বাংলায় নতুন করে নির্বাচন চাই, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারেরও দাবি মমতার

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বিতর্কে এবার আগুনে ঘি পড়ল! ২০২৫ সালে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকে বঙ্গসহ যে যে রাজ্যে বিধানসভা ভোট সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে পুরোনো ভোটার....

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বিতর্কে এবার আগুনে ঘি পড়ল! ২০২৫ সালে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকে বঙ্গসহ যে যে রাজ্যে বিধানসভা ভোট সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতে পুনরায় নতুন করে নির্বাচন করানোর বিস্ফোরক দাবি তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সরাসরি তোপ দেগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং কমিশনের আইটি ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নাকে বিজেপির এজেন্ট আখ্যা দিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ​এম কে স্ট্যালিন, অখিলেশ যাদব এবং তেজস্বী যাদবের মতো বিরোধী মুখগুলিও বাংলার এই এসআইআর বিতর্ক নিয়ে সরব হওয়ায়, সিইসির বিরুদ্ধে গোটা দেশকে একজোট হয়ে অল-আউট লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন মমতা।

 

​বুধবার নিজের ফেসবুক লাইভে এসে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেল যে, বিজেপি আর নির্বাচন কমিশন যৌথ ভাবে চক্রান্ত করে বাংলার বিধানসভা ভোট ছিনতাই করেছে।” ​একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মমতা বলেন, “নৈতিকতার খাতিরে ওই পদে থাকার কোনো অধিকার ওঁর নেই। ওঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট ইআরও-দের বিরুদ্ধেও। বিজেপিকে গণতন্ত্র ধ্বংসের এই খেলা বন্ধ করতে হবে!” এর পরই তাঁর জোরালো দাবি, “পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই আমরা বাংলায় আবার নতুন করে নির্বাচন চাই। কোটি কোটি মানুষের ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকার আপনারা কেড়ে নিয়েছেন। ভারতীয় গণতন্ত্রে এত বড় ঘোটলা আগে কখনো হয়নি।”

 

​তোপ দাগার সুরে মমতা আরও বলেন, “ক্ষমতা দখল করতে বাংলা, বিহার ও হরিয়ানায় স্রেফ ভোট চুরি করেছে বিজেপি। যদি সাহস থাকে, তবে বিজেপির উদ্দেশ্যে আমার খোলা চ্যালেঞ্জ- বাংলায় আবার অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট করিয়ে দেখাক, দেখি তারা জিততে পারে কি না!” ​সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলনের হুমকি দিয়ে মমতা জানান, “যত দিন না জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো হচ্ছে, আন্দোলন চলবে। শুনেছি রাহুল গান্ধী আর অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই ইস্যুতে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। খুব শীঘ্রই আমরা বৈঠকে বসছি।” ​এসআইআর-এর নামে প্রায় ৯২ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিস্ফোরক দাবি করেন, “ভোটের পর আলিপুরের যে বহুতলে ইভিএম মজুত রাখা ছিল, সেখানে সন্দেহজনক ভাবে আগুন লাগে। বিল্ডিংয়ের প্রথম তিনটে তলার কিচ্ছু হয়নি, অথচ কাকতালীয় ভাবে যে তলায় ইভিএম রাখা ছিল, ঠিক সেখানেই আগুন লেগে মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হলো! কেবল তা-ই নয়, গণনা শুরুর দু’দিন আগেই আমাদের দলের একাধিক কাউন্টিং এজেন্টকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়েছিল। তার পর গণনাকেন্দ্রে আমাদের বাকি এজেন্টদের বার করে দিয়ে দেদার কারচুপি চালানো হয়েছে।”

 

​রাজনৈতিক মহলে এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে শোরগোল পড়তেই আসরে নেমেছে বিজেপি। পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের অন্দরমহলের ঘটনা। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট আইনি বা প্রশাসনিক ফোরামে জানানো উচিত। নির্বাচন কমিশন একটি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। বাইরে থেকে এসব মন্তব্য করে আখেরে কোনো লাভ হবে না।”