দেবার্ঘ্য ভট্টাচার্য্য
রিভস ক্যালকিনস রীতিমতোই বিরক্তই ছিলেন আমেরিকায় নবাগত গেরুয়াধারী ব্যক্তিটির উপর। তিনি সদ্য ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে ধর্মযাজক হয়েছেন। বিশ্ব ধর্ম মহাসম্মেলনে খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা তাঁর ভালো লাগেনি। মনে হয়েছিল বিবেকানন্দ লোকটি বড়াবাড়ি রকমের অহঙ্কারী। এমনকী যখন গুজব রটে যে কোনও আদর্শের জন্য নয়, বিবেকানন্দের ওই আয়ত চোখের মায়ায় মোহাবিষ্ট হয়ে দলে দলে আমেরিকান তরুণী ‘বিবেকানন্দ ক্লাব’-এ নাম লিখিয়েছে, তিনি সেটাও মেনে নিতে রাজি ছিলেন, এমনই ছিল তাঁর ক্ষোভ। এই মানুষটির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ পরিচয় ঘটে ১৯০০ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতযাত্রার সময়ে। স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন তাঁর সহযাত্রী। বেশ কিছু দিন পর যখন তাঁদের প্রথম কথাবার্তা হয়, তার বিবরণটি বেশ চিত্তাকর্ষক। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন:
— আপনি আমেরিকান?
— হ্যাঁ।
— আপনি মিশনারি?
— হ্যাঁ।
— আপনি আমাদের দেশকে ধর্মশিক্ষা দেন কেন?
ক্যালকিনস একই প্রশ্ন ছুড়ে দেন বিবেকানন্দর দিকে— ‘আপনি আমাদের দেশকে ধর্মশিক্ষা দেন কেন?’
কয়েক মুহূর্তের নীরবতা। তার পর দু’জনেই ফেটে পড়েন অট্টহাসিতে।
ক্যালকিনস সাহেবের সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ বিবেকানন্দ-চর্চায় তেমন উদ্ধৃত না হলেও তা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্যালকিনস তার আগে বা পরে, কখনওই বিবেকানন্দ-মণ্ডলীর অংশ ছিলেন না। কয়েক দিনের কথালাপের পর তিনি বিবেকানন্দ সম্পর্কে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছন, তা এই রকম— ‘বিবেকানন্দ দার্শনিক যতটা, তার থেকেও বেশি দেশপ্রেমিক। আমার মনে হয়, তিনি মনে করেছিলেন ভারতীয় নেশনকে গড়ে তোলার জন্য বেদান্ত প্রচারই সব থেকে নিশ্চিত কৌশল, এবং তার জন্যই তা নিয়ে তাঁর এত প্যাশন। আমার মনে হয় তাঁর এই ধারণা ঠিক ছিল না, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর দেশপ্রেমকে যখন চিনতে পারলাম, আমার প্রাথমিক খারাপ-লাগা সম্পূর্ণ মুছে গেল’ (অনুবাদ লেখকের)। ঠিক-ভুলের বিচার নিয়ে যে তর্কই থাকুক, বিবেকানন্দকে চিনতে ক্যালকিনস ভুল করেননি। এক দিকে ধর্ম এবং অন্য দিকে দেশ, বিবেকানন্দ প্রায় সারা জীবনটাই অতিবাহিত করেছেন এই দুই আইডিয়াকে এক বিন্দুতে নিয়ে আসার উদ্যোগে। এবং এটিই তাঁর অসংখ্য স্ববিরোধিতার উৎস। তাঁর প্রখর সততা এবং স্বচ্ছ দৃষ্টি এই স্ববিরোধিতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে, তাঁর ভক্তকুলের বাইরে একাংশের কাছে এটাই হয়ে উঠেছে তাঁর ট্রেডমার্ক। অথচ প্রকৃত প্রস্তাবে উনিশ শতকের প্রায় কোনও ব্যক্তিত্বই এই দোলাচল থেকে মুক্ত হতে পারেননি।
