হামলার আশঙ্কা মক্কাতেও, হাউথির সঙ্গে সংঘর্ষে সৌদির একাধিক শহরে ‘রেড অ্যালার্ট’

ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘর্ষ ক্রমশ ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। সৌদির পশ্চিম উপকূল ক্রমাগত ব্যালেস্টিক মিসাইল ছুড়ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এই অবস্থায় জেদ্দা, তইফের পাশাপাশি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের....

ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘর্ষ ক্রমশ ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। সৌদির পশ্চিম উপকূল ক্রমাগত ব্যালেস্টিক মিসাইল ছুড়ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এই অবস্থায় জেদ্দা, তইফের পাশাপাশি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র সম্বলিত মক্কা শহরেও হাউথি-হামলার আশঙ্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করল রিয়াধ প্রশাসন।

আগেই জানা গিয়েছিল হাউথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ‘মোখা’ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিকটবর্তী একটি দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিয়াধের দাবি, বেছে বেছে সৌদির পণ্যবাহী জাহাজগুলিতে হামলা করা হচ্ছে। একই পথে মার্কিন জাহাজগুলিকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে সংকট বাড়ছে সৌদির। এখানেই না থেমে গতকাল সৌদি বিমানঘাঁটি এবং একাধিক শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হাউথিরা।

এই অবস্থায় সৌদি আরবের ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ সিভিল ডিফেন্স’-এর তরফে দুপুর ২টো বেজে ৪৮ মিনিটে (আইএসটি) তইফ, জেদ্দা ও মক্কার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় থাকতে বলা হয়েছে। এইসঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে প্রথমবার মক্কার আকাশপথে শত্রুপক্ষের হামলার ভয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করতে হল। উল্লেখ্য, ইসলাম ধর্মের দু’টি পবিত্রতম তীর্থস্থানের একটি এই মক্কা শহরে অবস্থিত।

যদিও সতর্কতা জারির তিন ঘণ্টা পর সৌদি সিভিল ডিফেন্স দপ্তর এক্স’ হ্য়ান্ডেলে জানায়, “মক্কার বিপদ কেটে গিয়েছে। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা মেনে চলুন। কোথাও ভিড় করবেন না, ভিডিও তোলার চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। জরুরি প্রয়োজনে ৯১১ নম্বরে কল করুন।”

এদিকে সংকটের সময় ‘বন্ধু’ পাকিস্তানের সাহায্য না পেয়ে হতাশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অঙ্গিকারবদ্ধ হয়, কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে বাকিদের উপরেও হামলা বিবেচনা করা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ বাস্তবে হাউথি হামলার পর ইসলামাবাদ বিবৃতি দেয়, সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থ এই নয় যে হাউথিদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পাকিস্তানকে সামরিক পদক্ষেপ করতে হবে। এই ঘটনায় ফের বিশ্বমঞ্চে বেআব্রু পাকিস্তানের ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানী’ কূটনীতি। বাধ্য হয়ে ইজরায়েলের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব।