জাতিগত হিংসার আগুনে পুড়তে থাকা মণিপুরের শাসন ক্ষমতায় এবার নজিরবিহীন গৃহযুদ্ধ। খোদ মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরেই চরম দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লেন দুই উপমুখ্যমন্ত্রী। কুকি বিদ্রোহী সংগঠন কর্তৃক নাগা নাগরিকদের অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় নিজেরই সতীর্থ উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনের পদত্যাগ দাবি করলেন রাজ্যের আরেক উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখো।
দিখোর সরাসরি অভিযোগ, নেমচা কিপগেনের স্বামী থাংবোই কিপগেন কুকি সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট-প্রেসিডেন্ট’ বা কেএনএফ (পি)-এর শীর্ষ নেতা। আর এই সংগঠনের বিরুদ্ধেই ছয়জন নাগা পুরুষকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
‘উপমুখ্যমন্ত্রীর স্বামীর সংগঠন কেন মানুষ মারবে?’
এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখো প্রশ্ন তোলেন, সাংবিধানিক পদে থেকে কীভাবে সতীর্থের পরিবার এমন কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, “নেমচা কিপগেনের স্পষ্ট করে বলা উচিত— ‘আমি রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী, তাহলে আমার স্বামীর দল কেন মানুষের রক্ত ঝরাবে আর লড়াই করবে?’ যদি তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে এই খুনোখুনি বন্ধ করতে না পারেন, তবে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।” দিখো আরও দাবি করেন, অপহৃতদের মধ্যে যাঁরা ছাড়া পেয়েছিলেন, তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে কেএনএফ(পি)-ই সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অপহৃত ছয় নাগাকে হত্যার আগে যখন নিখোঁজ রাখা হয়েছিল, তখন কিপগেনের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
কেন এই অভ্যন্তরীণ সংকট?
মেইতেই, কুকি ও নাগাদের মধ্যে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য রক্ষা করতেই মেতেই সম্প্রদায়ের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচান্দ সিংয়ের অধীনে দুই প্রতিনিধি—নাগা পিপলস ফ্রন্টের (এনপিএফ) লোসি দিখো এবং কুকি সম্প্রদায়ের নেমচা কিপগেনকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি কাংপোকপি সংলগ্ন এলাকায় নাগা ও কুকিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতেই জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ টালমাটাল হয়ে পড়ে।
সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি
দিখো ও আরও সাতজন নাগা বিধায়ক ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে কিপগেনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ‘সাসপেনশন অব অপারেশনস’ (SoO) চুক্তি বাতিলের দাবি তুলেছেন। নাগাদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে সরকারের সঙ্গে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তাঁরা।
দিল্লির হস্তক্ষেপে নজর
দিখো জানিয়েছেন, কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি সামাল দিতে নাগা বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তবে কিপগেনকে সরানো হবে কি না, তা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। যদিও নেমচা কিপগেন ইতিপূর্বে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও তাঁর স্বামীর নেতৃত্বাধীন সংগঠনকে কেন্দ্র করে মণিপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।