উনিশ শতকে নবজাগরণ হয়েছিল নাকি হয়নি, এ নিয়ে বাঙালি প্রচুর ত্যানা পেঁচিয়েছে। একুশ শতকের সিকি ভাগ পেরিয়ে তা নিয়ে অ্যাকাডেমিক চত্বরে ছানবিন চলতে পারে, কিন্তু অন্যত্র তা নিয়ে অতিরিক্ত বাক্য ব্যয় নিরর্থক। কিন্তু যা নিয়ে বিশেষ মতভেদ নেই তা হল, ওটা ছিল এমন এক তোলপাড়ের কাল যা তৈরি করে দিয়েছিল পরবর্তী সময়ে বাঙালি সমাজের ধাঁচা। সচেতন ভাবেই ‘বাঙালি’ শব্দটা ব্যবহার করলাম, কারণ পশ্চিমি ঔপনিবেশিক শাসনের প্রবল ধাক্কাটা লেগেছিল সমাজের সব স্তরেই। বদলে যাচ্ছিল সব কিছু। একুশ শতকে পৌঁছে ‘তোলপাড়’ শব্দটা খুবই একমাত্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিছিল-মিটিং-আন্দোলন আর ক্ষমতা দখলের রাজনীতির অনুপস্থিতিতেও সময়টা যে আমূল পাল্টাতে পারে, তা এখন জনচেতনায় ম্রিয়মাণ।
কিন্তু সেই সময়টায় নতুন ব্রিটিশ শাসক এবং তাদের শোষণ ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের সঙ্গে ক্রমাগত যে বোঝাপড়া করতে হয়েছিল বাঙালিকে এবং বৃহত্তর প্রেক্ষিতে ভারতীয় উপমহাদেশকে , তাতে আধুনিক রাজনীতির বিশেষ চিহ্ন ছিল না, তার জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট পথও বেঁধে দেয়নি কেউ। এই বোঝাপড়াটা এক-একজনকে এক-এক ভাবে করতে হয়েছে, এবং তা করতে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিপুল দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং স্ববিরোধিতা। তবে যা সে যুগের প্রায় প্রত্যেক শিক্ষিত যুবককে তাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়েছে, তা হল আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। বিলেত থেকে কিছু লোক সৈন্যসামন্ত নিয়ে ঘাড়ের উপর উড়ে এসে জুড়ে বসায় তাদের থেকে নিজেদের আলাদা করার একটা তাগিদ তৈরি হয়। স্রেফ ধর্ম আর জাতপাত দিয়ে এই গণ্ডি বাঁধা যাচ্ছিল না, ফলে ‘ভারতীয়’ বিশেষণটা জরুরি হয়ে ওঠে। তখনই প্রশ্ন দেখা দেয়, ‘ভারতীয়’ বলতে কী বোঝায়। নিজেকে চিনে নেওয়ার এই টানাপড়েনকে যদি রক্তমাংসের চেহারা দেওয়া যায়, তার নাম হবে নরেন্দ্রনাথ দত্ত, এবং স্বামী বিবেকানন্দ।
তার শুরুটা যদিও কলেজ-জীবনেই। অনেকেরই মনে হতে পারে, ধর্ম নিয়ে এত মাতামাতি কীসের। সময়টা ছিল তেমনই। ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের প্রিন্সিপাল কামাখ্যাচরণ মিত্র বিবেকানন্দের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখছেন, ‘আজকাল যেমন দেশের মানুষের মূল আগ্রহ রাজনীতিতে, আমাদের বাল্যকালে সব থেকে বেশি আগ্রহ ছিল ধর্ম নিয়ে। সে সময়টা ছিল প্রবল ধর্মীয় আন্দোলন এবং বিতর্কের’। এক দিকে ব্রাহ্মরা, অন্য দিকে শশধর তর্কচূড়ামণিদের নেতৃত্বে পুনরুত্থানবাদী হিন্দু ধর্ম, এবং তারই পাশাপাশি থিয়োজ়ফিস্টদের প্রচার— এই আবর্তে জড়িয়ে পড়েছিলেন সে সময়ের শিক্ষিত হিন্দু বাঙালি যুবকরা। নরেন্দ্রনাথ দত্তও জর্জরিত হচ্ছিলেন একই প্রশ্ন নিয়ে। নরেন্দ্রনাথের সহপাঠী ব্রজেন্দ্রনাথ শীল তাঁর স্মৃতিচারণে এঁকেছেন এক প্রশ্নাতুর যুবকের ছবি। তাঁর মনোজগৎকে আখ্যা দিয়েছেন ‘বোহেমিয়ান’। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ‘বোহেমিয়ান’ শব্দটির ব্যঞ্জনা ছিল রোম্যান্টিক— সাহিত্য ও শিল্পে যারা গতানুগতিকতার থেকে নিজেদের আলাদা করতে চায়।
