বিজেপি বিরোধিতায় সিপিএমের হাত ধরার বার্তা আগেই দিয়েছিলেন। কথা বলেছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন রাজনৈতিক ‘চাল’ দেখে চমকে গিয়েছিলেন অনেকে। এবার আরও চমক দিয়ে আক্রান্ত বামপন্থী আইনজীবী শামিম আহমেদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে দায়ী করলেন মমতা। শনিবার রাতে শালবনির কাছে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য শামিম আহমেদ-সহ বামপন্থী আইনজীবীদের গাড়িতে হামলা চলে। তাঁদের গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রবিবার এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্যে জঙ্গলরাজ চলছে। প্রশাসনের প্রতি তাঁর বার্তা, রাজনীতি ভুলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
দিন কয়েক আগে গড়বেতায় সিপিএমের পার্টি অফিস ভাঙচুর হয়েছিল। নেপথ্যে বিজেপিকে দায়ী করেছিল সিপিএম। সেখানে বেশ কয়েকজন সিপিএম কর্মী আক্রান্তও হন। শনিবার সন্ধ্যায় তাঁদের দেখতে গড়বেতা গিয়েছিলেন সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী, বার কাউন্সিলের সদস্য শামিম আহমেদ ও বেশ কয়েকজন আইনজীবী। সেখান থেকে ফেরার পথে শালবনির কাছে আক্রান্ত হন তাঁরা। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। রাস্তায় আটকে পড়ে তাঁরা কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সাহায্য প্রার্থনা করেন। তাঁর সহায়তায় শেষমেশ কলকাতায় ফেরেন শামিম আহমেদরা।
ঘটনা নিয়ে সর্বস্তরে নিন্দা শুরু হয়। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপিই এই কাজ করেছে। রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শামিম আহমেদ ও আক্রান্ত বামপন্থী আইনজীবীদের পাশে দাঁড়ান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘অ্যাডভোকেট শামিম আহমেদ, যিনি সবে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর উপর হামলার তীব্র নিন্দা করি। শুনলাম, তাঁকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতেও চাপ দেওয়া হয়েছে। শেষে প্রধান বিচারপতির সাহায্য নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফেরেন। এর আগে ব্যাঙ্কশাল আদালত ও বারুইপুরে আইনজীবীদের উপর হামলাও একইরকমভাবে নিন্দনীয়। পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ চলছে। এই সংস্কৃতি কেউ মেনে নেবে না। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেক পেশার মানুষ যাতে ঠিকমতো নিজেদের কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনা দরকার। বিজেপির গুন্ডাদের এই অত্যাচার আটকাতে প্রশাসনের কাছে আর্জি জানাচ্ছি।’