জাতীয় শিক্ষানীতির আলো আজও পৌঁছায় না ভূ-স্বর্গের শিশুদের কাছে

“দুহাতে তুষারের পর্দা সরিয়ে ফেলে মুঠো মুঠো হলদে পাতাকে দিয়েছে উড়িয়ে, ডেকেছে রৌদ্রকে,ডেকেছে তুষার-উড়িয়ে-নেওয়া বৈশাখী ঝড়কে, পৃথিবীর নন্দন-কানন কাশ্মীর।”- সুকান্ত ভট্টাচার্য ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর৷ অথচ ভারতের বঞ্চিতের দলে সবার আগে দেখা....

“দুহাতে তুষারের পর্দা সরিয়ে ফেলে
মুঠো মুঠো হলদে পাতাকে দিয়েছে উড়িয়ে,
ডেকেছে রৌদ্রকে,ডেকেছে তুষার-উড়িয়ে-নেওয়া বৈশাখী ঝড়কে,
পৃথিবীর নন্দন-কানন কাশ্মীর।”- সুকান্ত ভট্টাচার্য

ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর৷ অথচ ভারতের বঞ্চিতের দলে সবার আগে দেখা মেলে যাদের নাম৷ জম্মু ও কাশ্মীরের যাযাবর ও পরিযায়ী সম্প্রদায়গুলির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরিকাঠামো আজ ভেঙে পড়ার মুখে। ​ধর্ম, বর্ণ, জাতি এবং লিঙ্গের বেড়াজালে আটকে থাকা ভারতীয় সমাজে বহু মানুষ আজও কাঠামোগতভাবে সুবিধাবঞ্চিত। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক প্রান্তিকতা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে থাকা পড়ুয়াদের জন্য সাম্প্রতিক কালে প্রবর্তিত জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ যেন এক নতুন অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে। নীতিমালার বড় বড় বুলি ও সর্বজনীন শিক্ষার প্রতিশ্রুতির আড়ালে কঠোর বাস্তবচিত্রটি অত্যন্ত নির্মম।

​জম্মু ও কাশ্মীরের সুউচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলের যাযাবর এবং আধা-যাযাবর সম্প্রদায়গুলির (যেমন বাকরওয়াল ও গুজ্জর সম্প্রদায়) জীবনযাত্রা চরম অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে—বিশেষ করে মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত—এই পরিবারগুলিকে জীবিকা তথা ভেড়া-ছাগল ও গবাদিপশু চরানোর তাগিদে সমভূমি বা নিম্নঞ্চল থেকে লাদাখ বা উচ্চ পাহাড়ি চারণভূমিতে পাড়ি জমাতে হয়।

 

​পরিবারগুলির এই বার্ষিক পরিযায়ী স্বভাবের ফলে সবচেয়ে বড় কোণঠাসা অবস্থার শিকার হয় তাদের সন্তানেরা। স্থায়ী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের এই দীর্ঘ ছয় মাসের জন্য সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সমভূমির স্কুল ছেড়ে পাহাড়ে ওঠার পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডি তাদের কাছে অধরা থেকে যায়। ফলস্বরূপ, সহপাঠীদের তুলনায় তারা শিক্ষাগত দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে এবং একসময় বাধ্য হয় ড্রপ আউটের শিকার হতে।