দেউলটি স্টেশনের নাম হোক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামানুসারে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর কাছে দরবার হিন্দুমহাসভার

হাওড়া জেলার দেউলটি স্টেশনের কাছে রূপনারায়ণ নদীর তীরে জীবনের একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং সেখানেই রচনা করেছেন বহু কালজয়ী বাংলা সাহিত্য । শরৎচন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত সেই....

হাওড়া জেলার দেউলটি স্টেশনের কাছে রূপনারায়ণ নদীর তীরে জীবনের একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং সেখানেই রচনা করেছেন বহু কালজয়ী বাংলা সাহিত্য । শরৎচন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত সেই দেউলটি স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে তাকে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামানুসারে করার জন্যই দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে দাবী জানালো অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখা । রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই দিল্লীতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রধানমন্ত্রী দপ্তর এবং রেল মন্ত্রকে এই দাবীতে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে হিন্দুমহাসভার রাজ্য কমিটির সদস্যরা ।

 

 

আজ দেউলটি সংলগ্ন শরৎ বাবুর বাসভবনে উপস্থিত থেকে শরৎচন্দ্রের জন্ম সার্ধ শতবর্ষের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই একই দাবী তুলল “অখিলভারত হিন্দুমহাসভা” এবং “স্বজন” নামক সংগঠনের সদস্যরা । হিন্দুমহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন কালজয়ী মহান সাহিত্যিক । সমাজের মিথ্যা নীতি নৈতিকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাই যে মানুষের একমাত্র পরিচয় সেকথা নিজের সাহিত্যের মাধ্যমে বার বার তুলে ধরেছেন তিনি । ওনার লেখা চরিত্রহীন উপন্যাস আমাদের শেখায় সমাজে অন্যের চরিত্রের ত্রুটি অন্বেষণ করা সহজ কিন্ত মানুষের মধ্যে থেকে নিপীড়িত শোষিত মানুষের সেবা করতে গেলে একটি উদার নিরপেক্ষ হৃদয় থাকা প্রয়োজন । তিনি দেবদাস উপন্যাসে তুলে ধরেছেন পার্বতী, চন্দ্রমুখী ও দেবদাসের অপূর্ণ ত্রিকোণ প্রেমের কথা ।

 

 

এই উপন্যাস শিক্ষা দেয় ঠিক সময়ে প্রেম ভালোবাসা বা অনুভূতিকে সম্মান না দিলে সারা জীবন চোখের জল ফেলতে হয় । আবার পথের দাবী উপন্যাস এমন ভাবে পরাধীন ভারতের বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করেছিল যে তাঁরা বুক পকেটে সব সময় ভগবত গীতা ও পথের দাবী রাখতেন । হিন্দুমহাসভার রাজ্য অর্গানাইজেশন সেক্রেটারি অনামিকা মন্ডল বলেন আজকের যান্ত্রিক জীবন থেকে বাঁচতে চাইলে অবশ্যই আমাদের শরৎ বাবুর লেখা সাহিত্য পাঠ করা উচিৎ কারণ সাহিত্যই হলো সমাজের আয়না । স্বজন সংগঠনের সম্পাদক সমাজসেবী চন্দ্রনাথ বোস বলেন দীর্ঘদিন ধরে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে অনুরোধ করছি যাতে দেউলটি স্টেশনের নাম শরৎ বাবুর নামানুসারে পরিবর্তন করা হয় ।

 

 

আমাদের মনে হয় স্টেশনের নাম পরিবর্তন হলেই একমাত্র শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রকৃত সম্মান জানানো হবে । এই বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে হিন্দুমহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি । আজ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে সার্ধ শতবর্ষের অনুষ্ঠানে ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ও চন্দ্রনাথ বোস ছাড়াও অনামিকা মন্ডল, মৃত্যুঞ্জয় বালা, ডক্টর আকবর আলী শাহ, ডক্টর রনজিৎ দাস, হেমন্ত রায়, প্রসূন মিত্র, প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মিত্র, মধুসূদন বাগ সহ একাধিক বিশিষ্ট সমাজসেবী উপস্থিত ছিলেন ।