধী চেতনাকে জাগ্রত করে। অর্থাৎ, সংস্কৃতিকে অত্যন্ত সচেতন ভাবে রাজনীতির বাহন করে তোলে। মূল রাজনীতির ধারায় যে হেতু তারা থাকতে পারছে না, বা প্রান্তিক হয়ে পড়ছে, আন্দোলন অবধি পৌঁছচ্ছে সংস্কৃতির হাত ধরে। প্রথমে তার নাম ফ্যাসিবাদ-বিরোধী লেখক-শিল্পী সঙ্ঘ, সে নামে বই বেরোচ্ছে, পরে তা প্রগতি লেখক সঙ্ঘ-এর সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে, এবং এর পর গণনাট্য সঙ্ঘ। সব মিলিয়ে দু’-তিন বছর, কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। তার প্রমাণ, প্রথম দিকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতিতে রবীন্দ্রনাথ আর প্রফুল্লচন্দ্রও সই করেছিলেন। সে উদ্যোগ কিন্তু ছিল সিপিআই-এর।
আবার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও জরুরি হয়ে থেকেছে। ’৪৮-এ আমি পাড়ার স্কুল জগদ্বন্ধু ইনস্টিউশনে ভর্তি হলাম। একদিন হেডমাস্টার ক্লাসে একজন নতুন আর্ট টিচারকে নিয়ে এলেন। দেখলাম, তাঁকে আমি চিনি, বাড়িতে আসেন, গল্প করেন। ক্লাসশেষে কথা বলতে গেলাম, কিন্তু তিনি গুটিয়ে গিয়ে কাষ্ঠ হাসি হাসলেন, যেন বাধ্য হয়ে চিনলেন! খুব বিব্রত হলাম। সন্ধেবেলা ভদ্রলোক বাড়িতে আসতে আমাকে বোঝানো হলো, উনি, সোমনাথ হোর, বেনামে চাকরিটা পেয়েছেন, কারণ ওঁর নামে পরোয়ানা আছে, ফলে স্কুলে যেন আমি ওঁকে না চিনি। এই ঘটনার ছাপ আমার জীবনে অনপনেয়। দাদার চিঠির কথা কেন কেটে দেওয়া হতো, সেই প্রশ্নের অভিঘাতও যেমন আমার মন থেকে মুছে যায়নি।
তবে, সংস্রব ছিল না বললেও ভুল হবে। প্রেসিডেন্সি কলেজে ঢুকে, হয়তো পারিবারিক মনের কারণেই স্টুডেন্টস ফেডারেশনে যোগ দিলাম। এসএফ তখন সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী নয়। পাঁচটা সিটের মধ্যে মাত্র একটা আমরা নিশ্চিত পেতাম, আর একটায় লড়াই হতো। আমি আর পল্লব সেনগুপ্ত এক-এক বছর পালা করে ভোটে দাঁড়ালাম। জিতলামও। ’৫৮-এ বিএ পড়তে পড়তে সিপিআই-এর ক্যান্ডিডেট মেম্বারশিপ নিলাম। তার পর এক বছর অবজ়ার্ভেশন আর টেস্ট, তার পর ফুল মেম্বার। এখানেই পার্টিরও মুন্সিয়ানা— তারা আমাকে ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকায় কাজ দিলো। নেতৃত্ব বলল, শিক্ষিত ছেলেমেয়ে দরকার, যারা চিন্তাগুলো ছড়িয়ে দেবে। তাই আমি তিনবার ভোটে জিতেছি, কিন্তু সে অর্থে ছাত্র আন্দোলন করিনি। বরং, শুরু থেকে পার্টির পত্রিকার সাংস্কৃতিক কাজেই জড়িয়ে গেলাম।
ইদানীংকার ভারতীয় অভিজ্ঞতায় দেখি, সাংস্কৃতিক আর রাজনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে বিরোধ লাগে, সংস্কৃতিকে পদানত করে রাজনীতি, দুইয়ের অবস্থান যেন ভিন্ন জগতে। সেই সময়ের প্রেক্ষিতেও কি প্রশ্নটাকে এমন ভাবেই দেখবেন?
১৯৬০-এ পশ্চিমবঙ্গ এসএফ-এর এগজ়িকিউটিভ কমিটিতে আমাকে আর পবিত্রকে (সরকার) নেওয়া হলো। রবীন্দ্র শতবার্ষিকী উদ্যাপনের দায়িত্ব ন্যস্ত হলো। মেদিনীপুরে সাধারণ সভা, বক্তৃতা দিতে উঠেই অত্যন্ত অপ্রিয় হলাম। হলে দেওয়াল জুড়ে যে গোটা কুড়ি কবিতার পোস্টার ছিল, তার অন্তত পাঁচটা সুকান্ত আর মঙ্গলাচরণের, নীচে লেখা রবীন্দ্রনাথ! মঞ্চে উঠে বললাম, ‘এই একটা বছর অন্তত আমরা যদি কবিতা পড়ি, বাংলা সাহিত্য পড়ি, রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে পড়ি, তা হলে সিরিয়াস চর্চাটা হয়, কার কী অবদান সেটাও জানা যায়।’ পরে শুনলাম, আমি নাকি মফস্সলের সৃষ্টিশীলতাকে কলকাতার নাক-উঁচু মনোভাব থেকে খোঁটা দিয়েছি! এর পর, ’৬৪-তে পার্টি ভাগ হতে সদস্যপদ ছেড়ে দিই। দু’পার্টিই আমার থেকে সমদূরত্ব তৈরি করে। আমিও তা-ই। হালে গত পাঁচ-ছ’বছরে অবশ্য ছবিটা বদলেছে, কিন্তু বছর দু’য়েক আগে বিমানের (বসু) সঙ্গে দেখা হতে তিনি মেদিনীপুরের ওই ঘটনাটা তুললেন। কেমন তার অভিঘাত!
