কোরআন ও হাদিসে হাসি মুখে কথা বলার গুরুত্ব

সুন্দর হাসি শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং সাদকারও একটি রূপ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও সাহাবিদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন এবং হাসি মুখে কথা বলতে উৎসাহিত করেছেন। ১. মহানবী ছিলেন....

সুন্দর হাসি শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং সাদকারও একটি রূপ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও সাহাবিদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন এবং হাসি মুখে কথা বলতে উৎসাহিত করেছেন।

১. মহানবী ছিলেন হাসিমুখের মানুষ

মহানবী (সা.) সবসময় প্রফুল্ল ও হাসিমুখে থাকতেন। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে হাজম (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহর চেয়ে বেশি হাসিমুখের কাউকে দেখিনি। (তিরমিজি)

 

২. সাহাবিদের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করতেন

জারির ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর থেকে মহানবী কখনো তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেননি। আর যখনই তার দিকে তাকাতেন, হাসিমুখে তাকাতেন। (মুসলিম)

৩. সম্পদের চেয়ে সুন্দর আচরণ গুরুত্বপূর্ণ

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, তোমরা সম্পদ দিয়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। তবে হাসিমুখ ও সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্ট করতে পারবে। (মুসনাদে আবু ইয়ালা)

 

৪. হাসিমুখে সাক্ষাৎও ভালো কাজ

আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করো না, তা যত ছোটই হোক। এমনকি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও একটি ভালো কাজ। (মুসলিম)

৫. হাসি সদকা

মহানবী (সা.)  বলেছেন, তোমার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসাও সদকা। (তিরমিজি)

অর্থাৎ, আল্লাহর পথে দান করতে অর্থ ব্যয় করতেই হবে এমন নয়। কারও সঙ্গে আন্তরিকভাবে হাসিমুখে কথা বলাও সদকার মর্যাদা পেতে পারে। তাই সামর্থ্য না থাকলেও একজন মুসলিম প্রতিদিন অন্যের সঙ্গে ভালো আচরণ ও হাসিমুখের মাধ্যমে সওয়াবের কাজ করতে পারেন।

 

কোরআনের বর্ণনায় হাসি মুখে কথা

পবিত্র কোরআনেও হাসি মুখে কথা বলার একটি সুন্দর উদাহরণ এসেছে। হজরত সুলাইমান (আ.) যখন পিঁপড়ার উপত্যকার কাছে পৌঁছালেন, তখন একটি পিঁপড়া অন্য পিঁপড়াদের বলল, তোমরা নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়ো, যাতে সুলাইমান ও তার বাহিনী অজান্তে তোমাদের পিষে না ফেলে।

পিঁপড়াটির কথা শুনে সুলাইমান (আ.) মুচকি হাসলেন এবং আল্লাহর কাছে তার অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফিক চাইলেন।