ইস্তানবুলের দুই বিশ্ববিখ্যাত বাজারের গল্প

পায়েল সেনগুপ্ত   প্রথম বার যখন গ্র্যান্ড বাজারে ঢুকেছিলাম, সকালের রোদ তখনও পুরোপুরি ভিতরে ঢোকেনি। গম্বুজের নীচে হালকা ছায়ায় দোকান খুলছিল বিক্রেতারা। কোথাও মশলার ঘ্রাণ ভেসে আসছে, কোথাও ধাতু ঘষার....

পায়েল সেনগুপ্ত

 

প্রথম বার যখন গ্র্যান্ড বাজারে ঢুকেছিলাম, সকালের রোদ তখনও পুরোপুরি ভিতরে ঢোকেনি। গম্বুজের নীচে হালকা ছায়ায় দোকান খুলছিল বিক্রেতারা। কোথাও মশলার ঘ্রাণ ভেসে আসছে, কোথাও ধাতু ঘষার শব্দ। এক দোকানের সামনে থেমে গেলাম। ঝুলছে রঙিন লন্ঠন, আলো তাদের ভিতর দিয়ে কাচে কাচে ছড়িয়ে পড়ছে। মনে হচ্ছিল আমি কোনও রূপকথার ভিতর এসে পড়েছি। এক জন বৃদ্ধ বিক্রেতা এগিয়ে এলেন, বললেন, “ওয়েলকাম টু দ্য মেজ়, মাই ফ্রেন্ড!”

আমি হাসলাম, কারণ সত্যিই, এটা যেন এক গোলকধাঁধা, যেখানে পথ হারানোই আসল আনন্দ। এক কাপ তুর্কিশ চা হাতে নিয়ে আমি বসে পড়লাম এক কার্পেটের দোকানে। দোকানদার তার বাবার কথা বললেন, যিনি এক সময় এই একই দোকানে সুলতানের জন্য কার্পেট বুনতেন। প্রতিটি গল্প যেন ইতিহাসের এক টুকরো। যে কেউ প্রথম বার এখানে এলে খানিকটা বিভ্রান্তই হয়, এত গলি, এত দোকান, এত শব্দ! কিন্তু কিছু ক্ষণ পরেই মনে হয়, এ যেন এক জীবন্ত রূপকথা। আপনি কার্পেটের দোকানে বসে কফি খাচ্ছেন, পাশেই তুর্কি বিক্রেতা গলা মেলাচ্ছেন এক পুরনো লোকগানে। আলো ঝলমল করছে রঙিন লন্ঠনে, আর দেয়ালের পুরনো পাথর যেন আপনাকে বলে উঠছে, “আমার মধ্যে শতাব্দর গল্প আছে।”

ইস্তানবুল শহর নিজেই এক ইতিহাসের ধনভান্ডার, ইউরোপ আর এশিয়ার সংযোগস্থলে দাঁড়ানো এই শহরটি যেন দুই মহাদেশের মেলবন্ধনের প্রতীক। আর এই শহরের প্রাণের কেন্দ্রবিন্দু বলা যায় গ্র্যান্ড বাজার বা কাপালচারসি, যার অর্থ, ‘ঢাকা বাজার’। বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম আচ্ছাদিত বাজারগুলির অন্যতম এটি, যেখানে পা রাখলেই মনে হয়, ইতিহাস আজও নিঃশ্বাস ফেলছে মশলার গন্ধে, ধাতুর ঝঙ্কারে আর বিক্রেতাদের উচ্ছ্বাসে।

 

 

গ্র্যান্ড বাজারের জন্ম তুরস্কের বিখ্যাত অটোমান সাম্রাজ্যের শুরুর দিকে। ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর সুলতান মেহমেদ দ্য কনকারারের নির্দেশে এই বাজার নির্মাণ শুরু হয়। উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোকে মজবুত করা, আর একই সঙ্গে শহরকে এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত করা। প্রথমে ১৪৫৫ সালে একটি ছোট আচ্ছাদিত ভবন তৈরি হয়, যাকে বলা হত বেদেস্তেন, মূলত যেখানে মূল্যবান পণ্য যেমন সোনা, রূপা, রেশম, রত্ন, আর মুদ্রা লেনদেন হত। পরবর্তী শতকগুলোতে বাজারটি ক্রমে সম্প্রসারিত হতে থাকে। একে ঘিরে গড়ে ওঠে দোকান, সরাইখানা, মসজিদ, স্কুল, এমনকি গোসলখানাও। সময়ের সঙ্গে এই ছোট বাণিজ্য কেন্দ্র পরিণত হয় এক বিশাল নগর–বাজারে, যেখানে তখনকার প্রায় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যেত। গ্র্যান্ড বাজার আজও এক বিস্ময়। প্রায় ষাটটিরও বেশি রাস্তা এবং চার হাজারেরও বেশি দোকান নিয়ে এটি যেন এক শহরের মধ্যে আর-এক শহর। এর উপরিভাগ সম্পূর্ণ ভাবে ঢেকে রাখা,  সেই থেকেই ‘ঢাকা বাজার’ নাম। বিশাল পাথরের গম্বুজ, খিলানওয়ালা ছাদ, সরু করিডোর আর অলিগলির জটিল বিন্যাসে এখানে ঘুরে বেড়ানো মানে সময়ের গহ্বরের মধ্যে হাঁটা।