তবে তখনকার পার্টি যে অন্য রকম ছিল, এ কথা না বললে সত্যের অপলাপ হবে। ‘স্বাধীনতা’র সম্পাদক সরোজ মুখোপাধ্যায় এবং আর এক সাংবাদিক সরোজ দত্ত প্রথম দিনই পড়াশোনায় জোর দিতে বললেন। মনে আছে দ্ব্যর্থহীন বার্তা: ‘তুমি ভালো ভাবে এমএ পাশ করবে, পড়াতে চাইলে পড়াবে, শুধু তিনটে সন্ধে স্বাধীনতা-কে দেবে, এটাই পার্টির কাজ, কিছু কাজ হয়তো বাড়িতে দেব।’
পয়লা দায়িত্ব সাংসদদের বক্তৃতা অনুলিখন করা। সে কালের প্রাণবন্ত সংসদে বিরোধীরা প্রশ্ন করতেন, নেহরু-আজ়াদ-মেনন জবাব দিতেন। বিকেলবেলা সে সব টেলিপ্রিন্টারে ‘স্বাধীনতা’য় আসত। সিপিআই সাংসদদের বক্তৃতা আর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর বাছা হতো, আমি অনুবাদ করতাম, উত্তর-সম্পাদকীয় হিসেবে ছাপা হতো। পার্টি বলত, আমরা যখন গণতন্ত্রের পথ গ্রহণ করেছি এবং মানুষ প্রতিনিধি করে সংসদে পাঠিয়েছে, তখন মানুষের কাছে আমরা সরাসরি দায়বদ্ধ। পার্টির মধ্য দিয়ে তাই নির্বাচক জনতাকে তাঁদের কথাগুলো জানানো হতো। দ্বিতীয় দায়িত্ব রবিবারের পাতায় সরোজদার সহকারী। তৃতীয় দায়িত্ব ‘কিশোর সভা’ নামে রবিবারের ছোটদের পাতা। ছাত্রাবস্থায় ডিবেটে খুব নাম করেছিলাম আমরা— আমি, হিরন্ময় কারলেকর, গায়ত্রী চক্রবর্তী, প্রণব বর্ধন আর মণীশ নন্দী। ফলে সংসদীয় বক্তৃতা অনুবাদের কাজটা দারুণ উপভোগ করতাম। কিন্তু, সরোজদার সঙ্গে কাজটা ছিল সবচেয়ে শিক্ষণীয়। কমিউনিস্ট পার্টি অফ গ্রেট ব্রিটেন-এর কাগজ ‘ডেলি ওয়ার্কার’ এয়ার মেলে একদিন পর আসত। সানডে সাপ্লিমেন্ট থেকে লেখা বেছে আমায় দিতেন সরোজদা, আমি ডেভলপ করে প্রবন্ধ লিখতাম। সে-ই আমার লেখার শুরু।
দু’-একটা গল্পও বলি। সাহিত্য সমালোচক আর্নল্ড কেটল তখন ব্রিটিশ পার্টির সদস্য। সদ্য নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া উপন্যাস ‘লেডি চ্যাটার্লিজ় লাভার’-এর তিনটে সংস্করণ নিয়ে তিনি প্রবন্ধ লিখলেন ‘ডেলি ওয়ার্কার’-এ। প্রথম সংস্করণে একটা সংলাপ ছিল, ‘Communism is like an electric charge. It runs through you and charges you.’ পরবর্তী সংস্করণে কথাটা আর ছিল না। তাই এ নিয়ে কেটল লিখেছিলেন। সেখানে উপন্যাসের তথাকথিত অশ্লীল অংশ থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন। আমি সবটাই ‘স্বাধীনতা’য় অনুবাদও করেছিলাম। আবার, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে যখন নোবেল পেলেন, তখন সরোজদা লিখতে বললেন। অর্থাৎ, পার্টির সাংস্কৃতিক কাজের পরিসরটা অনেক বৃহৎ ছিল। আমি শিখেছি সেখান থেকে। যেমন, ‘মস্কো’ কবিতাটা পড়তে মনে হলো, সিলেবাসে তো বায়রন ভালো করে পড়িইনি। ফের বায়রন পড়লাম, তাঁর বাম সমাজতান্ত্রিক চিন্তা নিয়ে ‘স্বাধীনতা’য় লিখলাম, সরোজদা সম্পাদকীয়র উল্টো পাতার নীচে ছ’কলাম স্প্রেডে ছাপলেন, নিজে ‘মস্কো’ অনুবাদ করলেন। আবার, সার্ত্রের ‘হোয়েন ট্রিজ়ন ইজ় ডিউটি’ বিবৃতিও অনুবাদ করেছিলাম আমরাই। কোনও রাজনৈতিক কাগজে এ সব আজ ভাবা যায়? এখানে তো রাজনীতি পরিসর দিচ্ছে সাংস্কৃতিক চিন্তাকে। সংস্কৃতি থাকছে বাম মোড়কে, কিন্তু দুইয়ের মুখোমুখি সংঘাত হচ্ছে না। (চলবে)