ফারুক আহমেদ
অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্ধশতবর্ষের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার দেউলটি সামতাবেড়ে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে ‘সৃজন’-এর উদ্যোগে এক বিশেষ সাহিত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কথাশিল্পীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্চনা ঘোষ। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন, কবিতা পাঠ, আলোচনা, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সম্মাননা প্রদান। বর্ধমানের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও পরিবেশকর্মী কেতকী মির্জা-কে ‘শরৎচন্দ্র স্মৃতি স্বর্ণ সম্মান-২০২৬’ প্রদান করা হয়। তাঁর হাতে মেমেন্টো, মানপত্র, শংসাপত্র, স্বর্ণ পদক, রৌপ্য তাজমহল এবং শরৎ রচনাসমগ্র সহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়।
একই মঞ্চে ‘শরৎচন্দ্র স্মৃতি রৌপ্য সম্মান’ পান কবি-সাহিত্যিক অরুণাভ বীর। এছাড়াও সম্মানিত হন নন্দন জানা, তন্ময় রানা ও তাপস দে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ও পরিবেশপ্রেমী ড. চন্দ্রচূড় গোস্বামী, সঙ্গীতশিল্পী ড. দীপা দাস, ড. আকবর আলী শাহ, প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মিত্র ও রতন কৃষ্ণ বসু। কবিতা পাঠ করেন কেতকী মির্জা, মৌসুমী চক্রবর্তী, মৈত্রেয়ী ব্যানার্জি।
এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে দেউলটি স্টেশনের নাম শরৎচন্দ্রের নামে করার দাবি ওঠে। ড. চন্দ্রচূড় গোস্বামী জানান, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চন্দ্রনাথ বসু সম্পাদিত ‘সাহিত্য লোক’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাও এদিন প্রকাশিত হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হেমন্ত রায় ও চন্দ্রনাথ বসু।