পুজোয় ঠাকুর দেখায় বাধ সাধতে পারে হাঁটুর যন্ত্রণা, এখন থেকে কী কী ব্যায়াম করলে পা সচল থাকবে

পুজোয় হেঁটে ঠাকুর দেখার আনন্দই বেশি। তবে তাতে বাধ সাধতে পারে হাঁটুর যন্ত্রণা। আর্থ্রাইটিস যাঁদের আছে, তাঁদের সমস্য আরও। কিছু ক্ষণ শুয়ে থাকার পর উঠতে গেলে ব্যথা, বসে থেকে দাঁড়াতে....

পুজোয় হেঁটে ঠাকুর দেখার আনন্দই বেশি। তবে তাতে বাধ সাধতে পারে হাঁটুর যন্ত্রণা। আর্থ্রাইটিস যাঁদের আছে, তাঁদের সমস্য আরও। কিছু ক্ষণ শুয়ে থাকার পর উঠতে গেলে ব্যথা, বসে থেকে দাঁড়াতে গেলে ব্যথা, সিঁড়ি ভাঙতে গেলেও টনটনিয়ে ওঠে হাঁটু। ফলে উৎসবের সন্ধ্যায় ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখতে যেতেও ভয় পান। তাই বলে কি পা বা হাঁটুর ব্যথার জন্য পুজোর সন্ধ্যাগুলো মাটি হবে? একেবারেই নয়। বরং এখন থেকে ব্যথা উপশমের চেষ্টা করুন।

হাঁটুর ব্যথা কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল ব্যায়াম করা। তবে সব বয়সেই কি ব্যায়াম করার মতো শারীরিক অবস্থা থাকে? পঞ্চাশ পেরোলেই কোমর-পা-ঘাড় ও অন্যান্য অস্থিসন্ধির ব্যথা কাবু করে ফেলে অনেককে। ষাট পেরোলে তো কথাই নেই। অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা এসে হানা দিতে থাকে। তার উপর যদি হার্টের রোগ থাকে, তা হলে খুবই সাবধানে চলতে হয়। তাই এমন কিছু ব্যায়াম করতে হবে যা সকলের জন্যই নিরাপদ।

পদ সঞ্চালনাসন

পা সোজা করে ম্যাটের উপর টানটান হয়ে শুয়ে পড়ুন। বাঁ পা মাটিতে সোজা করে রেখে ডান পা হাঁটু থেকে ভাঁজ করে বুকের কাছে আনুন। এ বারে বুকের কাছ থেকে পা সোজা করে উপরের দিকে তুলে নিন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ডান পা মাটির কাছাকাছি নামান। তবে লক্ষ রাখবেন, গোড়ালি যেন মাটি স্পর্শ না করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আবার ডান পায়ের হাঁটু ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে আসুন, এক বারের সাইক্লিং মুভমেন্ট শেষ হল। এক পায়ে সাইকেল প্যাডেল করার সময়ে যে ভাবে পা চালানো হয়, সেই ভাবেই পায়ের সঞ্চালন হবে। এই ভাবে প্রতি পায়ে ৭-৮ বার করে করতে হবে।

একপদ প্রণমাসন

যোগাসনের এই পদ্ধতিটি সহজ। সকলেই করতে পারেন। নিয়ম করে করলে হাঁটুর ব্যথা, সায়াটিকার ব্যথা, পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যা কমে যাবে। ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। শরীর টানটান থাকবে। দুই হাত পাশে রাখুন। এ বারে ডান পা ভাঁজ করে পায়ের পাতা বাম পায়ের ঊরুতে এমন ভাবে ঠেকিয়ে রাখুন, যেন গোড়ালি কুঁচকিতে ঠেকে থাকে। স্বাভাবিক ভাবেই ডান হাঁটু বাইরের দিকে থাকবে। এটি প্রথম ধাপ। এর পর একই ভাবে কাঁধে হাত রেখে ডান দিকে কোমর ঘুরিয়ে হাঁটু না ভেঙে সামনে ঝুঁকুন। ঘাড়, কোমর, শিরদাঁড়া, সবই যেন টানটান থাকে। হাত দু’টি থাকবে কাঁধের সমান্তরালে। এই ভাবে কিছু ক্ষণ দাঁড়াতে হবে। বাঁ পায়ে ভর দিয়ে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। তার পর অন্য পায়েও একই ভাবে আসনটি করতে হবে।

কাফ রেজ়

সোজা হয়ে চেয়ারে বসুন। দুই পা মাটিতে থাকবে। মাথা ও ঘাড় টানটান থাকবে। চেয়ারে হেলান দেবেন না। এ বার বাঁ পা মাটিতে চেপে রেখে ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে ভর দিয়ে গোড়ালি উঁচু করুন। শ্বাস নিতে নিতে কিছুক্ষণ এই অবস্থানে থাকুন। শ্বাস ছেড়ে শুরুর ভঙ্গিতে ফিরে আসুন। একই ভাবে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুলে ভর দিয়ে গোড়ালি উঁচু করে কিছুক্ষণ থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। নিয়মিত করলে পায়ের পেশি জোর বাড়বে, গোড়ালির ব্যথা কমে যাবে।