রেকর্ড: দিল্লি থেকে লক্ষ টন পেট্রল কিনল মস্কো

অয়ন্তিকা সাহা   ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই দেশে পেট্রল উৎপাদন কমেছে। ফলে বিশ্বে পরিশোধিত তেলের রপ্তানিকারী সব থেকে বড় দেশকেই এখন....

অয়ন্তিকা সাহা

 

ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই দেশে পেট্রল উৎপাদন কমেছে। ফলে বিশ্বে পরিশোধিত তেলের রপ্তানিকারী সব থেকে বড় দেশকেই এখন বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রল আমদানি করতে হচ্ছে। আর এই সঙ্কটে জোগানদারের ভূমিকা পালন করছে ভারত। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অগস্টে রাশিয়া রেকর্ড ১ লক্ষ ৭২ হাজার টন তৈলজাত পণ্য আমদানি করেছে। যার প্রায় ৭০ শতাংশই ভারত থেকে গিয়েছে।

এর মধ্যে ভারত থেকে রাশিয়ায় গিয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টন পেট্রল, যার মূল্য প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ ইউরো। পুরো পেট্রলই গুজরাতের ভাদিনার শোধনাগার থেকে রপ্তানি করা হয়েছে। তাৎপর্যের বিষয়, এই শোধনাগারের ৪৯.১৩ শতাংশ মালিকানা রয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা রসনেফ্ট-এর হাতে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৬-এর প্রথম আট মাসে ভাদিনা যে অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করেছে, তার পুরোটাই রাশিয়া থেকে এসেছে। অর্থাৎ, রুশ তেল ভারতে এসে পরিশোধিত হয়ে আবার জ্বালানি হিসেবে রাশিয়াতেই ফিরে যাচ্ছে।

 

সিআরইএ-র মতে, অগস্টে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের রেকর্ডের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি এবং ২০২৫-এর সারা বছরের আমদানির প্রায় তিন গুণ। রাশিয়ার আমদানি করা মোট তৈলজাত পণ্যের ৭৪ শতাংশই ছিল পেট্রল। ইউক্রেনের হামলায় সে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রতিফলন এই পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

ভারত থেকে পাঠানো জ্বালানি মিশরের উপকূলের কাছে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তর করে পরে রাশিয়ার বেলোয়ে মোর বন্দরে পৌঁছেছে বলেও দাবি সিআরইএ-র।