মুহাম্মদ নাসেরউদ্দিন আব্বাসী
শেরে সাহারা, দ্য লায়ন অব দ্য ডেজার্ট (মরুভূমির সিংহ),
ঔপনিবেশিক ইটালীয়দের ভাষায় মনিফার মাতারি,
লিবীয় বিপ্লবী, ইমাম, লিবিয়ায় ইটালীয় ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সেনুসি তরিকার অধীনে সাইরেনাইকাতে (বর্তমানে পূর্ব লিবিয়া) স্থানীয় প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা, শিক্ষক, জেনারেল, সেনুসি আন্দোলনের সফল শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব,লিবিয়ার জাতীয় বীর, আরব ও ইসলামি বিশ্বে প্রতিরোধের অনন্য প্রতীক, চাদে ফরাসিদের বিরুদ্ধে এবং মিশরে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের মহানায়ক
১৮৫৮ সালের ২০ আগস্ট ইটালি অধিকৃত লিবিয়ার উসমানীয় সাইরেনাইকা অঞ্চলের তোবরুক-এর অদূরে জানজুর শহরে আরব মনিফা উপজাতিতে জন্মগ্রহণ করেন। এই উপজাতিটি সেনুসি তরিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল (যাদের আমির বা রাজা ইদ্রিস আস-সেনুসি-র মতোই লিবীয় আশরাফ বংশ হিসেবে সাব্যস্ত করা হতো)।
শৈশবেই উমর তার পিতা আল মুখতার ইবনে মুহাম্মদ- কে হারানোর ফলে যৌবনের দিনগুলো চরম দারিদ্র্যের মধ্যে অতিবাহিত হয়।মাতা আয়েশা বিনতে মুহারিব- এর অনুরোধে অতঃপর জনৈক শেখ তাকে দত্তক নেন এবং তিনি হোসেন গারিওনির ভাগ্নে শরিফ আল গারিওনির সাথে বন্ধুত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার পিতৃব্য সাইরেনাইক একজন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা ছিলেন। উমর স্থানীয় মসজিদে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন।এরপর সেনুসি তরিকাহ-এর পবিত্র শহর জাখবুবে অবস্থিত সেনুসি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ আট বছর পড়াশোনা করেন।তিনি ইসলামের সফল জনপ্রিয় পণ্ডিত এবং একজন ইমাম ছিলেন। সেনুসি ভ্রাতৃত্বমন্ডলীর অন্তভূক্ত হন।বিভিন্ন গোত্রীয় বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য বিচারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
জাখবুবে. অতিবাহিত করার সময় মুখতারের সাথে সেনুসি আন্দোলনের একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৮৯৫ সালে আল-মাহদি সেনুসি তার সাথে দক্ষিণ
দিকে কুফরা অঞ্চলে পরিভ্রমণ করার পর দক্ষিণে চাদের কারো অঞ্চলে গমন করেন।সেখানে উমরকে ‘জাবিয়াত আইন কাল্ক’-এর শাসক(১৮৯৭-১৯০৩) হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ১৮৯৯ সালে যখন ফরাসি সাম্রাজ্য চাদ আক্রমণ করে, তখন ফরাসিদের হাত থেকে চাদ রক্ষার অভিপ্রায়ে সেনুসি সদস্যদের দলে তিনি প্রেরিত হন। কারণ,সেনুসিদের ধারনা ছিল যে ফরাসিদের এই সম্প্রসারণ মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকায় তাদের ধর্মীয় প্রচার কার্যক্রমের জন্য চরম হুমকি ছিল । ১৯০২ সালে আল-মাহদির মৃত্যুর পর উমরকে পুনরায় উত্তর দিকে আহ্বান করা হয়।
তখন নতুন সেনুসি নেতা আহমেদ শরিফ আস-সেনুসি তাকে উত্তর সাইরেনাইকার সমস্যা বিধবস্ত ‘জাবিয়াত লাকসুর’-এর শায়ক(১৯০২-১৯১১) হিসেবে মনোনীত করেন।
