প্রখর তাপে জীর্ণ নদী, বর্ষায় ফিরে পায় তার দুরন্ত যৌবন, ছোট্ট ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন লুলুং

শীতের শান্ত লুলুংকে যাঁরা দেখেছেন, বর্ষায় তার রূপ দেখলে চমকে যেতে বাধ্য! বর্ষাকলে লুলুং যেন হয়ে ওঠে এক সবুজ ও রুদ্রসুন্দর জলপরী। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় অবস্থিত সিমলিপালের কোলঘেঁষা এই উপত্যকায়....

শীতের শান্ত লুলুংকে যাঁরা দেখেছেন, বর্ষায় তার রূপ দেখলে চমকে যেতে বাধ্য! বর্ষাকলে লুলুং যেন হয়ে ওঠে এক সবুজ ও রুদ্রসুন্দর জলপরী। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় অবস্থিত সিমলিপালের কোলঘেঁষা এই উপত্যকায় শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে পাহাড়ি নদী যেন ফিরে পায় তার দুরন্ত যৌবন। চারপাশে ঝুম বৃষ্টি, লাল মাটির সোঁদা গন্ধ, আর মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি— উইকেন্ডে বর্ষার রূপ উপভোগ করতে লুলুংয়ের চেয়ে সেরা অফবিট গন্তব্য আর কীই বা হতে পারে।

 

বর্ষায় কেন যাবেন লুলুং?

  • নদীর উত্তাল রূপ: গ্রীষ্ম বা শীতের হাঁটু জল, বর্ষায় পরিণত হয় এক গর্জনশীল খরস্রোতা নদীতে। পাথরের খাঁজে জলরাশির আছড়ে পড়ার দৃশ্যে চোখ জুড়িয়ে যায়।
  • প্রাণোচ্ছ্বল ঝরনা: শীতের শুষ্ক ছোট পাহাড়ি ঝোরাগুলো বর্ষায় নতুন প্রাণ পায়। আশপাশের সমস্ত জায়গা সবুজে ছেয়ে যায়।
  • মেঘ-রোদের খেলা: লুলুংয়ের রিসর্টের ব্যালকনিতে বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে পাহাড়ের খাঁজে মেঘ-রোদের খেলা দেখতে দেখতে অবলীলায় সময় বয়ে যায়।
  • একান্তযাপন: বর্ষায় প্রকৃতির নিরিবিলি আমেজ উপভোগ করতে লুলুংয়ের কটেজ বা রিসর্টে বসে বই পড়া ও গান শোনা এক পরম অনুভূতি।

কী কী দেখবেন?

বর্ষায় সিমলিপাল জাতীয় উদ্যানে সাফারি বন্ধ থাকে। তবে আশপাশে দেখার মতো আরও অনেক কিছু রয়েছে। যেমন:

  • সীতাকুণ্ড: বর্ষার জলে সীতাকুণ্ডের ঝরনা ও জলাশয় পূর্ণ যৌবন পায়। সবুজে ঘেরা এই স্থানটি ফটোগ্রাফির জন্য দারুণ।
  • উস্কি ও চাউলভাজা: জঙ্গল ও পাহাড়ের বুক চিরে আসা এই ঝরনাগুলো থেকে জল পড়ার শব্দ বহু দূর থেকে শোনা যায়।
  • আলকাদুর: নির্জনতা ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের কাছে এই গ্রাম স্বর্গ। চাইলে এখানে ছোটখাট ট্রেকও করতে পারেন।

বর্ষায় লুলুং ভ্রমণের জরুরি টিপস

বর্ষাকালে পাহাড়ি ও জঙ্গলের রাস্তায় যাওয়ার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন।

  • লাল মাটি বর্ষায় পিচ্ছিল হতে পারে, তাই ভালো গ্রিপযুক্ত জুতো সঙ্গে রাখুন।
  • জঙ্গলময় অঞ্চল হওয়ায় বর্ষায় জোঁকের উপদ্রব থাকে। পোকামাকড়ের বাড়বাড়ন্ত হয় এই সময়ে। তাই সঙ্গে নুন এবং অ্যান্টি-সেপটিক সলিউশন রাখতে হবে।
  • ছাতা, রেনকোট, টর্চ এবং ছোট লাঠি—সঙ্গে রাখা প্রয়োজন।

 

কী ভাবে যাবেন?

ট্রেন বা সড়কপথে হাওড়া/খড়্গপুর হয়ে ওড়িশার বারিপদা স্টেশনে নামতে হবে। বারিপদা শহর থেকে লুলুংয়ের দূরত্ব মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার, যা গাড়ি বা অটোতে সহজে যাওয়া যায়। চারচাকা নিয়েও যেতে পারেন, তবে বর্ষাকালে ছোট গাড়ি নিয়ে এই পথে গেলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।