স্মৃতিচারণের শেষ পর্বে ব্যবহার করেছেন আরও দু’টি বিশেষণ— ‘ফ্রি থিঙ্কার’ অর্থাৎ মুক্তচিন্তক এবং ‘আইকনোক্লাস্ট’ অর্থাৎ কালাপাহাড়। তাঁর এই মুক্তচিন্তার ভার মনে হয় নরেন্দ্রনাথ নিজেও সহ্য করতে পারছিলেন না। কোনও এক অনির্দেশ্য ধ্রুবসত্যকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তাঁর এই যে ছটফটানি, তাতে বাহ্যিক ইন্ধন জুগিয়েছিল তাঁর পিতার আকস্মিক মৃত্যু এবং হতদরিদ্র অবস্থায় চাকরির খোঁজে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো। শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্রনাথকে নোঙর ফেলতে হয়েছিল রামকৃষ্ণের শান্ত পদচ্ছায়ায়। দক্ষিণেশ্বরে পেয়েছিলেন অফুরন্ত প্রশ্রয় এবং অগাধ ভালোবাসা। কিন্তু এ সবই ব্যক্তিগত আবেগের স্তরে। বৌদ্ধিক ভাবনার ক্ষেত্রে রামকৃষ্ণের নিঃশর্ত ঈশ্বরভক্তি তাঁর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শুরু হল অন্বেষণের এক নতুন পর্ব।
লক্ষ্য ছিল একটাই— ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে পশ্চিমের সামনে। যেনতেনপ্রকারেণ। অপমানের জ্বালাও ছিল। তাঁর অনুজ মহেন্দ্রনাথ দত্তের লেখায় জানতে পারি, তাঁদের বাল্যকালে মিশনারি পাদ্রিরা রাস্তা রাস্তায় যাচ্ছেতাই ভাষায় হিন্দু ধর্মকে গালমন্দ করত। কী ভাবে মোকাবিলা করা যায় পশ্চিমকে? প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে আমেরিকা যে অনেক এগিয়ে গেছে, এবং রাষ্ট্রনীতি ও সরকার পরিচালনায় ইংল্যান্ড, এমনই বার্তা এসে পৌঁছেছিল সে যুগের যুবকদের কাছে। অতঃপর হাতে পড়ে ছিল ধর্ম, অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম। তাকে হাতিয়ার করেই এগোলেন বিবেকানন্দ।
কিন্তু যে মানুষটি সারা ভারত ঘুরে বেরিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রায় কপর্দকশূন্য অবস্থায়, তিনি খুব স্পষ্ট ভাবেই জানতেন হিন্দু ধর্মের অন্ধকার দিকগুলো। বৈদান্তিক দর্শনের তথাকথিত শ্রেষ্ঠত্ব এবং হিন্দু ধর্মের পরধর্মসহিষ্ণুতার যে তত্ত্ব তিনি প্রচার করে চলেছেন, তার সঙ্গে তিনি কী করে মেলাবেন জাতপাত প্রথার বীভৎসতা, নারীদের অবমাননা এবং সর্ব স্তরে ব্যাপ্ত ছুতমার্গ এবং ধর্মীয় কুসংস্কারকে? তাঁর স্ববিরোধ সব থেকে প্রকট হল তত্ত্ব ও বাস্তবকে মেলানোর দুঃসাধ্য কর্মসূচিতে।
তিনি পণ করেছিলেন যে পশ্চিমের সামনে তিনি কিছুতেই ভারতকে খাটো হতে দেবেন না। ফলে, এমন অনেক কিছুর সপক্ষে তাঁকে যুক্তি সাজাতে হয়েছিল, যাকে ইংরেজিতে বলা যায় ‘ইনডিফেন্সিবল’। আবার দেশের শ্রোতাদের সামনে তিনি ততটাই তিক্ত এবং ক্রুদ্ধ হিন্দু ধর্মের অধঃপতনের কথা বলতে গিয়ে। এই দ্বন্দ্ব বেজায় স্পষ্ট জাত-পাতের ক্ষেত্রে। যে মানুষটি বলছেন ‘যে দেশে কোটি কোটি মানুষ মহুয়ার ফুল খেয়ে থাকে আর দশ বিশ লাখ সাধু আর ক্রোর দশেক ব্রাহ্মণ ওই গরিবদের রক্ত শুষে খায়…’, তিনিই আবার বলছেন, ‘ব্রাহ্মণেতর জাতিকে আমি বলিতেছি— অপেক্ষা কর ব্যস্ত হইও না।… তোমরা নিজেদের দোষেই কষ্ট পাইতেছ।’ ব্রাহ্মণ্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে মানুষ খড়্গহস্ত, তিনিই আবার ওকালতি করেন বর্ণাশ্রমের সপক্ষে। তবে এই বর্ণাশ্রমের সঙ্গে বাস্তবের কোনও যোগ নেই, এটি এক ইউটোপিয়া, বিবেকানন্দ-কল্পিত ‘ডিভিশন অফ লেবার’।