১৯১১ সালে ইটালী-তুর্কী যুদ্ধের সময় অ্যাডমিরাল লুইগি ফারাভেলির নায়কত্বে ইটালীয় নৌবাহিনীর একটি দল লিবিয়ার উপকূলে গমন করে, যা সেইসময় উসমানীয় তুর্কীদের অধীনে ছিল। তুর্কী প্রশাসন ও সেনাদেরকে তাদের অধীনস্থ অঞ্চল ইটালীয়দের হস্তান্তর করতে আদেশ জারি হয়।কিন্তু তুর্কী ও তাদের লিবিয় মিত্ররা আত্মসমর্পণের পরিবর্তে লিবিয়ায় যাত্রা করে। ইটালীয়রা তিন দিন যাবৎ শহরে গোলাবর্ষণ করে। পরে অধিকৃত অঞ্চলকে ইটালীর
অধীনস্থ বলে ঘোষিত হয়। এই ঘটনা ইটালীয় ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনী এবং উমর আল-মুখতারের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা করে।
স্থানীয় ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা থাকায় তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ইটালীয়দের বিরুদ্ধে কাজে লাগান। এই ইটালীয়রা মরু অঞ্চলে যুদ্ধের সাথে পরিচিত ছিল না। মুখতার তার ছোট সৈন্যদল নিয়ে সফল গেরিলা আক্রমণে সফল হন। আক্রমণের পর তার বাহিনী মরুভূমিতে আত্মগোপন করতো। তার বাহিনী দক্ষতার সাথে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, সৈন্যবহরের উপর আক্রমণ চালায় এবং যোগাযোগ ও সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তার গেরিলা পদ্ধতির লড়াইয়ে ইটালীয় সৈনিকরা গভর্নর আর্নেস্ট বমবেলি ১৯২৪ সালে জেবেল আখদারের পার্বত্য অঞ্চলে পাল্টা গেরিলা বাহিনীর জন্ম দেয়, যা বিদ্রোহীদের উপর একাধিক আক্রমণ চালনা করে। মুখতার দ্রুত তার কৌশল পরিবর্তন করে মিশরের সাহায্য পান। ১৯২৭ সালের মার্চে ইটালীয়রা জাঘবুব অধিকার করে। ১৯২৭ থেকে ১৯২৮ পর্যন্ত মুখতার সানুসি
বাহিনীকে শক্তিশালী করেন। তার অভিজ্ঞতা হেতু ইটালীয় গভর্নর জেনারেল আটিলিয়ো তেরুজ্জি উমরকে “ব্যতিক্রমী স্থিরচিত্ত ও অটল ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন” বলে অভিহিত করেন।
১৯২৯ সালে পিয়েত্রো বাদোগলি গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন। উমর আল-মুখতারের সাথে আলোচনায় তাকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে আদেশ জারি হয়। সেই বছরের অক্টোবরে মুখতার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইটালীয় সেনানায়ক রডোলফো গ্রাজিয়ানির সাথে ভয়ংকর সংগ্ৰামের জন্য লিবিয় বিপ্লবীদের পুনরায় একত্রিত করেন।
অতঃপর পরিচালিত সেনা অভিযানে গ্রাজিয়ানির বাহিনী মুখতারের সমীপে পরাজিত হয়। পিয়েত্রো বাদোগলি, এমিলো দা বোনো ও বেনিতো মুসোলিনির সাথে গ্রাজিয়ানি মুখতারের প্রতিরোধ চূর্ণ করতে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সহস্রাধিক মানুষকে উপকূলবর্তী কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে রাখা হয়, গিয়ারাবুবে উপকূল থেকে লিবিয়া ও মিশরের সীমানা রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এর মুখ্য অভিপ্রায় ছিল যাতে মুজাহিদরা কোনো বিদেশী মদত না পায় এবং স্থানীয় জনতার সমর্থন থেকে বঞ্চিত হয়। সানুসিদের প্রতিরোধে গ্রাজিয়ানির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। বিদ্রোহীরা সাহায্য থেকে হতাশ হয় এবং ইটালীয় বিমান দ্বারা আক্রান্ত হয়। স্থানীয় চর ও সাহায্যকারীদের মদতে ইটালীয় বাহিনী স্থলযুদ্ধেও বিদ্রোহীদের উপর