 

প্রতিটি রাস্তার নিজস্ব পরিচয় আছে। এক রাস্তায় কার্পেট বিক্রি হয়, অন্যটিতে গয়না, কোথাও রেশম বা চামড়ার পণ্য, আবার কোথাও প্রাচীন সামগ্রী। আজও অনেক দোকানের দরজায় সুলতানদের আমলের কাঠের খোদাই চোখে পড়ে। ইতিহাসবিদেরা বলেন, গ্র্যান্ড বাজারের স্থাপত্য রোমান, বাইজান্টাইন ও ইসলামি শৈলীর এক অনন্য মিশ্রণ। বাজারের পাঁচশো বছরের বেশি জীবনে বহু বার ধ্বংস এসেছে— আগুনে, ভূমিকম্পে, রাজনৈতিক অস্থিরতায়। ১৫৮৮, ১৬১৮, ১৭০১, ১৭৫০ ও ১৮৯৪ সালের ভূমিকম্প বাজারকে প্রায় ধ্বংস করে দেয়। প্রতি বারই শহরের মানুষ, কারিগর ও ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে বাজারকে নতুন করে গড়ে তোলেন। শেষ বড় সংস্কার হয় ১৮৯৪ সালের পরে, যখন এর আধুনিক রূপটি গড়ে ওঠে, যেটি আমরা আজ দেখি।

 

গ্র্যান্ড বাজারে হাঁটলে মনে হবে এক শিল্পপ্রদর্শনী চলছে। চকচকে তুর্কিশ ল্যাম্প, নীল-সাদা ইজনিক টাইলস, সূক্ষ্ম কাজের কার্পেট ও কিলিম, রুপোর অলঙ্কার, হাতে আঁকা সেরামিক, সব মিলিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। আর-এক পাশে পুরনো মুদ্রা, ঘড়ি, হাতেলেখা পাণ্ডুলিপি বা প্রাচীন অস্ত্র বিক্রি হয়। কিছু দোকান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এক পরিবারই চালিয়ে আসছে। এমন অনেক দোকান আছে যাদের ইতিহাস তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো। গ্র্যান্ড বাজার মানে রং, গন্ধ আর কাঠের  মেলবন্ধন। প্রবেশ করলেই প্রথমে লাগে এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ— মশলার গন্ধ, ধাতুর শব্দ, কার্পেটের নরম রং, আর বিক্রেতাদের ডাকে ছন্দ। কোনও বিক্রেতা হাসিমুখে ডাকেন, “মাই ফ্রেন্ড, জাস্ট হ্যাভ আ লুক!” আবার কেউ হাত নেড়ে আমন্ত্রণ জানান।

এখানে দর কষাকষি এক শিল্প। দোকানদাররা প্রত্যাশা করে আপনি দাম কমানোর চেষ্টা করবেন— এটা তাদের কাছে খেলার মতো। চা বা তুর্কিশ কফি খেতে খেতেই ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে এক মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই অভ্যেস শুধু কেনাকাটা নয়, এটা সংস্কৃতির অংশ। বর্তমানে প্রতি দিন গড়ে ২ থেকে ৪ লক্ষ মানুষ এই বাজারে আসেন। শুধু পর্যটক নয়, স্থানীয় ক্রেতারাও এখানেই আসেন দৈনন্দিন জিনিস কিনতে। আধুনিক ইস্তানবুলের উঁচু ভবন ও মলগুলির মাঝেও গ্র্যান্ড বাজার টিকে আছে নিজের ঐতিহ্যের জোরে, এক জীবন্ত ইতিহাস হিসেবে। ইস্তানবুলের গ্র্যান্ড বাজার শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এক শহরের আত্মা। এখানে এক দিকে রাজকীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া, অন্য দিকে সাধারণ মানুষের শ্রম আর কারুশিল্পের গর্ব। পাথরের গম্বুজের নীচে বয়ে চলা কথোপকথন, দর কষাকষি আর হাসির মধ্যে আজও টিকে আছে সেই পনেরো শতকের স্বপ্ন— এক বিশ্ববাজারের স্বপ্ন, যেখানে মানুষ পণ্য নয়, সংস্কৃতিও বিনিময় করে।

