সৌরভ-সচিনদের হাতে থাকুক ভারতীয় ক্রিকেটের রিমোট কন্ট্রোল! বোর্ডকে বড় প্রস্তাব গাভাসকরের

ভারতীয় ক্রিকেটের খোলনলচে বদলাতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন কিংবদন্তিদের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। ঠিক এই নিয়েই এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (BCCI) বড় বার্তা দিলেন দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর। তাঁর স্পষ্ট....

ভারতীয় ক্রিকেটের খোলনলচে বদলাতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন কিংবদন্তিদের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক।

ঠিক এই নিয়েই এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (BCCI) বড় বার্তা দিলেন দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বোর্ডের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটিতে (CAC) সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সচিন তেন্ডুলকর এবং রাহুল দ্রাবিড়দের মতো অভিজ্ঞদের কাজে লাগানো হোক। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিকাঠামোগত ত্রুটি ঢাকতে ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে এটাই একমাত্র পথ।

দলীপ ট্রফির ত্রুটি ও সিএসি-র হাল

সম্প্রতি দলীপ ট্রফি ফাইনালে ঈশান কিষাণের নেতৃত্বাধীন ইস্ট জোন প্রথম ইনিংসের লিডের উপর ভর করে খেতাব জেতে। ম্যাচ জেতার বদলে লিড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার এই মানসিকতা একেবারেই পছন্দ হয়নি তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী তারকার। ঘরোয়া ক্রিকেটের (Domestic Cricket) এই ‘ত্রুটিপূর্ণ’ নিয়ম গত কয়েক মরসুম ধরেই সমালোচিত হচ্ছে। গাভাসকরের মতে, এবার আইন বদলের সময় এসেছে। আর সে কাজে সিএসি-র জোরালো আওয়াজ তোলা উচিত।

২০২২ সালে অশোক মালহোত্রা, যতীন পরাঞ্জপে এবং সুলক্ষণা নায়েককে নিয়ে তিন সদস্যের সিএসি গড়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই কমিটির অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট উত্তর কারও কাছে নেই। এতদিন তাদের মূল কাজ ছিল জাতীয় দলের কোচ ও নির্বাচকদের বেছে নেওয়া। গাভাসকর চান, এই কমিটির কাজের পরিধি অবিলম্বে বাড়ানো হোক।

সৌরভ-সচিনদের নিয়ে নতুন ব্লু-প্রিন্ট

মিড-ডে পত্রিকায় নিজের কলামে কিংবদন্তি ওপেনার লিখেছেন, ‘আজকাল বিসিসিআইয়ের অন্দরে নির্বাচক কমিটি আর সিএসি ছাড়া আর কোনও কমিটি নেই। এবার বোধহয় সময় এসেছে সিএসি-র পরিধি বাড়ানোর। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি থেকে শুরু করে ভারতীয় ক্রিকেটের যাবতীয় বিষয় এদের নজরে থাকা উচিত। এমন প্রচুর অভিজ্ঞ প্রাক্তন ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁদের দক্ষতা এই কমিটিতে কাজে লাগানো যেতে পারে।’

কমিটিতে কাদের দেখতে চান তিনি?

গাভাসকরের (Sunil Gavaskar) স্পষ্ট জবাব, ‘সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রবি শাস্ত্রী, অনিল কুম্বলে, হরভজন সিং, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ—এই নামগুলো নিয়ে ভাবা হোক না! পাশাপাশি বোর্ডের সভাপতি ও সচিবও এই কমিটিতে থাকবেন।’ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের কেবল আর্থিক নয়, ক্রিকেটীয় কাঠামোগত পেশাদারিত্বও বৃদ্ধি পাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এনসিএ ও মহিলা ক্রিকেটের রূপরেখা

১৯৮৫ সালের বেনসন অ্যান্ড হেজেস কাপজয়ী অধিনায়কের মতে, দ্রাবিড় বা সচিনের মতো ব্যক্তিত্বরা যখন জাতীয় দলের হেডকোচ বা জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির (NCA) প্রধানের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন তার ‘ওজন’ই হবে আলাদা। শুধু পুরুষ ক্রিকেট নয়, মহিলা ক্রিকেটের (Women’s Cricket) জন্যও এমন একটি শক্তিশালী কমিটি গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

গাভাসকরের কথায়, ‘এই কমিটির সঙ্গে যখন জাতীয় কোচ, অধিনায়ক বা এনসিএ প্রধানের বৈঠক হবে, তখন তার গুরুত্ব অপরিসীম। মহিলা ক্রিকেটের জন্যও এমন একটা কমিটি দরকার, যেখানে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার নিখুঁত মিশেল ঘটবে। যা ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

‘এটা কি শুধুই স্বপ্ন?’

সবশেষে একরাশ আক্ষেপ আর প্রত্যাশা মিশিয়ে গাভাসকর (Cricket News) লিখেছেন, ‘শুধু এই ব্যাপারটা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। এটা কি আদৌ কোনও দিন বাস্তবে পরিণত হবে, নাকি শুধুই একটা স্বপ্ন হয়ে থেকে যাবে?’ দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে প্রাক্তনদের যথাযথ ব্যবহারের এই দাবি এখন নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে ময়দানে।