ইতিহাসের দ্বান্দ্বিক চলনকে হেগেল তিনটি পর্বে ভাগ করেছিলেন— প্রস্তাব (থিসিস), প্রতিপ্রস্তাব (অ্যান্টি-থিসিস) এবং সংশ্লেষ (সিন্থেসিস)। স্বামী বিবেকানন্দ শুরু করেছিলেন হিন্দুধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করার প্রস্তাব দিয়ে, শিকাগোর পার্লামেন্ট অফ রিলিজিয়ন-এ। সেখান থেকে জীবনের শেষ ভাগে তিনি কী ভাবে ‘প্র্যাকটিকাল বেদান্ত’ পর্বে পৌঁছলেন, তা দেখিয়েছেন হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিবেকানন্দ-গবেষক জ্যোতির্ময় শর্মা। জ্যোতির্ময় সর্বার্থেই নির্মোহ বিশ্লেষক। তিনি বলছেন, ‘বিবেকানন্দর প্র্যাাকটিকাল বেদান্ত, তিনি নিজে হিন্দু ধর্মের যে পরিশোধিত নতুন সংজ্ঞা দিয়েছিলেন, এমনকী তাকেও আঘাত করে। প্র্যাকটিকাল বেদান্তে রুটির স্থান ঈশ্বরের উপরে, ব্রাহ্মণের পরিবর্তে ‘প্রোলেতারিয়েত’-এর অগ্রাধিকার, সেখানে জ্ঞানের আধিপত্যের উপর সেবাধর্ম এবং উপনিষদের চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্বের উপর প্রেমের আসন’। তবে এই পর্বটি ক্ষণস্থায়ী, ইতিহাস এর থেকে বেশি এগোয়নি তাঁর অকালপ্রয়াণের দরুণ। রবীন্দ্রনাথকেও পাল্টাতে হয়েছে, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের রবীন্দ্রনাথ আর ‘ঘরে বাইরে’র রবীন্দ্রনাথ দুই আলাদা মানুষ। কিন্তু তিনি ভাবনাতে থিতু হওয়ার অবকাশ পেয়েছিলেন। আমরা জানি না ১৯০২ সালের পর বিবেকানন্দ নতুন ভারত ও তার রাজনীতির সঙ্গে কী ভাবে বোঝাপড়া করতেন।
যেখানে রবীন্দ্রনাথ তাঁর শালীনতা ও সম্ভ্রম নিয়ে অনেক দূরের এক অলৌকিক পর্বতের মতো ছায়া দিতে থাকেন, বিবেকানন্দ তাঁর যাবতীয় স্ববিরোধ, মানসিক বেদনা, রাগ-অভিমান, কলকাত্তাইয়া ঠাট্টা-মশকরা, ধূমপানের নেশা নিয়ে পাশে এসে বসেন, প্রবল তর্ক জোড়া যায় তাঁর সঙ্গে, তাঁর হাত ধরলে উনিশ শতকের ক্রান্তিলগ্নকে অনেক সহজে ছোঁয়া যায়। তাঁর গেরুয়া বসনের আড়ালে উঁকি মারেন এমন এক যুবক, যিনি বন্ধু হতে পারেন। অজস্র মানসিক ঘাত-প্রতিঘাতের পথ চলতে চলতে শেষ জীবনে তিনি যখন নির্জনতা-প্রত্যাশী, পোষ্য জন্তুদের সঙ্গেই তাঁর যাবতীয় খুনসুটি, তাঁর কণ্ঠ থেকে নির্গত হয় শেষ প্রহরের সুর, যা এক অর্থে হয়তো একটি বিশেষ সময়ের অন্তিম উচ্চারণও বটে — ‘এই তো জগতের চেহারা— একটা কদর্য পশুর মৃতদেহ। যে মনে করে, এ জগতের উপকার করব, সে একটা আহাম্মক।… আমার নেতৃত্বের ভিতর প্রভুত্বস্পৃহা আসত। এখন সে-সব উড়ে যাচ্ছে, আর আমি সকল বিষয়ে উদাসীন হয়ে তাঁর ইচ্ছায় ঠিক ঠিক গা-ভাসান দিয়ে চলেছি। যাই! মা, যাই!… অভিনেতার ভাব সম্পূর্ণ বিসর্জন কেবলমাত্র দ্রষ্টা বা সাক্ষীর মতো ডুবে যেতে আমার দ্বিধা নাই। আহা, কি স্থির প্রশান্তি!’