বাজারের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসার পরও কানে বাজছিল বিক্রেতাদের ডাক, চোখে ভাসছিল রঙিন আলো। বুঝেছিলাম, গ্র্যান্ড বাজার শুধু ইস্তানবুলের নয়, এ যেন সমগ্র মানব সভ্যতার এক জীবন্ত স্মৃতি, যেখানে বাণিজ্য, বন্ধুত্ব আর সৌন্দর্য একাকার হয়ে আছে।

স্পাইস ও ড্রাই ফ্রুটের দোকান

মিশর বাজার বা ইজিপশিয়ান মার্কেট

ইস্তানবুলের সুলতানাহমেত বা এমিনোনু এলাকায় হাঁটলে এক সময় হালকা গন্ধ নাকে এসে লাগে, দারচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, গোলমরিচ, জাফরান আর শুকনো গোলাপের পাপড়ির এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। সেই গন্ধই পথ দেখায় ইস্তানবুলের অন্যতম প্রাচীন ও রঙিন বাজারে, ইজিপশিয়ান স্পাইস বাজ়ার, তুর্কি ভাষায় যাকে বলা হয় ‘মিশর ছারসি’। এই বাজার যেন ইস্তানবুলের ঘ্রাণের ইতিহাস, যেখানে প্রতিটি দোকান, প্রতিটি কাচের বয়াম, প্রতিটি হাসিমুখী বিক্রেতা এক-একটা গল্প বলে যায়, মশলার সুবাসের সঙ্গে মিশে।

সতেরো শতকের মাঝামাঝি সময়ে, অটোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে এই বাজারটি নির্মিত হয়। সুলতান মেহমেদ চতুর্থ-এর মা তুরহান সুলতান ১৬৬০ সালে ইয়েনি মসজিদের পাশে বাজারটির নির্মাণের নির্দেশ দেন। বাজারের নাম ‘মিশর ছারসি’ বা ‘ইজিপশিয়ান বাজ়ার’ হওয়ার কারণও বড়ই মজার। বাজারের নির্মাণব্যয় বহন করা হয়েছিল মিশর থেকে সংগৃহীত করের অর্থে। তাই একে ইজিপশিয়ান বাজ়ার বলা হয়। অন্য দিকে, সেই সময়ে মিশর ছিল মশলা বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে আসা মশলা কায়রো হয়ে ইস্তানবুলে পৌঁছোত, এই বাণিজ্যিক সম্পর্কও নামটির পিছনে যুক্ত ছিল।

