কখনও ছবিশিকারিদের সঙ্গে বচসা, কখনও বা বিরক্তির প্রকাশ! এমন নানা কারণে সমাজমাধ্যমে বার বার কটাক্ষের মুখে পড়েছেন জয়া বচ্চন ও হেমা মালিনী। বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রীদের সঙ্গে ছবিশিকারিদের আচরণ ফের আলোচনায়। এ বার প্রবীণ অভিনেত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হলেন হেমা-কন্যা ঈশা দেওল। তাঁর মতে, সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা এবং বেশি সংখ্যক ‘লাইক’ ও ‘ভিউ’ পাওয়ার তাগিদেই অনেক সময় আলোকচিত্রীদের দিয়ে এমন আচরণ করানো হয়।
সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঈশা জানান, ছবিশিকারিদের আচরণের জন্য শুধুমাত্র ক্যামেরার পিছনে থাকা আলোকচিত্রীদের দায়ী করা ঠিক নয়। তাঁদের পিছনেও কাজ করেন এমন কিছু মানুষ, যাঁরা নির্দিষ্ট ধরনের ছবি বা ভিডিয়ো প্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে বেশি নজর কাড়তে চান। বিষয়টি বোঝাতে শিশুদের উদাহরণ টেনেছেন ঈশা। তাঁর কথায়, কোনও শিশু বড় হয়ে কৈশোরে পা দেওয়ার পর যদি তার আচরণ ঠিক না থাকে, তা হলে তার দায় শুধু শিশুটির নয়, অভিভাবকদেরও। একই ভাবে ছবিশিকারিদের আচরণের পিছনেও তাঁদের পরিচালনাকারীদের ভূমিকা রয়েছে। তাই সমস্যার শিকড়ে পৌঁছোনো জরুরি।
এই প্রসঙ্গে নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন ঈশা। তাঁর বক্তব্য, প্রবীণ শিল্পীদের সঙ্গে এমন অসম্মানজনক আচরণ একেবারেই কাম্য নয়। যাঁদের অবদানে আজকের চলচ্চিত্রজগৎ তৈরি হয়েছে, তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত। প্রবীণ অভিনেতারাই এই শিল্পের স্তম্ভ। তাঁদের কাছ থেকেই দর্শক সিনেমার এত সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পেয়েছেন।
ছবিশিকারিদের উদ্দেশে ঈশার পরামর্শ, কোন তারকা তাঁদের সঙ্গে মজার ছলে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ এবং কে এমন আচরণে অস্বস্তি বোধ করেন, সেই পার্থক্য বুঝতে হবে। যাঁরা হাসি-মস্করায় যোগ দিতে পছন্দ করেন, তাঁদের সঙ্গে তেমন আচরণ করা যেতে পারে। কিন্তু যাঁরা তা পছন্দ করেন না, তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সম্মান জানানো প্রয়োজন।
যদিও সাক্ষাৎকারে সরাসরি কারও নাম করেননি ঈশা, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে জয়া ও হেমার অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। আলোকচিত্রীদের সঙ্গে কথা বলার ধরন কিংবা তাঁদের নির্দেশে ছবি তোলার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করায় একাধিক বার সমাজমাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন এই দুই অভিনেত্রী। এ বার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে ‘পাপারাৎজ়ি কালচার’-এর নেপথ্যের ‘সমস্যা’র দিকেই আঙুল তুললেন ঈশা!