দিল্লিতে চলতে থাকা ব্রিকস সম্মেলনে কোনো ধরনের কড়া প্রটোকল ছাড়াই সোজা চলে গেলেন দিল্লির ‘ন্যাশনাল ক্রাফটস মিউজিয়াম’-এর ব্রিকস বাজারে!
সাথে ছিলেন তার হাসব্যান্ড হাসান মাজিদি। কালো ট্র্যাডিশনাল আবায়া পড়ে একদম সাধারণ মানুষের মতো ঘুরে বেড়ালেন স্টলে স্টলে। মাটির জিনিসপত্র দেখছেন, তাঁতের কাপড় দেখছেন! আর ওনাকে গাইড করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী।
শুনলে জাস্ট টাস্কি খাবেন, জাহরা কিন্তু শুধু প্রেসিডেন্টের মেয়ে বা কোনো নেপো কিড পরিচয়ে বসে থাকার পাত্রী নন।
জাহরা একজন তুখোড় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ইরানের টপ ক্যাটাগরির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ থেকে কেমিস্ট্রিতে মাস্টার্স করা। তেহরানের বড় বড় পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে নিজের যোগ্যতায় প্রফেশনাল লাইফ লিড করেছেন।
১৯৯৪ সালে এক রোড অ্যাক্সিডেন্টে জাহরার মা আর এক ভাই মারা যান। এরপর তার বাবা মাসুদ পেজেশকিয়ান জীবনে আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। একাই জাহরা আর তার ভাইদের পরম যত্নে বড় করেছেন। এই বাপ-মেয়ের বন্ডিং পুরো ইরানের মানুষের কাছে একটা ইমোশন!
ইরানে অফিশিয়ালি ফার্স্ট লেডি বলে কোনো পদ নাই, আর প্রেসিডেন্টের স্ত্রীও বেঁচে নেই। তাই জাহরা-ই এখন ওনার বাবার প্রধান পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার বা রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। যেখানেই যান, বাবার পাশে ছায়ার মতো থাকেন।
যে ইরানকে দুনিয়া চেনে কঠোর হিজাব আইন আর রক্ষণশীলতার জন্য, সেই ইরানের রিফর্মিস্ট প্রেসিডেন্টের মেয়ে যখন এভাবে গ্লোবাল স্টেজে এসে ওপেনলি মানুষের সাথে মেশেন,ট্র্যাডিশনাল পোশাক পরেও যে কতটা মডার্ন আর লিবারেল হতে পারেন, সেটাই দেখিয়ে দিলেন।
সবচেয়ে বড় কথা, তার বাবা মাসুদ পেজেশকিয়ান হলেন ইরানের সংস্কারপন্থী নেতা। ইরানে নারীদের অধিকার আর হিজাব আইন নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে নানা নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা চলে, তখন জাহরার মতো একজন উচ্চশিক্ষিত, মডার্ন অথচ ট্র্যাডিশনাল নারী যখন গ্লোবাল স্টেজে লিড নেন সেটা কিন্তু ইরানের একটা স্ট্রং সফট ডিপ্লোম্যাসি। দুনিয়াকে ম্যাসেজ দেওয়া যে ইরানও বদলাচ্ছে, ইরানি নারীরা ঘরের কোণে বন্দি থাকার পাত্রী নয়, তারা গ্লোবাল স্টেজে রাজত্ব করতে জানে…..!
শি ইজ নট জাস্ট এ ডটার, শি ইজ এ স্টেটসমেন।