যাঁর একটি ফতোয়ার জন্য গোটা ভারতবর্ষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত

বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মুফতি হয়েও নিজের জীবিকার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ক্যালিগ্রাফি, বই বাঁধাই আর ইউনানি চিকিৎসার মতো সাধারণ পেশা! . শুনতে অবাক লাগলেও, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ....

বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মুফতি হয়েও নিজের জীবিকার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ক্যালিগ্রাফি, বই বাঁধাই আর ইউনানি চিকিৎসার মতো সাধারণ পেশা!
.
শুনতে অবাক লাগলেও, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ মুফতি আল্লামা শফি (রহ.)-এর জীবন ছিল এমনই এক অনন্য আত্মমর্যাদাবোধ ও কৃচ্ছ্রসাধনার অনুপম দৃষ্টান্ত।
.
আজ বিশ্ববরেণ্য এই মহান আলেম, ফকীহ ও মুফাসসিরের জীবনের আলো ছড়ানো কিছু অধ্যায় নিয়ে কথা বলব, যাঁর লেখনী গোটা বিশ্বের সত্যপিপাসু মানুষের হৃদয়কে যুগ যুগ ধরে আলোকিত করে আসছে।
.
১৮৯৭ সালে দেওবন্দের সম্ভ্রান্ত উসমানী পরিবারে তাঁর জন্ম। আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি ও মাওলানা শাব্বির আহমদ উসমানি (রহ.)-গণের মতো যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের সান্নিধ্যে সুদীর্ঘ ১০ বছর ইলম অর্জন করেন তিনি। ছিলেন চরম বিনয়ী ও বিবাদহীন এক সৌম্য চরিত্রের অধিকারী।
.
বিবাদ এড়াতে একবার মাদরাসার জন্য বরাদ্দ পাওয়া বিশাল ভূখণ্ডও স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছিলেন! নিজের কিতাবের দোকান থেকে সংসার চালানো কঠিন হয়ে ওঠার আগে তিনি মাদরাসা থেকে নামমাত্র সম্মানীও গ্রহণ করেননি।
.
সারাজীবনে তিনি প্রায় ১ লক্ষাধিক ফতোয়া লিখেছেন, যা ‘ইমদাদুল মুফতিন’ নামে ৮ খণ্ডে প্রকাশিত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘দারুল উলুম করাচি’।
.
তবে তাঁর কালজয়ী কীর্তি আট খণ্ডের অনন্য গ্রন্থ ‘তাফসীরে মা’আরিফুল কুরআন’। রেডিও পাকিস্তানে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে দেওয়া তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় বয়ানগুলোই পরবর্তীতে এই রূপ নেয়। অথচ এই দীর্ঘ পথচলায় রেডিও থেকে তিনি একটি টাকাও নেননি!
.
আধুনিক ফিকহী সমাধানের ওপর তাঁর ‘আলাত জাদিদাহ’, কাদিয়ানি ফেতনার খণ্ডনে ‘খাতমে নবুওয়াত’ এবং ‘সীরাত খাতামুল আম্বিয়া’ ইসলামের ইতিহাসে অনন্য সংযোজন।
.
এছাড়া পাকিস্তানের সংবিধানের মৌলিক রূপরেখা ‘অবজেক্টিভস রেজোলিউশন’ প্রণয়নেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
.
তাঁর সহজ ও সাবলীল লেখার ভঙ্গি জটিল বিষয়গুলোকেও প্রাঞ্জল করে তুলত। উর্দু, ফারসি ও আরবি ভাষায় তিনি চমৎকার সাহিত্যপূর্ণ কবিতাও রচনা করতেন।
.
১৯৭৬ সালের অক্টোবরে এই মহান সিংহপুরুষ ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর দুই সুযোগ্য সন্তান—মুফতি রফি উসমানি ও মুফতি তাকি উসমানির মাধ্যমে তাঁর ইলমী ধারা আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।