একটি ফৌজদারি মামলার পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত ও সত্য গোপনের অভিযোগে উত্তর প্রদেশ পুলিশের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছে, তদন্তের নামে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে উত্তর প্রদেশ পুলিশ বাহিনীকেই ভেঙে দেওয়া উচিত এবং রাজ্যের সমস্ত মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) হাতে তুলে দেওয়া উচিত।
বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই পর্যবেক্ষণ দেন। একটি মামলার শুনানিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত প্রশ্ন তোলে, পুলিশের এমন আচরণ চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ কীভাবে তাদের ওপর আস্থা রাখবে?
ঘটনাস্থলে আটক, তবুও এফআইআরে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’!
মামলার নথি অনুযায়ী, একটি অপরাধমূলক ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ঘটনাস্থলেই হাতেনাতে আটক করে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন অভিযোগকারী নিজেই। তবে আশ্চর্যজনকভাবে পুলিশ তাদের প্রাথমিক এফআইআরে (FIR) অভিযুক্ত হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে ‘অজ্ঞাতপরিচয় মোটরসাইকেল আরোহী’ হিসেবে মামলা রুজু করে।
পরবর্তী সময়ে বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ালে এবং হাইকোর্ট তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব করলে পুলিশ চার্জশিটে অভিযুক্তের নাম (তুষার) অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, নাম অন্তর্ভুক্ত করার কিছুদিন পরেই পুলিশ তাকে সম্পূর্ণ ‘ক্লিন চিট’ দিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, জব্দ করার সময় মোটরসাইকেলটিতে কোনো নম্বর প্লেট না থাকলেও তদন্তের নথিপত্রে রহস্যজনকভাবে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর জুড়ে দেওয়া হয়।
‘সবকিছুতেই একটা এজেন্ডা থাকে’: সুপ্রিম কোর্ট
তদন্তের এই চরম অসঙ্গতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণ সামনে আসতেই পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন বিচারপতিরা। শুনানি চলাকালীন আদালত কড়া মন্তব্য করে বলে, “নির্দেশ মানা এক জিনিস, কিন্তু কাউকে বাঁচাতে এভাবে নুয়ে পড়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। অপরাধ ঢাকতে এমন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার নিন্দা করার ভাষা নেই। ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরার পরও কেন তাকে ‘অজ্ঞাত’ দেখানো হলো? আপনারা যেভাবে কাজ করছেন, তাতে মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করবে? আপনাদের তো সবকিছুতেই একটা নির্দিষ্ট এজেন্ডা থাকে।”
ক্ষুব্ধ আদালত আরও মন্তব্য করে, “সবকিছু বন্ধ হওয়ার একটা সীমা থাকা দরকার। এর চেয়ে রাজ্যের সমস্ত তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে দেওয়াই ভালো। তার চেয়ে বরং আমরা ইউপি পুলিশকেই ভেঙে দিই।”
পুলিশ আধিকারিককে আদালতে তলব
উত্তর প্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া হলফনামাকে আদালত ‘একদমই অগ্রহণযোগ্য ও অসন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছে। অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাওয়ার পরও কেন প্রথমে তার নাম গোপন রাখা হলো এবং পরবর্তীতে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হলো—সে বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিককে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।