হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস বা ডায়াবিটিসের রোগী আছেন ঘরে? জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে ৭টি সরঞ্জাম রাখতেই হবে

রোগ জানান দিয়ে আসে না। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই সময়ে বাড়িতে থাকা সাধারণ কয়েকটি চিকিৎসা-সরঞ্জাম শরীরের কিছু হাল-হকিকতের জানান দিতে পারে দ্রুত। রক্তচাপ....

রোগ জানান দিয়ে আসে না। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই সময়ে বাড়িতে থাকা সাধারণ কয়েকটি চিকিৎসা-সরঞ্জাম শরীরের কিছু হাল-হকিকতের জানান দিতে পারে দ্রুত। রক্তচাপ কত, রক্তে শর্করার মাত্রা কেমন, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক আছে কি না— এমন তথ্য চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার সময়েও কাজে লাগে। বিশেষ করে বাড়িতে বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তি থাকলে কয়েকটি সরঞ্জাম হাতের কাছে রেখে দেওয়া উচিত।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। বাড়ির কোনও যন্ত্রই হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক বা অন্য গুরুতর অসুস্থতা নিশ্চিত ভাবে শনাক্ত করতে পারে না। এগুলি মূলত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে।

 

১. রক্তচাপ মাপার যন্ত্র: রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বেশ উপকারী। বাহুর উপরের অংশে ব্যবহার করা যায়। এতে সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক প্রেশার মাপা যায়। বিশেষ করে বাড়িতে কারও উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগ থাকলে নিয়মিত রক্তচাপের হিসাব রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক মাপ পেতে রক্তচাপ মাপার আগে প্রায় পাঁচ মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকা ভাল। সাধারণত এক মিনিটের ব্যবধানে দু’টি মাপ নেওয়া যেতে পারে। রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি হলে এক মিনিট পরে আবার মাপতে বলা হয়। যদি দেখা যায়, রক্তচাপ বেশিই রয়েছে, এবং তার সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা কথা বলতে অসুবিধাও হচ্ছে, তা হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

 

২. গ্লুকোমিটার: বাড়িতে কারও ডায়াবিটিস থাকলে গ্লুকোমিটার বিশেষ ভাবে কাজে লাগে। আঙুল থেকে অল্প রক্ত নিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তে শর্করার মাত্রা জানা যায়। বিশেষ করে ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমিয়ে দিতে পারে, এমন ওষুধ ব্যবহার করলে এই যন্ত্রটি হাতের কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০-এর নীচে নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। মাত্রা খুব কমে গেলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে।

৩. পাল্‌স অক্সিমিটার: শ্বাসকষ্টের সময়ে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পেতে পাল্‌স অক্সিমিটার ব্যবহার করা হয়। আঙুলে লাগানো এই ছোট যন্ত্রটি রক্তে অক্সিজেনের আনুমানিক মাত্রা এবং হৃৎস্পন্দনের হার দেখায়। অধিকাংশ সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রা সাধারণত ৯৫-১০০ শতাংশের মধ্যে থাকে। তবে হৃদ্‌যন্ত্র বা ফুসফুসের কিছু সমস্যা থাকলে স্বাভাবিক মাত্রার হেরফের হতে পারে। তাই শুধু যন্ত্রের একটি সংখ্যার উপর নির্ভর না করে ব্যক্তির অন্যান্য উপসর্গও দেখা জরুরি।

৪. থার্মোমিটার: বাড়ির প্রাথমিক চিকিৎসা-সরঞ্জামের তালিকায় একটি থার্মোমিটারও থাকা দরকার। জ্বর হয়েছে কি না এবং শরীরের তাপমাত্রা কত, তা সহজেই জানা যায়। তবে শুধু তাপমাত্রা দেখলেই হবে না, জ্বরের সঙ্গে অন্য কী কী উপসর্গ রয়েছে, সেগুলিও খেয়াল করা দরকার। দীর্ঘক্ষণ খুব বেশি জ্বর থাকলে, বিশেষ করে তার সঙ্গে বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৫. স্মার্টওয়াচ বা পোর্টেবল ইসিজি: বাড়িতে হৃদ্‌যন্ত্রের রোগী রয়েছে? তা হলে ইসিজি সমেত একটি স্মার্টওয়াচ বা পোর্টেবল ইসিজি কিনে রাখতে পারেন। কিছু যন্ত্র এক ধরনের ইসিজি রেকর্ড করে, যা পরে চিকিৎসককে জানানো যেতে পারে। তবে এই যন্ত্র হাসপাতালের ইসিজির বিকল্প নয়। বুকে ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন, তা সে ইসিজি-তে যা-ই রিডিং আসুক না কেন।

৬. অক্সিজেন সিলিন্ডার: হৃদ্‌যন্ত্র বা ফুসফুসের কিছু রোগীকে চিকিৎসক বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার বা কনসেনট্রেটর রাখার পরামর্শ দেন। অক্সিজেন কনসেনট্রেটর বাতাস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে, অন্য দিকে সিলিন্ডারে নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন মজুত থাকে এবং তা শেষ হলে আবার ভরাতে হয়। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অক্সিজেন ব্যবহার করা উচিত নয়। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে তবেই। মাত্রাও বলে দেবেন চিকিৎসকই।

৭. নেবুলাইজ়ার: হাঁপানি, সিওপিডি বা ফুসফুসের অন্য যে কোনও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে নেবুলাইজ়ার রাখা যেতে পারে। এই যন্ত্র তরল ওষুধকে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করে, যাতে তা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে পৌঁছোতে পারে।

বাড়িতে এই সরঞ্জামগুলি থাকাটা উপকারী, কিন্তু সেগুলি কী ভাবে সঠিক পন্থায় ব্যবহার করতে হয়, সেটাও জানা দরকার। জরুরি ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকা এবং প্রয়োজন হলে কোন হাসপাতালে যেতে হবে তা আগে থেকে জানা— সবই আপৎকালীন প্রস্তুতির অংশ।