কঠোর হয়।বিপদ সত্ত্বেও মুখতার সংগ্ৰাম অব্যাহত রাখে। ১৯৩১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি অতর্কিত আক্রমণের পর গ্রেপ্তার হন।
মুখতারের প্রতিপক্ষ জেনারেল রডোলফো গ্রাজিয়ানির বর্ণনা অনুযায়ী, “মাঝারি উচ্চতা, সুঠাম, সাদা দাড়ি গোঁফ বিশিষ্ট ব্যক্তি উমর আল-মুখতার ছিলেন প্রত্যুৎপন্নমতি সম্পন্ন, ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞানী, শক্তিসম্পন্ন ও ক্ষিপ্র ব্যক্তি, নিঃস্বার্থ ও আপোষহীন। তিনি খুব ধার্মিক ও দরিদ্র ছিলেন যদিও তিনি সেনুসিদের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।”
ইটালীয় ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে মুখতারের প্রায় ২০ বছরময় সংগ্ৰাম ১৯৩১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি হয়। স্লোনটার সমীপে যুদ্ধে তিনি ভীষণ আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন। তাকে গ্রেপ্তারে সাহায্যকারী স্থানীয় নেতাদেরকে পুরস্কার দেওয়া হয়। তার দৃঢ় ও অবিচল জেলারের উপর প্রভাব বিস্তার করে।মুখতারের জিজ্ঞাসাবাদকারীদের অভিমতে,তিনি কুরআন শরীফ পাঠ করতেন। কাকতালীয় ভাবে
মাত্র তিন দিনের মধ্যেই মুখতারের বিচার শেষ হয়। বিচারের নামে প্রহসনে তাকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর রায়ে তাকে প্রকাশ্যে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদন্ডের আদেশ জারি হয়। ঐতিহাসিকদের অভিমতে, এই বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ছিল না। অন্তিম ইচ্ছা জানতে চাওয়া হলে মুখতার কুরআনের আয়াত “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন” (আমরা আল্লাহর জন্য এবং তার কাছেই ফিরে যাব) পাঠ করেন।উল্লেখ্য,
দীর্ঘ ২০ বছর যুদ্ধের পরে ইটালীয় আক্রমণকারীদের সমীপে পরাজিত হয়ে উমর ৭৩ বছর বয়সে যুদ্ধে আহত হওয়ার পরে বন্দি হন।
ইটালিয়ানরা তাকে তার অনুগামীদের একত্রিত করার জন্য চুক্তি এবং ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি অকাতরে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার বিখ্যাত উক্তি ,”আমরা কখনই আত্মসমর্পণ করবো না। আমরা জিতবো না হলে আমরা মরে যাব”।
ইতিহাস সাক্ষী,মরুর সিংহ নামে খ্যাত উমর মুখতারকে মুসোলিনির ইটালিয়ান সেনা অফিসার জিজ্ঞাসা করেছিল, ” তুমি কি জানো তোমার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড? জবাবে উমর মুখতার বলেছিলেন, হ্যাঁ. ওই অফিসার বললেন, তুমি যা করেছো তার জন্য তুমি কী অনুতপ্ত? উমর মুখতার বললেন, প্রশ্নই হয় না, আমি আমার দেশ আর মানুষের জন্য লড়েছি। সেনা আদালতের বিচারক তার দিকে তাকিয়ে বলে,” তোমার মত লোকের এমন পরিণতি
দেখে আমি দুঃখিত”। উমর মুখতার বললেন, “কিন্তু এটাই তো জীবন শেষ করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ তিনি আমাকে এইভাবে বীরের মত শহীদ হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।” অতঃপর বিচারক প্রস্তাব দেন,” তাকে মুক্ত করে দেওয়া হবে যদি তিনি মুজাহিদদের কাছে চিঠি লেখেন যাতে মুজাহিদরা ইটালিয়ানদের সাথে যুদ্ধ বন্ধ করে”। উমর মুখতার বিচারকের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন:-
