২৫২টি আন-এডেড মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশে উদ্বেগ, স্বীকৃতির দাবি জামাআতের

রাজ্যের ২৫২টি আন-এডেড মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশ সংক্রান্ত খবর ঘিরে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল জামাআতে ইসলামী হিন্দ। কিসের ভিত্তিতে এই মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি বাতিল বা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু....

রাজ্যের ২৫২টি আন-এডেড মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশ সংক্রান্ত খবর ঘিরে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল জামাআতে ইসলামী হিন্দ। কিসের ভিত্তিতে এই মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি বাতিল বা বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ডঃ মসিহুর রহমান এক বিবৃতিতে জানান, রাজ্যের বহু আন-এডেড মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদনের জন্য আবেদন জানিয়ে এলেও তা অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, আন এডেড মাদ্রাসাগুলিকে বন্ধ না করে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তাদের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে আর্থিক অনুদান দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

​সংবিধানের মৌলিক অধিকারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সংবিধানের ৩০ (১) ধারা অনুযায়ী যে কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কায়েম করতে পারে ও তার পরিচালনা করার এখতিয়ার রাখে। যা সংবিধান সম্মত ও মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত তার উপর সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সারা ভারতে মাদ্রসা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে, কেবল পশ্চিমবঙ্গে নয়। একে মূল ধারার বিরোধী বলা যেতে পারে না। যা সংবিধান সম্মত তা মূল ধারার সঙ্গে দ্বন্দ্বমূলক হতে পারে না।”

বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, “মাদ্রাসায় সাধারণ বিষয়গুলি-সহ ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়, যাতে পড়ুয়াদের চরিত্র নির্মাণ হতে পারে। সংকীর্ণতা ও কুসংস্কারের ভীতকে সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। বিজ্ঞানের সঙ্গে কোন যুগেই ইসলামী শিক্ষার বিরোধ ছিল না, বরং ইসলামী সেমিনারি তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অতীতে বিজ্ঞান ও মৌলিক গবেষণায় পৃথিবীকে পথ দেখিয়েছে। ইউরোপ এখান থেকে বিজ্ঞান চর্চার প্রেরণা পেয়েছে। এ কথা ঠিক মাদ্রাসায় প্রকৃতি বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিজ্ঞানের উপর শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক। সেই সঙ্গে কম্পিউটার লার্নিং এর ক্লাস থাকা দরকার। মাদ্রাসাগুলো সেই ব্যবস্থাপনা করছেনা এমনটা নয়। তবে সরকার মাদ্রাসাগুলিকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে সেই ব্যবস্থাপনায় আনুকূল্য প্রদর্শন করতে পারে।”

​বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গরীব, অনাথ ও দুস্থ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার প্রসারে ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে মাদ্রাসাগুলির অবদানকে খাটো করা যায় না। মাদ্রাসাগুলিকে বন্ধ করে দিয়ে অবৈতনকি শিক্ষা গ্রহণের কর্মোদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করলে অশিক্ষা ও নিরক্ষরতা বাড়ার ঝুকি থাকবে। কোন বদ্ধমূল ধারণাকে গ্রহণ না করে উদার মনে মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি ও আর্থিক অনুদানে এগিয়ে আসা সরকারের উচিত বলে মনে করে সংগঠনটি।