নানা ধরনের ইভিল আই, তুর্কি মার্কেটের বিশেষ আকর্ষণ

এই বাজারটি আকারে গ্র্যান্ড বাজারের তুলনায় ছোট হলেও তার সৌন্দর্য ও সুষমায় অনন্য। স্থাপত্যশৈলী সম্পূর্ণ ওসমানীয় ধাঁচে নির্মিত, একটি ইংরেজি ‘এল’ আকৃতির পাথরের দালান, যার উপরিভাগে আধচাঁদ আকৃতির জানলা ও গম্বুজ। ছাদের নীচে সারি সারি খিলান, প্রতিটি দোকানের সামনের অংশ উজ্জ্বল কাচ ও কাঠে মোড়া। এই বাজার স্থাপত্য, রং ও সুবাসে আচ্ছাদিত এক দালানের মতো, এখানে প্রতিটি দোকান যেন এক-একটা মশলার পৃথিবী। বাজারের মূল প্রবেশপথেই চোখে পড়ে, উজ্জ্বল লাল মরিচ, গাঢ় কমলা জাফরান, সবুজ পুদিনা, বাদামি দারচিনি আর রুপালি মশলার কৌটো। আলো ও রঙের খেলা এমনই যে, মনে হয় আপনি কোনও চিত্রশিল্পীর ক্যানভাসে হাঁটছেন। ইজিপশিয়ান স্পাইস বাজ়ার মূলত মশলার বাজার হলেও এর ভিতর লুকিয়ে আছে আরও অনেক রত্ন। এখানে পাওয়া যায় শতাধিক প্রকারের মশলা, মরিচ, জিরে, ধনে, এলাচ, দারচিনি, জাফরান, পাপরিকা, হলুদ, লবঙ্গ, রসুনের গুঁড়ো, শুকনো গোলাপের পাপড়ি, এমনকি বিরল কেশর। তবে শুধু মশলাই নয়, শুকনো ফল, বাদাম, তুর্কিশ ডিলাইট (লোকুম), মধু, অলিভ অয়েল, চা, আর নানা ভেষজ উপাদানও বিক্রি হয় এখানে। এক দোকানে দেখা যাবে তুর্কি কফির বীজ গুঁড়ো হচ্ছে, অন্য দোকানে বিক্রি হচ্ছে শুকনো ডুমুর ও এপ্রিকট। গন্ধে গন্ধে বাজারের ভিতর যেন মিশে গেছে পূর্ব আর পশ্চিমের বাণিজ্য ঐতিহ্য। এই বাজার ছিল পূর্ব-পশ্চিমের স‌ংযোগপথও, এক সময়কার অটোমান সাম্রাজ্যের বাণিজ্য-নেটওয়ার্কের হৃদয়। ভারতের মশলা, আরবের সুগন্ধি, পারস্যের শুকনো ফল, মিশরের জাফরান— সব কিছু এখানেই মিলত, এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ত ইউরোপে। শতাব্দর পর শতাব্দ ধরে ইস্তানবুল ছিল বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে মশলার বিনিময়ে সভ্যতা, ভাষা ও সংস্কৃতিও লেনদেন হয়েছে। এক জন দোকানদার হাসতে হাসতে বলে ওঠেন, “স্মেল দিস স্যাফ্রন, মাই ফ্রেন্ড, ইটস ফ্রম ইরান!”, আর-এক জন গর্ব করে জানান, “মাই ফ্যামিলি হ্যাস সোল্ড স্পাইসেস হিয়ার ফর টু হান্ড্রেড ইয়ার্স।”

মিশর বাজারের দরজা

বিক্রেতারা গল্প বলতে ভালবাসেন, কোন মশলা কোথা থেকে আসে, কী ভাবে ব্যবহার করতে হয়, এমনকি রান্নার টিপস পর্যন্ত দেন। এই মানবিক যোগাযোগই বাজারটিকে এত জীবন্ত করে রেখেছে। ইজিপশিয়ান বাজ়ারের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইস্তানবুলের অন্যতম সুন্দর স্থাপত্য Yeni Camii বা ‘নতুন মসজিদ’। এই মসজিদ ও বাজারের সম্পর্ক ঐতিহাসিক,  বাজারের আয়ের একাংশ এক সময় মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণেই ব্যবহৃত হত।

যে দিন প্রথম ইস্তানবুলের মিশর বাজারে ঢুকেছিলাম, বিকেল নামছে ধীরে ধীরে। গম্বুজের ফাঁক দিয়ে সোনালি আলো পড়ছে রঙিন মশলার উপর, যেন প্রতিটি বয়াম থেকে আলো আর গন্ধ একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। এক জন তরুণ বিক্রেতা এগিয়ে এসে হাসি মুখে বললেন, “টেস্ট আওয়ার রোজ় টি, ইটস ম্যাজিক!”

আমি চায়ের কাপে চুমুক দিলাম, আর সত্যিই মনে হল যেন ফুলের বাগানে বসে আছি। বাজারের ভিতর হাঁটতে হাঁটতে এক দোকানে দাঁড়ালাম, দেওয়ালে ঝুলছে পুরনো ছবি, যেখানে তাঁর দাদু দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে। তিনি গর্ব করে বললেন, “আমরা তিন প্রজন্ম ধরে এখানে আছি।” আমি তখন বুঝেছিলাম, এই বাজার কেবল মশলার নয়, এটি স্মৃতির, ঐতিহ্যের, এবং মানুষের গল্পের। বাইরে এসে যখন তাকালাম, বাজারের গম্বুজের নীচে আলো ধীরে ধীরে নিভছে, কিন্তু গন্ধ রয়ে গেল নাকে, মনে। সেই গন্ধ আজও মনে করিয়ে দেয়,  ইতিহাস কেবল বইয়ে নয়, অনেক সময় তা লুকিয়ে থাকে এক চিমটে জাফরানে, এক চুমুক চায়ে, এক হাসি মুখে বিক্রেতার ডাকে।