“যেই শাহাদত অঙ্গুলি দিয়ে আমি প্রতিদিন সাক্ষ্য দেই যে, এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই। সেই আঙ্গুল দিয়ে অসত্য কোনো কথা লিখতে পারবো না। আমরা এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে আত্মসমর্পণ করি না। আমরা হয় জিতি, না হয় মরি।”
মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ার পূর্বে তার পড়া কুরআনের শেষ আয়াত ছিল- “হে প্রশান্ত আত্মা! “তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে। “অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও।” “আর প্রবেশ কর আমার জান্নাতে।”
১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সুলুকের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে তার অনুগামীদের সামনে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল সত্তর বছর।লিবিয়ার সুলুকে সমাহিত করা হয়।একমাত্র পুত্র মুহাম্মদ আল মুখতার ২০১৮ সালের ১২ জুলাই ৯৭ বছর বয়সে বেনগাছিতে মৃত্যুবরণ করেন।
উমর আল-মুখতারের জীবনের অন্তিম দিনগুলো “লায়ন অব দ্য ডেজার্ট” (১৯৮১) চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
উমর আল-মুখতার ও রডোলফো গ্রাজিয়ানির
মধ্যে বিবাদকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটি তৈরি হয়।
এতে অ্যান্থনি কুইন, অলিভার রিড ও আইরিন পাপাস অভিনয় করেন।
স্বীকৃতি ও নামকরণ–
১৯৬১ সালে উমর আল-মুখতার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়।
১৯৭১ সাল থেকে লিবিয়ার দশ দিনারের নোটে মুখতারের ছবি অঙ্কিত আছে।
২০০৯ সালে লিবিয়ার তৎকালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি রোমে এক রাষ্ট্রীয় সফরকালে ইটালীয়দের হাতে বন্দী মুখতারের একটি ছবি তার বুকে পরিধান করেছিলেন এবং সেই সফরে মুখতারের বৃদ্ধ পুত্রকেও নিজের সফরসঙ্গী করেছিলেন।
২০১১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি লিবীয় গৃহযুদ্ধ সূচনা হলে উমর মুখতার পুনরায় একটি ঐক্যবদ্ধ ও মুক্ত লিবিয়ার প্রতীক হয়ে ওঠেন এবং গাদ্দাফি বিরোধী বাহিনীর বিভিন্ন পতাকা ও পোস্টারে তার ছবি উন্মুক্ত করা হয়। বিদ্রোহী মিলিশিয়ারা তার নামানুসারে তাদের একটি ব্রিগেডের নাম রাখে “উমর মুখতার ব্রিগেড”।
জর্ডানের ইরবিদে মুখতারের নামে একটি স্কুলের নামকরণ করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায় তার নামে একটি মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে, যা ‘মসজিদ উমর আল মুখতার’ নামে সুপরিচিত।
কুয়েত সিটি, কুয়েত (উমর আল-মুখতার স্ট্রিট),
গাজা সিটি (উমর মুখতার স্ট্রিট),
কায়রো, মিশর (উমর আল মুখতার স্ট্রিট),
দোহা, কাতারের ওয়েস্ট বে এলাকা (উমর আল মুখতার স্ট্রিট),
বিজের্তে, তিউনিসিয়া,
রিয়াদ, সৌদি আরব (উমর আল মুখতার রোড),
ইরবিদ, জর্ডান,
তানজাহ, মরক্কো (অ্যাভিনিউ উমর মুখতার),
পেন্দিক, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক,
২০২৩ সাল থেকে তুরস্কে সম্প্রচারিত ‘মাহসুসা: ত্রাবলুসগার্ব’ নামক টেলিভিশন ধারাবাহিকে তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন উগুর পেকতাস।